ছেলেদের জন্য মামলা করায় টেকনাফের জাহেদা বেগম বিভিন্ন প্রভাবশলীর হুমকিতে অসহায়

Follow20Up.jpg

জামাল উদ্দিন, টেকনাফ |
টেকনাফে ছেলেদের জন্য আদালতে মামলা করে আটক করে জেল হাজতে পাঠানোর কারণে ছেলেদের পক্ষ হয়ে এলাকার বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তি মাকে মামলা তুলে নিতে প্রাণ নাশের হুমকি ধমকি দিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন অসহায় মা। জানা যায়Ñ টেকনাফ সাবরাং আছারবনিয়া এলাকার মৃত কবির আহমদের স্ত্রী জাহেদা বেগমের স্বর্ণালংকার বিক্রি করে দুই ছেলে রফিক আলম (৩২) ও খুরশেদ আলম (৩০) কে গত ১২ বছর পূর্বে পর্যায় ক্রমে বিদেশ পাঠায়। গত বছর ২/১ আগে বিদেশ থেকে প্রথম ছেলে বিদেশ থেকে প্রথম ছেলে রফিক আলম দেশে এসে বিয়ে করার পর হতে মায়ের সাথে মতবিরোধ সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে মাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজসহ নানান নির্যাতন করে আসছিল। মা সহ্য করতে না পেরে তাকে একই বাড়ীতে আলাদা করে দেয়। এরপর বছর দেড়েক পূর্বে দ্বিতীয় ছেলে খুরশেদ আলম বিদেশ থেকে দেশে এসে মায়ের অমতে টেকনাফ কচুবনিয়া এলাকার প্রভাবশালী ও চিহ্নিত ইয়াবা ব্যবসায়ী শাকের আহমদের মেয়েকে বিয়ে করে। তখন থেকে খুরশেদ আলম শাশুড়ীর সাথে ইয়াবা ব্যবসায় যোগ দিলে মা জাহেদা বেগম তার টাকা খাবে না বলে শপথ করে ফেলে। এতে মায়ের সাথে খুরশেদ আলমের মত বিরোধ হলে এক পর্যায়ে দুই ভাই এক জোট হয়ে মাকে ঘর থেকে তাড়িয়ে দিয়ে বাগান বাড়ী দখলের নিমিত্তে লাঠি দিয়ে মারধর, গলা টিপে রক্তাক্ত এবং লাথি ও ঘুষি মেরে বাড়ী থেকে বের করে দেয়। ছেলেদের অত্যচার নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে অসহায় মা পার্শ্ববর্তী আত্মীয়-স্বজনের বাড়ীতে আশ্রয় নেয়। তখন থেকে বিষয়টি সুরাহার জন্য মা একাধিকবার স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও থানা পুলিশে অভিযোগ দেয়। জনপ্রতিনিধি ও থানায় বিচারাধীন থাকাবস্থায় দুই ছেলে মাকে বার বার হুমকি ধমকি সহ নানা অকথ্য ভাষায় তিরস্কার করলে মা জাহেদা বেগম সহ্য করতে না পেরে আদালতে শরণাপন্ন হয়। কক্সবাজার জেলা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে গত ২১/০৯/২০১৬ইং একটি মামলা দায়ের করে। যার নং- সিআর ২৬২/১৬, বিজ্ঞ আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে সরাসরি ওয়ারেন্ট জারী করে। ওয়ারেন্টের স্মারক নং- ৪২৭ ও ৪২৮ মূলে টেকনাফ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ আবদুল মজিদের নির্দেশে এস.আই. মুফিজুল ইসলাম সঙ্গীয় ফোর্সসহ অভিযান চালিয়ে দুই ছেলে রফিক আলম ও খুরশেদ আলমকে আটক করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠায়। এরই সূত্র ধরে এলাকার কিছু প্রভাবশালী স্বার্থান্বেষী ব্যক্তির যোগসাজসে ছেলেদের পক্ষ হয়ে মামলা তুলে নিতে মাকে এখনো অব্যাহতভাবে হুমকি ধমকি দিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে ছোট ছেলের শাশুড় চিহ্নিত ইয়াবা ব্যবসায়ী শাকের আহমদ ও তার সাথে ব্যবসায় যোগ থাকা ব্যক্তিদের সুসম্পর্ক থাকায় প্রভাবশালীরা এখন যেভাবেই হোক দুই ছেলেকে ছাড়িয়ে আনতে মরিয়া হয়ে উঠে। এতে অসহায় মা নিরূপায় হয়ে মানবেতর দিন যাপন করছে। এ ব্যাপারে প্রশাসনের সহায়তা কামনা করেছেন মা।