জামায়াত নেতার কান্ড : টেকনাফের লেদায় পরিবেশ আইন অমান্য করে পাহাড়ী খালে অবৈধ বাঁধ নির্মাণ : সংশ্লিষ্ট প্রশাসন নিরব

today-caraÑ3.jpg

জামাল উদ্দিন, টেকনাফ |
টেকনাফের হ্নীলার লেদা পাহাড়ী খালে পরিবেশ আইন লংঘন করে পাহাড়ী বনভূমি নষ্ট করে জামায়াত নেতা মৌলভী জামাল হোছাইন বাঁধ নির্মাণ করে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এনজিওদের পানি বিক্রির অভিযোগ উঠেছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগে জানা যায়-টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নে লেদার একমাত্র পাহাড়ী ছরা বা খালে স্থানীয় জামায়াত নেতা মৌলভী জামাল হোছাইন অবৈধভাবে চার চারটি বাঁধ নির্মাণ করে পানি চলাচলে বিঘœ সৃষ্টি করে গেলেও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন দেখেও দেখছে না।
তথ্যানুসন্ধান ও খোঁজ নিয়ে জানা গেছেÑ উক্ত জামায়াত নেতা মৌলভী জামাল হোছাইন লেদা পাহাড়ী ছরা বা খালে মাইদ্দার ঝিরি, জুম্মা ঝিরি, সাইক্কার ঝিরি ও আমতলী এলাকায় সংশ্লিষ্ট বিট কর্মকর্তাকে মোটা অংকের টাকায় ম্যানেজ করে ৪টি অবৈধ বাঁধ নির্মাণ করে নিজের ঠিকাদারী টিকিয়ে রাখতে লেদা অনিবন্ধিত রোহিঙ্গা ক্যাম্পে টাকার বিনিময়ে পানি সরবরাহ দেওয়ার কাজ প্রায় পাকাপোক্ত করেই চলেছে। বাঁধ নির্মাণ করে পানি বিক্রির কারণে রবি মৌসুমে এলাকার শত শত কৃষকদের চাষাবাদ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি যথাসময়ে পানি চলাচলে বিঘœ সৃষ্টি করছে। সংশ্লিষ্ট এলাকাবাসীর অভিযোগে আরো জানা গেছেÑ বর্তমান আওয়ামীলীগ সরকার দেশে জামায়াত শিবিরের কার্যক্রম বন্ধ করে দিতে প্রচেষ্টা চালিয়ে আসলেও এক শ্রেণীর সরকারী কর্মকর্তা নামধারী বিট কর্মকর্তার যোগসাজশে এসব বাঁধ নির্মাণ করে কতিপয় মুনাফা লোভীরা লক্ষ লক্ষ টাকা ফায়দা লুটছে। অথচ সরকারের সংশ্লিষ্ট বিট কর্মকর্তা নিরবে, নিবৃত্তে তা সহ্য করে যাওয়ার হেতু কি? এ নিয়ে এলাকাবাসীর মনে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কার্যক্রম প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে। উক্ত জামায়াত নেতা মৌলভী জামাল হোছাইনের নতৃত্বে আইয়ুব আলী ও বার্মাইয়া ছালেহ আহমদ প্রতিদিন শত শত রোহিঙ্গা শ্রমিক দিয়ে বনভূমির মাটি কেটে এসব বাঁধ নির্মাণ করছে বলে জানা গেছে। এ ব্যাপারে অভিযুক্ত জামায়াত নেতা মৌলভী জামাল হোছাইন বলেন- আমি কেন পাহাড়ী খাল বা ছরা বন্ধ করব। এলাকার লোকজন চাষাবাদ করার জন্য সবাই মিলে এ বাঁধ নির্মাণ করছে। এ ব্যাপারে লেদা বন বিটের কর্মকর্তার (০১৮৫৮৮৬০৮৫৯) নাম্বারের মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে সে সাংবাদিকদের নাম বলতে অনিহা প্রকাশ করলেও জামায়াত নেতা মৌলভী জামাল হোছাইনের পাহাড়ী ছরা বা খালে বাঁধ নির্মাণের বিষয়টি তাকে জানানো হয়েছে। তবে সে এখনও কিভাবে বাঁধ নির্মাণ করছে তা ঐ এলাকায় গিয়ে দেখেনি বলে জানান। বিষয়টি খতিয়ে দেখে অভিযুক্তদের ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।