অবৈধ জবর দখলে নয়াবাজার পূর্ব সাতঘরিয়া পাড়া কবরস্থান : পরিদর্শনে ইউএনও

jomi.jpg

জিয়াউল হক জিয়া, হোয়াইক্যং |
টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের নয়াবাজার পূর্ব সাতঘরিয়া পাড়া জামে মসজিদ ও কবরস্থান পরিদর্শন করেছেন ইউএনও মোঃ শফিউল আলম। ১৯ অক্টোবর বুধবার দুপুরে তিনি সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোমেনা আক্তারসহ উক্ত স্থান পরিদর্শন করেন। কবরস্থানের জমি অবৈধ জবর দখল মুক্ত করতে মসজিদ কমিটির আবেদনের প্রেক্ষিতে ইউএনও’র এ পরিদর্শন বলে জানা গেছে। কবরস্থানের জমি অবৈধ জবর দখল মুক্ত করতে আগামী ২৪ অক্টোবর মসজিদ, কবরস্থান ও সংলগ্ন জমি পরিমাপ করা হবে বলে পরিদর্শন শেষে তিনি জানান।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পূর্ব সাতঘরিয়া পাড়া জামে মসজিদ ও কবরস্থানের জমি অবৈধ দখলমুক্ত করতে মসজিদ কমিটির সভাপতি ও মুতোয়াল্লী মাষ্টার আহমদ উল্লাহ ও এলাকার জনসাধারনের যৌথ স্বাক্ষরে জেলা প্রশাসক বরাবরে আবেদন করেন গত বছরের আগস্ট মাসে। উক্ত আবেদনের প্রেক্ষিতে একই বছর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় হতে টেকনাফে ইউএনও ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবরে তদন্ত পূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পত্র দেন। পরবর্তীতে ভূমির আংশিক পরিমাপ করে একটি প্রতিবেদন দাখিল করা হলে মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে পুনরায় আপিল করা হয়। উক্ত আপিলের প্রেক্ষিতে ইউএনও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আগামী ২৪ অক্টোবর পুনরায় সম্পূর্ন জমি পরিমাপের সিদ্ধান্ত দেন। ইউএনও’র এ সিদ্ধান্তে এলাকাবাসী ইউএনওসহ ভূমি প্রশাসনকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। অনুসন্ধানে জানা যায়, স্থানীয় হাজী ইউছুপ আলী ১৯৫৩ সনে মধ্যহ্নীলা মৌজার আর এস ৮৪৩ খতিয়ানের ৫২২২, ৫২৪১, ৫২৪২ ও ২ একর ২১ শতক জমি ক্রয় করে কবরস্থান ও মসজিদের জন্য ওয়াকফ করেন। যা পরবর্তীতে বিএস ৯৫৩৯, ৯৫৪০ হতে ৯৫৫৪ দাগে অন্তর্ভূক্ত হয়।
এদিকে স্থানীয় মৃত মৌলভী আবুল বশরের পুত্র শফিক আহমদ ও রাকিব আহমদসহ প্রভাবশালী ব্যক্তিরা কবরস্থানের জমিতে মৎস্য ঘের সহ বিভিন্ন স্থাপনা তৈরী করে জবর দখল করেছেন বলে অভিযোগ করেন মসজিদ কমিটি।
এছাড়া ইউনিয়নে পরিষদে উক্ত দখলদারদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করলে পরিষদ জমি পরিমাপ করে জবর দখলের সত্যতা পান এবং মসজিদের পক্ষে রায় দেন।
এদিকে এলাকাবাসী জানিয়েছেন কবরস্থান সংলগ্ন জমি দখল করে চিংড়ি ঘের করায় বর্ষাকালে পানি বন্দী হয়ে পড়ে কবরস্থানটিতে মৃতের কবরস্থ করাও দুস্কর হয়ে পড়ে।