মংডুতে আটকে পড়া ১৮ ব্যবসায়ী একদিন পর ফিরেছে….মিয়ানমারে থেমে থেমে সংঘর্ষ চলছে..

Teknaf-pictt_10.10.jpg

রাশেদ মাহমুদ রাসেল, টেকনাফ |
মিয়ানমারের মংডুতে আটকাপড়া ১৮ বাংলাদেশী ব্যবসায়ী একদিন পর টেকনাফে ফিরেছে। সোমবার (১০ অক্টোবর) সন্ধা সোয়া ৬টার দিকে টেকনাফ স্থল বন্দরের ইমিগ্রেশন দিয়ে তারা ফিরে আসেন।
শনিবার রাতে আরাকান রাজ্যের কাওয়ারবিল টেনাইসুট, নাগফুরা ও কোডেংগাও এলাকায় ৩ বিজিপি ক্যাম্পে স্বশস্ত্র হামলার পর রোববার ইমিগ্রেশন যাতায়াত বন্ধ থাকায় উক্ত ব্যবসায়ীরা মংডু শহরে আটকা পড়েছিল। ফিরে আসা ব্যবসায়ীরা টেকনাফ, কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের বাসিন্দা।

টেকনাফ ইমিগ্রেশন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন জানান, ১৮ ব্যবসায়ী ও দুই শিশুসহ ২০ জনকে সোমবার মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ একটি ট্রলারে ফিরে আসার ব্যবস্থা করেন।

ফিরে আসা ব্যবসায়ীরা জানান, মংডু শহরে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। বিপুল সংখ্যক সেনা ও সরকারী বাহিনীর আনাগোনা লক্ষ করেছেন তারা। তারা মূলত গতকাল মংডুর বিভিন্ন হোটেলে অবরুদ্ধ অবস্থায় অবস্থান করছিলেন।

এদিকে বিজিপি ক্যাম্পে হামলার ঘটনায় ৯ বিজিপি সদস্য ও ৯ জন রোহিঙ্গা বিদ্রোহী সংগঠনের সদস্য নিহত হয়েছে বলে অসর্থিত সূত্রে জানা গেছে।

মংডু থেকে মুঠোফোনে একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, রোববার ঘটনাস্থল থেকে ৯ বিদ্রোহীর লাশ মংডু হাসপাতালে আনতে দেখেছেন।

এছাড়া সেখানকার সংবাদপত্রে ৯ বিজিবি সদস্য নিহতের খবর ছাপা হয়েছে। এছাড়া ৩ ক্যাম্প থেকে প্রচুর অস্ত্র গোলাবারুদ লুট হয়েছে বলে জানা গেছে।

এদিকে ঘটনার পর মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বিপুল সদস্য হামলাস্থল কাওয়ারবিল, নাগফুরা ও কোডেংগাও এলাকায় পৌঁছেছে।

সোমবার দিনব্যাপী মংডু বুড়ো সিকদার পাড়া এলাকায় রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের সাথে সেনা সদস্যদের কয়েক দফা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে বলে বিভিন্ন মাধ্যমে জানা গেছে। এতে উভয় পক্ষে ১০ জনের বেশী হতাহত হয়েছে বলে সূত্রে জানা গেছে।

এদিকে টেকনাফ ২ ব্যাটালিয়ন বিজিবি অধিনায়ক লে.কর্ণেল আবুজার আল জাহিদ জানান, টেকনাফ সীমান্ত পরিস্থিতি সম্পূর্ন নিয়ন্ত্রনে রয়েছে। এছাড়া কোন অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটেনি বলে জানান তিনি।
সোমবারও নাফ নদীতে মাছ ধরার উপর নিষেধাজ্ঞা ছিল। জেলেরা নাফ নদীতে মাছ শিকারে নামতে পারেনি।