ঘুমধুমের পাহাড়ি বনাঞ্চলে রোহিঙ্গাদের উৎপাত সাধারণ জনমনে অজানা আতংক

Rohinga_1.jpg

শ.ম.গফুর,উখিয়া |
উখিয়ার পার্শ্ববর্তী নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের পাহাড়ি বনাঞ্চলে দুস্কৃতকারী রোহিঙ্গাদের অবাধ বিচরণে জনমনে নানা শংকা বিরাজ করছে। দেখা দিয়েছে অজানা আতঙ্ক।লাকড়ি কুড়ানোর নামে উখিয়ার কুতুপালং শরনার্থী শিবির ও টালের সংঘবদ্ধ কিছু রোহিঙ্গা ঘুমধুমের বিভিন্ন বনায়নে অবস্থান পুর্বক হানা দিয়ে বহুমুখী অপকর্ম সংঘটিত করছে।নানা কাজের অজুহাতে দিনরাত রক্ষিত বনায়নের সীমানা প্রাচীর ডিংগিয়ে অবস্থান করে ইয়াবা, মাদক,চোরাই পণ্যের চালান পাচার ও হাল সময়ের
সীমান্ত পাড়ি দেয়া রোহিঙ্গাদের নির্বিঘ্নে গন্তব্যস্থলে পৌঁছে দিচ্ছে। সীমান্ত এলাকার বিজিবি সহ আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার টহলদলের গতিবিধি নজরদারি ও ফাঁকি দিয়ে সুযোগ বুঝে রোহিঙ্গারা নানা অপকর্ম করে যাচ্ছে।এসব কর্মকাণ্ড সংঘটনে স্থানীয় বখাটে কিছু যুবকের পরোক্ষ ও প্রতেক্ষ্য ইন্দনে রোহিঙ্গারা আস্কারা পেয়ে এসকল কাজ করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

ঘুমধুমের বিভিন্ন বনায়নে কর্মরত শ্রমিক, পাহারায় নিয়োজিতরা ও বাগান সংশ্লিষ্টদের অনেকেই অভিযোগের সুরে ক্ষুদ্ধ কন্ঠে বলেন সামপ্রতিক সময়ে কুতুপালং শরনার্থী শিবিরের রেজিস্টার্ড ও আন-রেজিস্টার্ড রোহিঙ্গাদের সংঘবদ্ধ একটি দলের অন্তত ১০/১২ জনের সিন্ডিকেট প্রায়শঃ অবস্থান নিয়ে নানা অপকর্মে মেতে উঠে আর রক্ষিত বনায়নের ঘেরা – বেড়া ভেংগে অভ্যান্তরে প্রবেশ করে ইয়াবা বেচাকেনার লেনদেন সহ বহুমুখী অপরাধমুলক কর্মকাণ্ড সংঘটিত করে চলে যাওয়ার সময় বাগানের মুল্যবান গাছপালা কেটে নিয়ে যায়।

প্রহরীরা এসব দৃশ্য দেখলে রোহিঙ্গাদের বাগানে প্রবেশে বারণ ও শাসিঁয়ে দেয়।ফলে অনেক খারাপ প্রকৃতির রোহিঙ্গা বাগান পাহারাদারদের সাথে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে প্রতিশোধ পরায়ন হয়ে উঠে। পাহারাদাররা সংখ্যায় কম হলে দুস্কৃতকারী রোহিঙ্গারা মারধর করে বাগান চৌকিঘরে থাকা মালামাল ছিনিয়ে নেই।রোহিঙ্গারা সংখ্যায় কম হলে পরবর্তী সুযোগ বুঝে রাত গভীরে হানাদেয় বাগান এলাকায়। সংঘবদ্ধ অস্ত্রধারী রোহিঙ্গারা বাগান চৌকিঘরে হানা দিয়ে প্রহরীদের জিম্মি পুর্বক মারধর করে সর্বস্থ লুটে নেয়।না হয় প্রহরীকে নির্জন আস্তানায় ধরে নিয়ে মোবাইল ফোন, নগদ টাকা, জামাকাপড় হাতিয়ে নেয়। আবার কারো কাছে মুক্তিপণ দাবী করে বসে। এতে প্রানের ভয়ে অনেকেই তাৎক্ষনিক টাকা পয়সার ব্যবস্থা করে জানে বাচেঁ। তেমনি রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়ে রোহিঙ্গা দুস্কৃতকারীদের অপহরণ কবল থেকে ফিরে আসার বিষাদ বর্ণনা দিলেন ঘুমধুমে ইয়াহিয়া গ্রুপের আমবাগানের হতদরিদ্র বাগান পাহারাদার জাহেদ আলম।

