চোরাচালানের সোনা ছিনতাইকালে দুই পুলিশ আটক

police_jugantor_11642_1462197673_27124_1475860374.jpg

অনলাইন ডেস্ক |
গোয়েন্দা পুলিশ পরিচয়ে চোরাচালানের তিন কেজি সোনা ছিনতাই করতে গিয়ে সাতক্ষীরায় থানা পুলিশের জালে আটকা পড়েছেন দুই পুলিশ সদস্য। একই সঙ্গে আটক হয়েছেন গণপিটুনিতে আহত অপর এক সোনা চোরাচালানি।

পাটকেলঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিবুল ইসলাম জানান, শুক্রবার রাতে তার কাছে খবর আসে, পাটকেলঘাটার সেনপুর বাজারে সোনাসহ তিনজনকে আটক করা হয়েছে। এ খবর পেয়ে পাটকেলঘাটা থানার এএসআই মুরাদ দ্রুত সেনপুর গিয়ে জনরোষ থেকে তিনজনকে উদ্ধার করেন।

এরা হলেন- যশোরের কেশবপুরের ভাটপাড়া গ্রামের সুধীর চ্যাটার্জির ছেলে বিপ্লব চ্যটার্জি, ঝিনাইদহ জেলায় কর্মরত পুলিশের এএসআই আবদুর রউফ পল্টু ও তার সহযোগী কনস্টেবল মারুফ।

ওসি আরও জানান, বিপ্লবের কাছে দুই পিস স্বর্ণ ছিল বলে তাকে জানানো হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তবে সে সোনা কোথায় তা তিনি নিশ্চিত করতে পারেননি।

সেনপুর গ্রামবাসী জানান, রাতে একটি মোটরসাইকেলে দ্রুতবেগে বাজারে আসেন তিন আরোহী। এদের একজন বিপ্লব চ্যাটার্জি ‘আমাকে বাঁচান’ বলে চিৎকার দেন। বাজারের লোকজন এগিয়ে এসে কোনো কিছু না বুঝেই গণপিটুনি শুরু করে দেয়। এ সময় তারা জানতে পারেন বিপ্লবের কাছে চোরাচালানের তিন কেজি স্বর্ণ রয়েছে। তবে সে স্বর্ণ কে বা কারা কীভাবে তার কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়েছে তা তারা বলতে পারেননি।

তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, বিপ্লব তিন কেজি স্বর্ণ নিয়ে ভারতের দিকে যাওয়ার পরিকল্পনায় খুলনার সোনাডাঙ্গা থেকে বাসে চড়েন। এ সময় এএসআই রবিউল ইসলাম পল্টু ও কনস্টেবল মারুফ নিজেদের গোয়েন্দা পুলিশ পরিচয়ে তাকে বাস থেকে নামান। পরে তাকে একটি মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে তারা চলে আসেন সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটা অভিমুখে। স্বর্ণ ছিনতাই করে নেয়ার লক্ষ্যে তারা তাকে তালা উপজেলার কুমিরা ইউনিয়নের সেনপুর বাজারের দিকে নিয়ে আসেন। এ সময় বিপ্লব বাঁচাও বলে চিৎকার দিলে গ্রামবাসী তাদের তিনজনকেই গণপিটুনি দেয়। পরে তাদেরকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়া হয়।

এএসআই রবিউল তালার পাটকেলঘাটার রফিকুল ইসলামের ছেলে। তিনি ঝিনাইদহ জেলার সদর থানায় চাকুরিরত। ছুটি নিয়ে বাড়িতে ছিলেন তিনি।

রবিউলের বড় ভাই স্কুলশিক্ষক আবদুর রব পলাশ জানান, এএসআই আবদুর রউফ ঢাকা থেকে সাক্ষ্য দিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। এরপর তিনি স্বর্ণের খবর জানতে পেরে বিপ্লবকে ধরে নিয়ে সেখানে যাচ্ছিলেন। এ সময় তারা সবাই গণরোষের শিকার হন।

রাত ১০ টায় এই প্রতিবেদন লেখার সময় তাদেরকে পাটকেলঘাটা থানায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছিল।