মাশরাফি নৈপুণ্যে সিরিজে ফিরল টাইগাররা

last_27314_1476029474.jpg

টেকনাফ টুডে ডেস্ক |
ক্রিকেটে ইংরেজিতে একটা কথা আছে, ‘ক্যাপ্টেন লিডিং ফ্রম দ্য ফ্রন্ট’। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় একদিনের ম্যাচে সামনে থেকেই নেতৃত্ব দিলেন বাংলাদেশের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা।

ব্যাটে ও বলে তার অনবদ্য পারফরম্যান্সে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৩৪ রানের জয় পেয়েছে টাইগাররা। এই জয়ে সিরিজে ১-১ এ সমতা ফিরল।

২৩৯ রানের জয়ের লক্ষ্যে খেলতে নেমে মাশরাফি, তাসকিন ও সাকিব আল হাসানের বোলিংতোপে ৩২ বল বাকি থাকতেই মাত্র ২০৪ রানে অলআউট হয় সফরকারীরা।

রোববার দুপুরে মিরপুরের শের-ই-বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে টাইগারদের ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানান ইংলিশ দলপতি জস বাটলার। গতকালের বৃষ্টির পর সকালেও বৃষ্টি হওয়ার কারণে পিচে বেশ আদ্রতা ছিল। এর সুযোগ নিতেই টস জিতে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেন ইংলিশ দলনায়ক।

তার সিদ্ধান্তকে যৌক্তিক প্রমাণ করেন ইংলিশ বোলাররা। শুরুতেই চাপ সৃষ্টি করেন ক্রিস ওকস ও উইলি। বাংলাদেশের ওপেনিং জুটি ভাঙেন ওকস। আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান ইমরুল কায়েস ১৮ বলে মাত্র ১১ রান করে উইলির হাতে ধরা পড়েন।

ইমরুল কায়েসের পর দ্রুতই ফিরে যান তামিম ইকবাল। ব্যক্তিগত ১৪ রানে ওকসের বলে মিড উইকেটে মঈন আলীর হাতে ধরা পড়েন তিনি।

শুরুর ধাক্কা সামাল দেয়ার চেষ্টা করেন সাব্বির। খুব ধীর গতিতে ব্যাট করতে থাকেন তিনি। তবে ২১ বল খেলে মাত্র ৩ রান করে জ্যাক বলের শিকার হন সাব্বির। আগের ম্যাচে মোসাদ্দেক যেভাবে আউট হন তারই পুনরাবৃত্তি হলো সাব্বিরের বেলায়। বোল্ড হয়েছেন এ হার্ডহিটার ব্যাটসম্যান।

বিপর্যয় সামাল দিতে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ও মুশফিকুর রহিম চেষ্টা চালিয়ে যান। রানের চাকা সচল রেখে উইকেটও সামাল দেন তারা। তাদের জুটিতে আসে ৫০ রান। এই জুটি ভাঙেন আগের ম্যাচের জয়ের নায়ক ইংলিশ পেসার বল।

বাউন্স বলে সীমানার কাছে আদিল রশিদের হাতে ধরা পড়েন মুশফিক। তিনি ২১ রান করেন। এরপর সাকিবকে সঙ্গে নিয়ে ১৯ রানের ছোট একটি জুটি গড়েন রিয়াদ। তবে খুব বাজে একটা বলে ইংলিশ বোলার স্টোকসকে উইকেট উপহার দেন সাকিব। তিনি মাত্র ৩ রান করেন।

এরপর উইকেটে সেট হয়ে ৭৫ রানে ফিরে যান মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। আউট হওয়ার আগে মোসাদ্দেকের সঙ্গে ৪৮ রানের জুটি গড়েন এ ব্যাটিং অলরাউন্ডার। রিয়াদের পর দ্রুতই ফিরে যান মোসাদ্দেক। আদিল রশিদের বলে ওভার বাউন্ডারি মারতে গিয়ে সীমানায় ধরা পড়েন মোসাদ্দেক। তিনি ২৯ রান করেন।

এরপরই নাসির হোসেন এবং মাশরাফির ৬৯ রানের জুটি বাংলাদেশকে লড়াকু সংগ্রহে নিয়ে যায়। নাসির হোসেন ২৭ বলে ২৭ রানে অপরাজিত থাকেন। মাশরাফি ফিফটির কাছে গিয়েও রান আউটের শিকার হন। ২৯ বলে ৩ ছক্কা ও ২ চারে ৪৪ রান করেন তিনি।

২৩৯ রানের জয়ের লক্ষ্যে খেলতে নেমে শুরুতেই উইকেট হারায় ইংল্যান্ড। বাংলাদেশের হয়ে ইংল্যান্ডের ওপেনিং জুটি ভাঙেন মাশরাফি। নিজের দ্বিতীয় ওভারেই ওপেনার ভিঞ্চকে সাজঘরে পাঠান তিনি।

ভিঞ্চ ৫ রান করে মোসাদ্দেকের হাতে ধরা পড়েন। পরের ওভারেই ডাকেটকে বোল্ড করেন সাকিব। এরপর জেসন রয়কে ফিরিয়ে দিয়ে নিজের দ্বিতীয় উইকেট তুলে নেন মাশরাফি। রয় ১৩ রানে আউট হন।

নিজের ৫ম ওভারে আবারও ইংল্যান্ডের ব্যাটিং শিবিরি আঘাত হানেন মাশরাফি। বেন স্টোকসকে সরাসরি বোল্ড করেন তিনি। স্টোকস কোনো রান করতে পারেননি। এই স্টোকসই আগের ম্যাচে দুইবার জীবন পেয়ে শতরানের ইনিংস খেলেছিলেন।

২৬ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়লেও চাপ সামাল দেন বাটলার এবং বেইস্ট্রো। তাদের জুটিতে আসে ৭৯ রান। বেইস্ট্রোকে ফিরিয়ে দিয়ে জুটি ভাঙেন তাসকিন। বেইস্ট্রো ৩৫ রান করেন।

এরপর মঈন আলীকে সাজঘরে পাঠান দলে ফেরা নাসির হোসেন। নাসের বলে দুর্দান্ত এক ক্যাচে আলীকে ফেরত পাঠান সাকিব। পরের ওভারেই ৫৭ রান করা বাটলারকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেন তাসকিন আহমেদ।

দ্বিতীয় স্পেলে তাসকিন যে ভয়ংকর রূপ ধারণ করেন তা আবারও প্রমাণ করলেন তিনি। নিজের ৬ষ্ঠ ওভারে ওকসকে মুশফিকের ক্যাচে পরিণত করেন তিনি। ওকস ৭ রান করেন। ১২০ থেকে ১৩২ রানের মধ্যে আরও ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে ইংল্যান্ড।

বোলিংয়ে এসে সফলতা পান মোসাদ্দেেকও। উইলিকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেন তিনি। তবে শেষের দিকে আদিল রশিদ এবং বলের জুটি কিছুটা হলেও চিন্তায় ফেলে দেয় টাইগার ভক্তদের। তাদের জুটিতে আসে ৪৫ রান। তবে বলকে আউট করে চিন্তুমুক্ত করেন মাশরাফি। বল ২৮ রানে নাসিরের হাতে ধরা পড়েন।

এদিকে ক্রিকেটভক্তদের চাপে দলে সুযোগ পাওয়া নাসির হোসেন হতাশ করেননি। ব্যাট হাতে অপরাজিত ২৭ রান করার পর বল হাতেও সফল ছিলেন এ ডানহাতি। ১০ ওভারে ২৯ রান দিয়ে ১ উইকেট তুলে নেন তিনি।