ক্ষুদ্ধ কন্ঠে অভিযোগ সুরে জাহেদ আলম জানান, গত ১মাস আগে কয়েকজন রোহিঙ্গা দিনরাত আমার দায়ীত্বরত বাগান এরিয়ায় রহস্যজনক ঘুরাঘুরি করতে থাকে। বাগানের বিভিন্ন পথ গলিতে অবস্থান নেয়। রোহিঙ্গাদের না চিনলেও ঘুমধুম ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের জনৈক সিকদার আলীর পুত্র মো: হোছন,৬নং ওয়ার্ডের কচুবনিয়া এলাকার জনৈক বুদামিয়ার পুত্র কামালউদ্দিনের সাথে ইয়াবার চালান পাশের কথা বলে আর্থিক লেনদেন হয়।এ দৃশ্য দেখে তাদেরকে বাগান এরিয়া ত্যাগ করতে বলি এবং আর কোন এসব কাজ বাগানে করার বারণ করে শাঁসিয়ে দিই। তারা এনিয়ে জাহেদ আলমের সাথে বাকবিতণ্ডায় লিপ্ত হয়ে চলে যায়।পরে গত ১৭ সেপ্টেম্বর রাতের ডিউটিকালে জাহেদ আলম বাগান চৌকিঘরে একা। অন্ধকারাচ্ছন্ন সময় ওই দিনের ইয়াবার চালান পাচারকারী রোহিঙ্গার নেতৃত্বে ১০/১২ জনের সংঘবদ্ধ রোহিঙ্গার দল হাজির। সকলের হাতে ধারালো দা, কিরিচ, লাটিসোটা, কারো হাতে দেশীয় অস্ত্রেরমত অবয়ব কিছু। তারা জাহেদ আলমকে বিপদের কথা বলে ডেকে তুলে মুহুর্তেই মুখ বেধে জিম্মি করে নিয়ে যায়। অপহরণকালে ঘুমধুমের ইয়াবা পাচারকারী মো: হোছন, ঘোনার পাড়ার মৃত জহির আহমদ ড্রাইভারের পুত্র (আরেক ইয়াবা পাচারকারী ) ছৈয়দ কাশেম প্রকাশ লেইংগা কাশেম,কচুবনিয়ার কামালউদ্দিন ও বুলু নামক বখাটেরাও ছিলেন বলে দাবী করেন জাহেদ আলম। তাকে রাতের বেলায় অন্তত ৩-৪ বার স্থানান্তর করে অজ্ঞাত স্থানে বন্ধি রাখা হয়। পরদিন ১৮ সেপ্টেম্বর নিজেকে আবিষ্কার করেন কুতুপালং রোহিঙ্গা টালে। বন্ধি অবস্থায় জাহেদ আলমকে শারীরিক নির্যাতন করে মোবাইল ফোনে স্ত্রীকে শোনানো হয়। তখন স্ত্রীকে বলা হয় জাহেদ আলমকে জীবিত নিতে হলে ৫০ হাজার টাকা দিতে হবে। টাকা নগদ,এবিষয়ে কাউকে জানালে জাহেদ আলমের লাশও মিলবেনা।কোন ধরণের চালাকি না করে দ্রুত টাকা নিয়ে যেতে বলে। জাহেদ আলমের স্ত্রী বেচারী ছালেহা বেগম একমাত্র বসতভিটি বন্ধক রেখে ২০ হাজার টাকা নিয়ে রোহিঙ্গাদের বন্ধি আস্তানায় যান দিনের অনুমান সাড়ে ১১টায়। নগদ ২০ হাজার টাকা গ্রহণ, আরও ৩০ হাজার টাকা পরিশোধ করিবে মর্মে প্রতিশ্রুতিশীবদ্ধ হয়ে ৫০ টাকা মুল্যের নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে সাক্ষর আদায়
করে। তাতে লিখা হয় ওই রোহিঙ্গা দুস্কৃতকারীর নাম মো:আজিজ। আর লোকজন বলাবলি করছে তার নাম প্রকাশ ইয়াবা ডাক্তার আজিজ। নিজের জানমালের কথা বিবেচনা করে এসব ঘটনা আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাসহ কাউকে জানাননি জাহেদ আলম ও তার পরিবারের কেউ।অপহরণকারী রোহিঙ্গাদের কবল থেকে পণের বিনিময়ে ফিরে আসলেও জাহেদ আলমের উপর ভর করে আছে আরও ৩০ হাজার টাকা পণের বোঝা।গত ১ সপ্তাহ ধরে ৩০ হাজার টাকা চেয়ে বার বার মোবাইলে বিরক্ত আর স্থানীয় বখাটে ফড়িয়াদের মারফত খবর পাঠাচ্ছে ইয়াবা ডাক্তার আজিজ। ৩০ হাজার টাকা না দিলে আবারও জাহেদ আলম অপহৃত হবেন। জানে মেরে লাশ গুম করিবে, এমন হুমকিতে জাহেদ আলমের কর্মস্থল ঘুমধুম বাগানে যেতে পারছেন না।ফলে অর্ধাহারে – অনাহারে পরিবার -পরিজন নিয়ে দিন কাটাচ্ছে জাহেদ আলম। আর রাত কাটছে চরম আতংকে।কখন .কোন সময় রোহিঙ্গা দুস্কৃতকারীরা ধরে নিয়ে যায় বা ভাগ্যে কি ঘটায় এমন অজানা আশংকায় উদ্ধিগ্ন জাহেদ আলম প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে আইনের আশ্রয় নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানান।

