উখিয়ার বালুখালীতে চোরের হামলায় রক্তাক্ত হতদরিদ্র ১ ব্যক্তি

Hamla.jpg

নিজস্ব প্রতিবেদক, উখিয়া :
উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের বালুখালী কাস্টমস স্টেশনে চোরের হামলায় মোহাম্মদুল হক (৩৮)নামের হতদরিদ্র এক ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়েছে। আহত মোহাম্মদুল হক. উখিয়ারঘাটের মোহাম্মদ শফির পুত্র বলে জানা গেছে। গত ১০ অক্টোবর দিবাগত রাত ১১ টার সময় যাত্রী ছাউনী সংলগ্ন এঘটনা ঘটায় ঘাঁটির বিলের জমির উদ্দিনের পুত্র পেশাদার চোর আলাউদ্দিন। আহত মোহাম্মদুল হক জানান রাত ১১ টার সময় কাস্টমস চেকপোস্টের দায়ীত্বরত পাহারাদার নুরুলহকের সাথে দেখা করে বাড়ি ফেরার পথে যাত্রী ছাউনীতে বসে মদপান করছিলেন পেশাদার চোর আলাউদ্দিন। ওই সময় তার সাথে আবদুর রহমান নামের ঘুমধুমের আরো এক যুবক ছিল। অন্ধকারে বসে কি যেন চুপিচুপি কথা বলছিল। ওই সময় মোহাম্মদুল হকের র্টচলাইটের আলো চোরের গাঁয়ে পড়ার অপরাধে হতদরিদ্র মোহাম্মদুল হককে লোহার রড ও কাঠের লাটি দিয়ে বেধড়ক মারধর করে আলাউদ্দিন। এতে মোহাম্মদুল হকের শরীরের বিভিন্ন অংশে রক্তাক্ত ফোলা জখম হয়। অর্থের অভাবে দিনমজুর হতদরিদ্র মোহাম্মদুল হক চিকিৎসা করতে পারছেন না। পরদিন স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা সেরে চোরের
বাবা জমির উদ্দিনের নিকট বোঝালে উল্টো মোহাম্মদুল হককে তিরস্কার করে বলেন ঘরের ধান বিক্রি করে ছেলেকে মদ খাওয়ায়, রাতের বেলায় তুমি দেখার কে ? এমন দম্ভোক্তি করে গালিগালাজ করে হুমকি দেন কাউকে বোঝালে লাশও মিলবেনা। ফলে হতদরিদ্র মোহাম্মদুল হকের বিচার বঞ্চিত হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। যেখানে চোরের বাবার কাছে বিচার চাইতে গিয়ে তিরস্কৃত হল ফরিয়াদী মোহাম্মদুল হক সেখানে উল্টো জানমালের নিরাপত্তার অভাব দেখা দিয়েছে। যেকোন মুহুর্তে চোর আলাউদ্দিন বাহিনীর হামলায় প্রানে বাঁচা দায় হবে এমন আশংকা প্রকাশ করছেন মোহাম্মদুলহক। স্থানীয় বাসিন্দা সুত্রে জানা যায় আলাউদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে বাবা মায়ের সহযোগিতায় ও আশ্রয় প্রশ্রয়ে চুরি ছিনতাই সহ নানা অপরাধমুলক কর্মকাণ্ড সংঘটিত করে আসছে। গত কয়েক বছরে বহু চুরিতে জড়িত ছিল আলাউদ্দিন।চুরি ছিনতাই করে এলাকা থেকে আত্মগোপন হয়ে কয়েক মাস পর – পর এলাকায় ফিরে একেকটি ঘটনা ঘটিয়ে বাবা মায়ের সহযোগিতায় আত্মগোপনে চলে যায়। পরিস্থিতি বুঝে এলাকায় ফিরে পুর্বের অপকর্মে জড়ান।আর তাকে প্রত্যেক্ষ ও পরোক্ষ সহযোগিতায় বাবা মায়ের আস্কারায় বহুমুখী অপরাধমুলক কর্মকাণ্ড সংঘটিত করলেও পারিবারিকভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ মুখ খুলে প্রতিবাদ করতে পারেনা। বিভিন্ন সময় চুরি ছিনতাই করা টাকা ও পণ্য সামগ্রীর একটি অংশ প্রভাবশালীদের দেয়ায়
এবং পুলিশের সোর্স হিসেবে কাজ করায় অপকর্মের দায় থেকে সহজেই রক্ষা পায়। পেশাদার চোর আলাউদ্দিন ইতিপূর্বে আপন ঝেটা হোছন আলীর বাড়ি থেকে দামী মোবাইল ও মো:খলিলের বাড়ি থেকে কবুতর চুরি করে ২/৩ মাস এলাকা থেকে আত্মগোপন করেছিল। সমপ্রতি এলাকায় ফিরে কাস্টমস স্টেশনস্থ মাহিন্দ্রা গাড়ীর ব্যাটারি চুরি করে হজম করলেও পরবর্তী চোর সনাক্ত হওয়ায় অর্থদণ্ড দিয়ে চুপিসারে রক্ষা পায়।গত মাস দেড়েক আগে মৃত কালু সওদাগরের দোকানের পেছনে স্থীত পাইপের মাথা চুরি করতে গিয়ে লোকজন দেখে ফেলায় মাথা ফেলে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। সর্বশেষ চুরি ছিনতাইয়ের পরিকল্পনাকালে র্টচলাইট মুখে পড়ার দায়ে হতদরিদ্র মোহাম্মদুল হককে মেরে ফোলা জখম করলেও বিচারের বাণী নিরবে নিভৃতে কাদঁবে। কারণ চোর আলাউদ্দিনরা পারিবারিকভাবে প্রভাবশালী। চুরি ছিনতাই সহ বহুমুখী অপরাধে জড়ালেও বাবা. মা. আত্মীয়সজন.ঘুমধুম পুলিশের সোর্স হওয়ায় ও লুটের মালের অংশ ভাগবাটোয়ারায় সুবিধাভোগী মহলের সমর্থন রয়েছে।উখিয়ার ঘাট গ্রাম উন্নয়ন কমিটির সভাপতি সাংবাদিক শ.ম.গফুর বলেন কাস্টমস স্টেশন এখন অপরাধের নিরাপদ পয়েন্ট হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে। এখানে কেউ ন্যায়ের কথা বললেও তার উপর নেমে আসবে নির্যাতন। উখিয়ার ঘাটের মানুষ জিম্মিদশায়
নিমজ্জিত।যা সরকারের গোয়েন্দা সংস্থা প্রকাশ্যে ও গোপনে তদন্ত করলে বহুমুখী অপরাধের তথ্যের সত্যতা পাবে। ঘুমধুম তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ এরশাদুল হকের নিকট জানতে চাইলে তিনি জানান,কবে কোন সময়
ঘটনা ঘটেছে আমি জ্ঞাত নয়। উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো: আবুল খায়ের জানান, এ বিষয়ে অভিযোগ পেলে তদন্ত পুর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।