সামাজিক বাগানের অংশিদার না করায় টেকনাফের বাহারছড়া দক্ষিন শিলখালী উপজাতী চাকমাদের ক্ষোভ

ovijog-tt_20-1.jpg

জিয়াউল হক জিয়া, হোয়াইক্যং |
টাকা দিলে বাগানের অংশিদার হবে,না হয় অন্য উপকারভোগী দিয়ে দলিলে নাম চুড়ান্ত করব। টেকনাফের বাহার ছড়া শিল খালী বিট অফিসারের এমন উক্তির প্রতিবাদে ক্ষোভের দানা বেঁধেছে দক্ষিন শিলখালী উপজাতী চাকমাদের মাঝে। জানা যায়, টেকনাফের বাহার ছড়া শিল খালী রেঞ্জ অফিসের আওতায় ২০১১-২০১২ সালে সামাজিক বাগানের জন্য দক্ষিন শিলখালী উপজাতি চাকমাদের সাথে বৈঠকে বসে শিল খালী রেঞ্জ ও বিট অফিসের তৎকালিন অফিসাররা। বৈঠক শেষে দক্ষিন শিলখালী চাকমা পাড়ার পূর্বদিকে পাহাড়ের প্রায় ৫০ একর জায়গার ঝোপ জঙ্গল বাঁশ বাগান ও গাছ বাগানের জন্য পরিস্কার করে চাকমারা। এর পর উক্ত জায়গায় বনায়নের জন্য নার্সারী করতে চাকমা পরিবার ২০.৩০ হাজার টাকা খরচ করে নার্সারী সম্পন্ন করে। এর পর ২০ হেক্টর ২০ হেক্টর মোট ৪০ হেক্টর জমিতে আলাদা ২টি বনায়ন করে বন বিভাগ। বর্তমানে উক্ত সৃজিত বনায়নের বয়স প্রায় ৫ বছর। উপকার ভোগীদের মাঝে এখনো দলিল আসেনি। তবে সুচতুর শিল খালী বিট অফিসের কর্মকর্তারা যাদের পরিশ্রম ও ত্যাগে বনায়ন করা হয়েছে তাদের কে বাদ দিয়ে ২০১২-২০১৩ সনের সৃজিত ২০ হেক্টর বাগানে ৫০ জনের নাম চুড়ান্ত করে একটি তালিকা করে। এতে ৫০জনের মধ্যে চাকমা উপজাতিদের নাম দেয়া হয় ২০ জনের। বাদ দেয়া হয়েছে আরো ৩০জনের নাম। অপরদিকে বাঁশ বাগানে ও বেশির ভাগ চাকমাদের বাদ দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে দক্ষিন শিলখালী চাকমা পল্লির উপজাতিরা। চাকমাদের দাবী প্রায় ৫০/৬০ জন চাকমা পরিবার অনেক পরিশ্রম করে গাছ ও বাশঁ বাগান তথা আলাদা দুটি বাগান সৃজন করলেও তাদের মতে একটি তে ২০ জন অপরটি তে ১২ জন চাকমার নাম রয়েছে। ২টি বাগানই আমাদের চাকমা পল্লির অতি নিকটে বিধায় বেশির ভাগ আমাদের চাকমা উপকারভোগী থাকার কথা থাকলেও রহস্যজনক কারণে মোটা টাকার বিনিময়ে সাবেক শিলখালীর বিট কর্মকর্তা বর্তমান হোয়াইক্যং বিট অফিসার ওমর আলী গাজীও শিলখালী বিটের বর্তমান ইন্চার্জ মামুন কর্তৃক আমাদের বাদ দেয়া হয়। বর্তমানে শিলখালী বিটের বর্তমান ইন্চার্জ মামুন চাকমাদের থেকে আরো টাকা দাবী করছে। জনপ্রতি ৩ হাজার টাকা না দিলে দলিলে অন্য নাম ঢুকিয়ে দেব বলে ধমক দেয়। অপরদিকে যে বাগানে চাকমা পরিবারের তালিকা বা দখল রয়েছে উক্ত ভিলেজারী জায়গায় জনৈক আবুল কাশেম প্রকাশ মগ কাশেম দিন দিন পাহাড়ী জমি কেটে ধানী জমি করে জবর দখল করছে। তার জবর দখল কাজে কেউ বাধা দিলে তার সাঙ্গপাঙ্গ রা মারতে আসে চাকমাদের। উক্ত মগ কাশেম স্থানিয় মেম্বার, চেয়ারম্যানদের ও তোয়াক্কা করেনা বলে চাকমাদের অভিযোগ। বিষয়টি অস্বীকার করেছে মগ কাশেম। এদিকে চাকমা পরিবার থেকে টাকা নেয়ার ব্যাপারে সাবেক শিলখালীর বিট কর্মকর্তা ও শিলখালী বিটের বর্তমান ইন্চার্জ মামুন এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তাদের কে কর্মস্থলে পাওয়া যায়নি। অপরদিকে চাকমা পল্লির সকলে এক বাক্যে টাকা ও শ্রম দেয়ার পর ও উপকারভোগীর তালিকা থেকে বাদ দেয়ায় ওমর আলী গাজীও শিলখালী বিটের বর্তমান ইন্চার্জ মামুন এর শাস্তি দাবী করে চাকমা উপকারভোগীদের তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করতে বিভাগীয় বন কর্মকর্তার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।