টেকনাফ মলকাবানু ও রিয়াদুল জান্নাহ সহ ভিডিও কনফারেন্সে ১৫৩টি আশ্রয়কেন্দ্র উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

14642712_914481552030041_299364249_n-copy.jpg

সচেতন থাকলে যেকোনো দুর্যোগ মোকাবেলা সম্ভব
টেকনাফ টুডে ডেস্ক |

ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দেশের উপকূলীয় জেলাগুলোর জন্য ১৫৩টি আশ্রয়কেন্দ্র উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস-২০১৬ উপলক্ষে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

এতে প্রধান অতিথির বক্তব্যের পূর্বে প্রধানমন্ত্রী ওই আশ্রয় কেন্দ্রগুলোর উদ্বোধন করেন।

এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বক্তব্যে বলেন, দুর্যোগ মোকাবেলায় বাংলাদেশ আজ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মডেল। তবে আমরা যদি আরও সচেতন ও সজাগ থাকি তাহলে দেশের যেকোনো দুর্যোগ মোকাবেলা সম্ভব।

তিনি বলেন, দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে অনেক সময় দেখা যায় দুর্যোগের পূর্বাভাস দিয়ে উপদ্রুত এলাকার লোকজনকে দ্রুত সরে যেতে বলা হয়। তাদের নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে যেতে মাইকিং করা হয়।

এমনকি তাদের সরিয়ে নেয়ার জন্য প্রশাসন, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনীর সদস্যদের কাজে লাগানো হয়। কিন্তু তারা যেতে চান না। তাদের জোর করে ধরে নিয়ে যেতে হয়। এতে ক্ষয়ক্ষতির সঙ্গে প্রাণহানির আশংকা বেড়ে যায় বা প্রাণহানির সংখ্যা বাড়ে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রত্যেক শেল্টার সেন্টারের সঙ্গে একটি করে স্টোর রুম থাকবে। যাতে করে অফিস-আদালতের কাগজপত্র সংরক্ষণ করা যায়। এছাড়া গবাদি পশুর জন্য আলাদা ব্যবস্থা থাকবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের ভৌগলিক অবস্থানের কারণে বিভিন্ন ধরনের দুর্যোগ মোকাবেলা করেই এদেশের মানুষকে টিকে থাকতে হয়। কখনো কখনো মানুষের সৃষ্টি করা দুর্যোগও মোকাবেলা করতে হয়।

শেখ হাসিনা বিগত ৯৮ সালে তার সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন ভয়াবহ বন্যার কথা উল্লেখ করে বলেন, আপনারা জানেন ওই বন্যায় ৬৯ দিন দেশ পানির নিচে তলিয়ে ছিল। আন্তর্জাতিক নামকরা গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছিল বাংলাদেশে ২ কোটি লোকের প্রাণহানির শংকা রয়েছে। কিন্তু আমরা তা হতে দেইনি। দ্রুত মানুষের আশ্রয় ও খাদ্যের ব্যবস্থা করেছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওই সময় তার সরকারের পাশপাশি আওয়ামী লীগের দলীয় নেতাকর্মীরা সারা দেশে স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী গড়ে তুলেছে। বন্যা দুর্গত এলাকায় বিশুদ্ধ খাবার পানি ও খাদ্য বিতরণ করেছে।

তিনি বলেন, আমরা ওই সময় হেলিকপ্টারে ও নৌকায় করে শুকনা খাবার, রুটি পানি মানুষের দ্বারে দ্বারে পৌছে দিয়েছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষ সচেতন থাকলে যেকোনো দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতির সঙ্গে প্রাণহানির শংকা কম থাকে।

তিনি উপকূলীয় অঞ্চলসহ দেশের সব অঞ্চলের মানুষকে বেশি করে গাছ লাগিয়ে সবুজ বেষ্টনি তৈরির আহ্বান জানান।

এসময় রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্পের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রামপালের পরিবেশ ঠিক রাখতে সেখানে ৫ লাখ গাছ লাগিয়ে সবুজ বেষ্টনি তৈরি করা হবে।