চকরিয়ায় অস্ত্রসহ চিংড়ি প্রকল্প থেকে মালিক ও কর্মচারীসহ তিনজন গ্রেপ্তার

88-1.jpg

গভীর রাতেই চিংড়ি প্রকল্পের ভেতর অস্ত্র ফেলে রেখে পুলিশের খবর দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগ!

এম.জিয়াবুল হক,চকরিয়া |
কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার পশ্চিম বড়ভেওলা ইউনিয়নের দরবেশকাটা এলাকার চিংড়ি প্রকল্প থেকে দেশে তৈরী পাঁচটি অস্ত্র ও ২৬ রাউন্ড গুলিসহ চিংড়ি প্রকল্পের মালিক ও দুই কর্মচারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত অস্ত্রের মধ্যে একটি লাইসেন্সধারী অস্ত্রও রয়েছে। শুক্রবার সকালে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাহেদুল ইসলামের নেতৃত্বে চকরিয়া থানা ও বদরখালী নৌ-পুলিশের সদস্যরা মাতামুহুরী নদীতে কারেন্ট জাল আটক অভিযান শেষ করে ফেরার পথে ওই চিংড়ি প্রকল্প থেকে এসব উদ্ধার করেন।
আটককৃতরা হলেন, চিংড়ি প্রকল্পের মালিক চকরিয়া উপজেলার পশ্চিম বড়ভেওলার ইউনিয়নের দরবেশকাটা গ্রামের মৃত ফজল করিমের ছেলে আনিসুল মোস্তফা (৫৫), কর্মচারী একই এলাকার আজিজুল হকের ছেলে আবু ওবায়েদ (২৮) ও মহেশখালী উপজেলার কালামাছড়া ইউনিয়নের নয়াপাড়ার গ্রামের মৃত সালেহ আহমদের ছেলে গিয়াস উদ্দিন (৪৪)।
চকরিয়া নৌ-পুলিশ ফাড়ির আইসি এসআই মো: ইসমাইল হোসেন জানান, পশ্চিম বড়ভেওলা ইউনিয়নের লম্বাখালী এলাকার চিংড়ি প্রকল্পে অস্ত্রধারীরা জড়ো হওয়ার খবর পেয়ে বিষয়টি চকরিয়া থানা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাহেদুল ইসলামের নেতৃত্বে শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে চকরিয়া থানা পুলিশ ও বদরখালীর নৌপুলিশ অভিযান চালিয়ে লম্বাখালীস্থ একটি চিংড়ি প্রকল্প থেকে দেশীয় তৈরী একটি পিস্তল, দুটি কাটা বন্দুক, দুটি লম্বা বন্দুক, ২৬ রাউন্ড গুলি, একটি রামদা, একটি চুরি, একটি গুলির বেল্ট, ৪টি মোবাইল সেট উদ্ধার করা হয়েছে। ওইসময় আটক করা হয় তিনজনকে।
চিংড়ি প্রকল্পটির মালিক পক্ষের অংশিদার পশ্চিম বড়ভেওলা ইউনিয়নের দরবেশকাটা এলাকার বাসিন্দা ও বাংলাদেশ লবণ চাষী সমিতির সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বলেন, তাদের চিংড়ি প্রকল্পটি ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি নিয়ে গঠিত। চিংড়ি প্রকল্পটি নিয়ে কারো সাথে কোন ধরণের বিরোধ নেই। তিনি বলেন, প্রতিনিয়ত অস্ত্রধারী দৃর্বৃত্তরা হানা দিয়ে মাছ ও মালামাল লুট করার কারনে তাঁরা সরকারিভাবে লাইসেন্সধারী বন্দুক নিয়ে চিংড়ি প্রকল্পটিতে পাহারা দিত। সেখানে অবৈধ অস্ত্র রাখার প্রশ্নেই আসেনা। পুলিশ অভিযান চালিয়ে লাইসেন্সধারী একটি অস্ত্র উদ্ধার করেন। ওইসময় তার ভাই আনিসুল মোস্তাফাকে চিংড়ি প্রকল্পের খামার বাড়ি থেকে ঘুমন্ত অবস্থায় এবং দুই কর্মচারীকে কাজ করার সময় আটক করেন। তবে উদ্ধার করা অবশিষ্ট অস্ত্র গুলো তাদের চিংড়ি প্রকল্পের অনেক বাইর এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
চিংড়ি প্রকল্পটির অংশিদার শহিদুল ইসলাম দাবি করেন, তার ভাই আনিসুল মোস্তাফা কিছুদিন আগে ইউপি নির্বাচনে মেম্বার পদে নির্বাচন করেন। এ কারনে এলাকার একজন মেম্বারের সাথে নির্বাচন সংক্রান্ত বিরোধ রয়েছে। তাঁর ধারনা, নির্বাচনের ওই বিরোধকে কেন্দ্র করে ওই প্রার্থী আগেরদিন বৃহস্পতিবার গভীর রাতে তাদের চিংড়ি প্রকল্পে এসব অবৈধ অস্ত্র ফেলে রেখে বদরখালী নৌ-পুলিশের কাছে খবর দিয়ে অভিযানের নামে তার ভাই ও কর্মচারীদেরকে ফাসানোর জন্য অপচেষ্টা করেছে। তিনি এ ঘটনায় প্রশাসনের কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি করেছেন।
চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সাহেদুল বলেন, উপজেলার চিংড়িজোনে অস্ত্রবাজির কারনে দখল-বেদখল ও লুটপাটের ঘটনা বেড়েছে। এ কারণে বদরখালী নৌপুলিশ ফাঁড়িকে ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য বলা হয়। তিনি বলেন, শুক্রবার একটি মৎস্য প্রকল্পে অস্ত্রের সন্ধান আছে পুলিশ খবর দিলে সেখানে অভিযান চালানো হয়। এরপর পাঁচটি অস্ত্রসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.জহিরুল ইসলাম খান বলেন, অভিযানের সময় উদ্ধারকৃত অস্ত্র সমুহ ও গ্রেফতারকৃত তিনজনক থানা হেফাজতে রয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ বাদি হয়ে থানায় অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।