ঘুমধুম ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান ও ৪নং ওয়ার্ডের মেম্বার কামালউদ্দিন জানান, জাহেদ আলমকে ধরে নিয়ে গিয়েছিলো শুনেছি।

উখিয়া উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মুজিবুল হক আজাদ বলেন. রোহিঙ্গা দুস্কৃতকারীরা জাহেদ আলমকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়ার কথা শুনে আইনের আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দিই।

ঘুমধুম ইউপির চেয়ারম্যান একেএম জাহাঙ্গীর আজিজ বলেন রোহিঙ্গাদের অপকর্মে অনেকেই প্রশ্রয় দিয়ে সুবিধা নিচ্ছে আবার বসতি গেঁড়ার সুযোগও দিচ্ছে। যা ঘুমধুম ইউনিয়নে রোহিঙ্গারা নতুন করে মাথা ছোঁড়াছুড়িই দিয়েছে। এবিষয়ে আমি উপজেলা আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক সমন্বয় সভায় উত্তাপন করবো।

ঘুমধুম তদন্ত কেন্দ্র পুলিশের ইনচার্জ এরশাদুলল্লাহ বলেন রোহিঙ্গা হউক.গ্রামের হউক. অপরাধের সাথে জড়িত কেউ আমার কাছে ছাড় নেই। জাহেদ আলমের বিষয়ে অভিযোগ পেলে তদন্ত পুর্বক ব্যবস্থা নেব।