একদিনে ১১ জঙ্গি নিহত

ovijan_27198_1475934805.jpg

অনলাইন ডেস্ক |
গাজীপুর ও টাঙ্গাইলে আইনশৃংখলা বাহিনীর অভিযানে একদিনে সন্দেহভাজন ১১ জঙ্গি নিহত হয়েছে। শনিবার পৃথক অভিযানে তারা নিহত হয়।

এদের মধ্যে গাজীপুরের পাতারটেকে ‘অপারেশন শরতের তুফান’ অভিযানে নিউ জেএমবির সামরিক কমান্ডার আকাশসহ সাত জঙ্গি নিহত হয়। তাছাড়া গাজীপুরের হাড়িনাল ও টাঙ্গাইলের কাগমারার অভিযানে দুইজন করে জঙ্গি নিহত হয়।

অভিযানের পর অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ অন্যান্য আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত হওয়ার আগে জঙ্গিরা কিছু আলামত ও নষ্ট করে ফেলেছে বলে অভিযানের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

আকাশ ছাড়াও হাড়িনালে অভিযানে নিহত দুই জঙ্গির পরিচয় মিলেছে। তারা হলো- রাশেদ মিয়া ও তৌহিদুল ইসলাম। তবে তাদের প্রকৃত এখনও যাচাই-বাছাই চলছে জানিয়েছেন র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান।

তিনি বলেন, ওই বাড়ি থেকে একটি একে-২২, একটি নাইন এমএম পিস্তল এবং গুলিসহ আরও কিছু দ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতদের বাড়ি নরসিংদীতে। রাশেদ মিয়া উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা পাস করেছে। সে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল।

নিহত আতাউর রহমান গাজীপুরের জয়দেবপুরের ঢাকা ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি (ডুয়েট) এর ছাত্র ছিল।

র‍্যাব-১-এর গাজীপুর অঞ্চলের কমান্ডার মহিউল ইসলাম বলেন, লাশ দুটি ময়নাতদন্তের জন্যে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল জানান, নিহত জঙ্গিদের আত্মসমর্পণের সুযোগ দেয়া হয়েছিল। কিন্তু তারা তা না করে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যকে লক্ষ্য করে আক্রমণ চালায়। তাই প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা পাল্টা আক্রমণে যায়।

তিনি বলেন, ‘আমরা নিশ্চিত যে, তামিম চৌধুরীর পর যে জঙ্গি নিউ জেএমবির নেতৃত্ব দিতো তার ছদ্মনাম বা সাংগঠনিক নাম আকাশ। ‘অপারেশন শরতের তুফান’ অভিযানে যে সাতজন নিহত হয়েছে, সেই সাতজনের একজন হলো আকাশ।’

টাঙ্গাইল সদর থানার ওসি নাজমুল ভুঁইয়া জানিয়েছেন, শহরের কাগমারা এলাকার একটি বাড়িতে র‌্যাবের অভিযানে ২ জঙ্গি নিহত হয়েছে। শনিবার সকালে কাগমারার মির্জা মাঠ সংলগ্ন একটি বাড়িতে এ অভিযান চালায় র‌্যাব।

ওসি নাজমুল ভুঁইয়া জানান, ওই বাড়িতে ৭ জঙ্গি অবস্থান নিয়েছে- এমন গোপন খবরে র্যাব অভিযানে যায়। এ সময় জঙ্গিরা র্যাবের উপস্থিতি টের পেরে গুলি ছুড়তে থাকে। র্যাবও পাল্টা গুলি চালায়।

এই জঙ্গি আস্তানা থেকে একটি পিস্তল, ​একটি রিভলবার, ১০টি চাপাতি, দুটি ছুরি ও ৬৪ হাজার ৯০০ টাকা উদ্ধার হয়েছে।

টাঙ্গাইলে নিহত দুই জঙ্গির বিষয়ে ওই বাড়ির মালিক অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক আজাহার আলী জানান, ছাত্র পরিচয়ে গত মাসের ২৭ তারিখ তারা বাড়ির একটি কক্ষ ভাড়া নেয়। তাদের কাছে জাতীয় পরিচয়পত্র চাওয়া হলে দু-এক দিনের মধ্যে দিয়ে দেবে বলে জানায়।

যেভাবে চালানো হয় অভিযান: শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান ‘অপারেশন শরতের তুফান’ শুরুর পর জঙ্গিরাও পাল্টা আক্রমণ চালিয়েছিল। পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম (সিটি) ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম জানান, আকাশ তার সঙ্গীদের নিয়ে পাতারটেকে দোতলা একটি বাড়িতে অবস্থান করছে- এমন খবরের ভিত্তিতে শনিবার সকাল ১০টার দিকে অভিযান চালায় জেলা পুলিশ, সিটি ও সোয়াট টিমের যৌথ দল।

তিনি বলেন, প্রথমে জঙ্গি আত্মসমর্পণ করতে বলা হয়। কিন্তু তারা আত্মসমর্পণ না করে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ও গ্রেনেড ছোড়ে। পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। এতে সাত জঙ্গি নিহত হয়। এ অভিযান বেলা চারটা পর্যন্ত চলে।

টাঙ্গাইলের অভিযানের বিষয়ে র‍্যাব-১২-এর তিন নম্বর কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মহিউদ্দিন ফারুকী জানান, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ওই জঙ্গি আস্তানায় সকাল ১০টার​ দিকে অভিযান চালানো হয়। প্রথমে এক ‘জঙ্গিকে’ গ্রেফতার করতে গেলে তার সঙ্গে র‌্যাবের ধস্তাধস্তি হয়।

এ সময় অন্য ‘জঙ্গিরা’ র‍্যাবকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর চেষ্টা চালায়। আত্মরক্ষার্থে র‌্যাবও পাল্টা গুলি চালায়। এতে দুই জঙ্গি নিহত হয়। বেলা দেড়টার দিকে বোমা বিশেষজ্ঞ দল নিয়ে ওই বাড়িতে প্রবেশ করে র‌্যাব। পরে লাশ দুটি বের করে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ মর্গে নেয়া হয়।

পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ জানান, হাড়িনাল একতলাবিশিষ্ট বাড়িটি ঘিরে রেখে অভিযান চালায় আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী।