কউক’র তিন সদস্যের সংক্ষিপ্ত জীবনি

Pic-Eng.-B-Alam_kok.jpg

বিশেষ প্রতিবেদক ॥
কক্সবাজারের উন্নয়নে বর্তমান সরকার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প গ্রহণ করেছেন। বর্তমানে যার বাস্তবায়ন চলছে। কক্সবাজার জেলার প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সু-নজরের কারণে দেশের বৃহৎ প্রকল্পগুলোর জন্য কক্সবাজারকে বেছে নেয়া হয়েছে। চলতি বছর তার অংশ হিসেবে জাতীয় সংসদে পাশ করা হয় কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন-২০১৬। ওই আইনে কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব পালনের জন্য একজন চেয়ারম্যানসহ তিন জন বেসরকারী সদস্য (একজন নারী)’র বিষয় উল্লেখ করা হয়। গত ১৭ আগস্ট কর্তৃপক্ষের প্রথম চেয়ারম্যান হিসেবে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশার্রফ হোসেনের কাছ থেকে দায়িত্ব গ্রহণ করেন লে.কর্নেল (অব.) ফোরকান আহমদ। এরপর থেকে জেলাব্যাপী আলোচনা আসে কারা হচ্ছেন কউক’র বেসরকারি সদস্য। গত ১০ অক্টোবর সেই আলোচনার অবসান ঘটে। কউক’র বেসরকারি সদস্য হিসেবে নিয়োগ পান একজন চিকিৎসক, একজন প্রকৌশলী এবং একজন আইনজীবী। নব-নিয়োগপ্রাপ্ত ডাক্তার সাইফুদ্দিন ফরাজী, ইঞ্জিনিয়ার বদিউল আলম এবং অ্যাডভোকেট প্রতিভাদাশের সংক্ষিপ্ত জীবনি নীচে দেয়া হলো।

ডা. সাইফুদ্দিন ফরাজী
ডা. মুহম্মদ সাইফুদ্দিন ফরাজী ১৯৫৮ সালের ১৬ ডিসেম্বর কক্সবাজার সদও উপজেলার তৎকালীন বৃহত্তর ঈদগাঁও ইউনিয়নের সম্ভ্রান্ত মুসলিম ফরাজী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৭৩ সালে ঈদগাঁও আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এস.এস.সি এবং ১৯৭৬ খ্রিস্টাব্দে চট্টগ্রাম কলেজ থেকে এইচ.এস.সি পরীক্ষায় সম্মানের সাথে উত্তীর্ণ হয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে ভর্তি হন। সেখান থেকেই এম.বি.বি.এস ডিগ্রি লাভ করেন। পেশায় একজন দক্ষ চিকিৎসক হিসেবে সুনাম অর্জনকারী ডা. সাইফুদ্দিন ফরাজী ছাত্র জীবন থেকেই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে উজ্জীবিত। তিনি ১৯৭১-৭২ সালে ছাত্রলীগের প্যানেল থেকে ঈদগাঁও আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের ভিপি নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে মেডিকেল কলেজে অধ্যয়নকালীন সময় কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এবং চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন। বর্তমানে তিনি বিএমএ কক্সবাজার শাখার সাধারণ সম্পাদক। এ ছাড়া মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী চিকিৎসকদের সংগঠন স্বাচিপ (স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ)’র প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির আজীবন সদস্য। ছাত্রজীবন থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর আদর্শের এই সৈনিকের প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বেও প্রতি রয়েছে অবিচল আস্থা। দেশের পঞ্চম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ হিসেবে আবির্ভূত কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কউক)’র সদস্য হিসেবে গত ১০ অক্টোবর নিয়োগপ্রাপ্তি সেই আস্থার পুরস্কার বলে মনে করেন তিনি।

ইঞ্জিনিয়ার বদিউল আলম
ইঞ্জিনিয়ার বদিউল আলম এর জন্ম: ১৮ মার্চ, ১৯৬২ সাল, গ্রাম: পালাকাটা, ইউনিয়ন- জালালাবাদ, কক্সবাজার। পিতা- মৌলানা ক্বারী সুলতান আহমদ, মাতা- আছিয়া খাতুন, তিনি প্রাথমিক শিক্ষা মাইজপাড়া সরকারি প্রাইমারি স্কুল। এস.এস.সি-১৯৭৮সাল, অধ্যয়ন করেন বরইতলী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে ও ঈদগাহ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে। এইচ.এস.সি-১৯৮০ সাল, অধ্যয়ন করেন কক্সবাজার সরকারি কলেজ ও চট্টগ্রামস্থ স্যার আশুতোষ সরকারি কলেজে। এরপর ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বুয়েটে। ১৯৮১ সালে রুশ-বাংলাদেশ মৈত্রী সমিতির বৃত্তি নিয়ে রাশিয়ার বিখ্যাত রাশান পিপল্স ফ্রেন্ডশীপ ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হন। সেখান থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং এ ১৯৮৬ সালে বি.এস.সি. এবং ১৯৮৭ সালে এম.এস.সি. ডিগ্রী লাভ করেন। পরবর্তীতে ২০১১ সালে আমেরিকার সিটি ইউনির্ভাসিটি অব নিউইয়র্ক থেকে কনস্ট্রাকশন ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে মাস্টার্স ডিগ্রী অর্জন করেন। শিক্ষাজীবনে দেশে ও বিদেশে অংশগ্রহণ করা প্রতিটি পরীক্ষায় তিনি ১ম শ্রেণি অর্জন করেন।
এ ছাড়া বিদেশে পেশাগত বিষয়ে বেশ বিভিন্ন ট্রেনিং ও সেমিনারে অংশ নেন। একসময় নিউইয়র্কে বিখ্যাত পেরকান কংক্রিট কর্পোরেশনে প্রজেক্ট ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। স্বদেশে অবস্থানকালীন এশিয়া উন্নয়ন ব্যাংক, আমেরিকান সাহায্য সংস্থা, জাতিসংঘ, রেডক্রস এবং সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থার প্রকল্পের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। কক্সবাজারে সর্বপ্রথম রেজিষ্ট্রার ইঞ্জিনিয়ারিং কনসালটিং ফার্ম বিল্ডিং প্ল্য¬ানার্সের প্রতিষ্ঠাতা ও কর্ণধার। মূলতঃ তিনি বহুমুখী প্রতিভাধর আধুনিক নগর পরিকল্পনা বিশেষজ্ঞ। কক্সবাজার জেলার শহরে-গ্রামে দেশি ও বিদেশি অর্থায়নে নির্মিত অসংখ্য শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মন্দির ও ক্যাং নির্মাণ পরিকল্পনা প্রকৌশলী। পর্যটন নগরী কক্সবাজার জেলার অধিকাংশ অভিজাতও অনিন্দ্য সুন্দর সুপরিকল্পিত দালান এবং অবকাঠামো তাঁর নান্দনিক সৃষ্টি কর্মের বহি:প্রকাশ।
ইঞ্জিনিয়ারিং এর পাশাপাশি শিক্ষা, সমাজ সেবা, সাহিত্যচর্চা, সংস্কৃতি চর্চা, অসাম্প্রদায়িক ও প্রগতিশীল চিন্তা-চেতনায় স্বদেশ প্রেমে উদ্বেলিত রাজনীতিক ব্যক্তিত্ব। ছিলেন রোটারি ক্লাব অব কক্সবাজার সৈকতের ২০০৪-২০০৫ সেশনের সভাপতি । বর্তমানে কক্সবাজার জেলা আওয়ামীলীগের একজন দায়িত্বশীল নেতা। তিনি কক্সবাজার হেমন্তিকা সাংস্কৃতিক গোষ্ঠীর প্রধান উপদেষ্টা, কক্সবাজার সাহিত্য একাডেমী ও রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির আজীবন সদস্য, কক্সাবাজার সঙ্গীতায়নের সহ-সভাপতি এবং ঈদগাঁহ পৌরসভা বাস্তবায়ন কমিটির প্রধান উপদেষ্টা এবং ঈদগাঁহ বঙ্গবন্ধু ষ্টেডিয়াম বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি এবং কক্সবাজার সিটি কলেজের পরিচালনা কমিটির সদস্য। এতদ্বব্যতিত পেশাজীবি প্রতিষ্টান বাংলাদেশ ইঞ্জিনিয়ার্স ইনষ্টিটিউশনের সম্মানিত ফেলো, আমেরিকান সোসাইটি অব সিভিল ইঞ্জিনিয়ার্সের সদস্য এবং সম্পাদক,ইঞ্জিনিয়ার্স ইনষ্টিটিউশন বাংলাদেশ, কক্সবাজার কে›ত্র। তিনি জাতীয় ও স্থানীয় বিভিন্ন বাংলা ও ইংরেজি পত্রিকায় লিখে থাকেন। কক্সবাজার থেকে প্রকাশিত অনলাইন পত্রিকা ‘কক্সবাজার খবর’ এর সম্পাদক। তিনি বাংলা ইংরেজীর মতো রুশ ভাষাতেও পড়া, লেখা ও কথা বলায় দক্ষ। তদুপরি উর্দু, হিন্দি, আরবী ও স্প্যানিশ ভাষায় সংলাপে সক্ষম। পেশাগত ও শিক্ষাগত কারণে তিনি এই পর্যন্ত রাশিয়া, জার্মানি, ইংল্যান্ড, আমেরিকাসহ পৃথিবীর ২২ দেশ ভ্রমণ করেছেন। গত ১০ অক্টোবর কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কউক)’র সদস্য হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে সাফল্যের খাতায় যোগ করলেন আরো একটি নতুন পালক।
অ্যাড. প্রতিভা দাশ
জন্ম চট্টগ্রামে হলেও ২০০১ সালে কক্সবাজার শহরের বাসিন্দা কনক শর্মার বাপ্পীর সঙ্গে পরিণয় সূত্রে অ্যাডভোকেট প্রতিভা দাশ এই জেলার স্থায়ী বাসিন্দা। ১৯৯২ সালে চট্টগ্রাম অপর্ণা চরণ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এস.এস.সি এবং ১৯৯৪ সালে চট্টগ্রাম কলেজ থেকে এইচ.এস.সি পাশের পর ভর্তি হন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে। সেখানে থেকে এল.এল.বি (অনার্স) এবং এল.এল.এম সম্পন্ন করেন। ২০০২ সালে কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতিতে যোগদান করেন। এরপর থেকেই পুরোদস্তুর আইনজীবী। বর্তমানে তিনি কক্সবাজার জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের এবং জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের আইন বিষয়ক সম্পাদক। পাশাপাশি কক্সবাজার কমিউনিটি পুলিশের কোষাধ্যক্ষ এবং জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। গত ১০ অক্টোবর কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সংরক্ষিত (নারী) সদস্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন এই নারী আইনজীবী।