উখিয়ায় বনবিভাগকে ম্যানেজ করে প্রভাবশালীর দালান নির্মান

unnamed-5.jpg

নিজস্ব প্রতিনিধি, উখিয়া :
কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার সর্বত্র বনবিভাগের জায়গা দখল করে দালান বাড়ীঘর ও মার্কেট নির্মানের প্রতিযোগিতা চলছে।স্থানীয় প্রভাবশালীরা প্রকাশ্যে বনভুমির জায়গায় দালান সহ মার্কেট নির্মান করে গেলেও বন বিভাগের রহস্যজনক ভূমিকা নিয়ে সচেতন মহলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।অনেকেই বলছেন, বনবিভাগকে ম্যানেজ করেই প্রভাবশালীরা বনভূমির জায়গায় দালান নির্মানের প্রতিযোগীতা চালাচ্ছেন।
সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, উখিয়া রেঞ্জের আওতাধীন সদর বনবিটের অধীনে সংরক্ষিত বিশাল বনাঞ্চল সংঘবদ্ধ প্রভাবশালী ভূমিদস্যুরা জবরদখল করে নিয়েছে। সদর বিটের মাছকারিয়া সংলগ্ন মোঃ আলীর ভিটা নামক এলাকার জাফর আলমের ছেলে নজির আহামদ সরকারী বনবিভাগের জায়গায় প্রকাশ্যে বিশাল পাকা বাউন্ডারী নির্মান করছে। ভেতরে নির্মান করা হচ্ছে বহুতল বাড়ী। কিন্তু বনবিভাগ এ ব্যাপারে রহস্যজনকভাাবে নিরব। এক সময়ের মাছ ব্যবসায়ী নজির আহামদ হঠাৎ গাড়ী বাড়ীর মালিক হওয়াকে এলাকাবাসী সন্দেহের চোখে দেখছেন। সম্প্রতি তিনি ঢাকামেট্টো-চ-৫১-৭৭৩১ নাম্বারের একটি ভক্সি গাড়ী কিনেছেন। তাছাড়া নজির আহামদের জামাই টেকনাফের হ্নীলার ইমরান স্বরাষ্টমন্ত্রনালয়ের তালিকায় ২৫ নাম্বার স্থানে থাকা ইয়াবা ব্যবসায়ী। ইমরানের বিরুদ্ধে একাধিক মামলাও রয়েছে। তাই জামাইর গরমে স্থানীয় প্রভাব দেখিয়ে বনবিভাগের জায়গা জবরদখল করে বহুতল দালান নির্মাণ করে গেলেও কেউ প্রতিবাদ করছেনা। স্থানীয় সচেতন জনগণ জানান, বন বিভাগকে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে ম্যানেজ করে প্রকাশ্যে সরকারি জায়গার উপর অবৈধ স্থাপনা বা বহুতল দালান নির্মাণ করেছেন তিনি। শুধু নজির আহামদ নয়, উখিয়া সদর বিটের প্রায় সর্বত্র বনবিভাগের জায়গা দখল করে নির্মান করা হচ্ছে স্থায়ী স্থাপনা। বিশেষ করে পাতাবাড়ি বড়–য়াপাড়া, উখিয়া কলেজ সংলগ্ন এলাকায় এ প্রবনতা একটু বেশী। মোঃ আলী ভিটায় বনবিভাগের জায়গায় দালান নির্মানের ব্যাপারে জানতে চাইলে উখিয়া সদর বিটের অতিরিক্ত দ্বায়িত্বে থাকা বিট কর্মকর্তা আবদুল মান্নান জানান, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আছেন, নজির আহামদকে দালান নির্মান বন্ধ রাখার জন্য বলা হয়েছে, কিন্তু রাতের আধারে সে দালান নির্মান চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানতে পেরেছি।তার বিরুদ্ধে বন আইনে মামলা সহ দালানটি উচ্ছেদের প্রক্রিয়া চলছে। কিন্তু জনবল সহ স্থানীয় প্রশাসনের কোন সহযোগিতা না পাওয়ায় তা করা যাচ্ছেনা। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উখিয়া বনবিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম বলেন, সরকারি বনভূমি জবর দখল ও অবৈধ স্থাপনা তৈরি যত বড় ক্ষমতা ধর ব্যক্তি হোক না কেন উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে তা গুটিয়ে দেওয়া হবে। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সে কোন মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।