খাদিজার পাশে সেলফি ক্ষোভ ঝেড়ে এমপি তুহিনের দুঃখ প্রকাশ

fdd5d37757e763e246ebe3306e6eebfa-Untitled-2.jpg

অনলাইন ডেস্ক |
মৃত্যুর সঙ্গে লড়া সিলেট সরকারি কলেজের ছাত্রী খাদিজা বেগমকে দেখতে গিয়ে সেলফি তুলে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করায় ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন আওয়ামী লীগের তিন নেত্রী।

রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) জীবনমৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন খাদিজা। ৭২ ঘণ্টার পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে তাকে। সেখানেই বুধবার তাকে দেখতে গিয়েছিলেন সরকার দলীয় সংসদ সদস্য ও ঢাকা উত্তর এলাকার যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক সাবিনা আক্তার তুহিন, মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য অপু উকিল এবং যুব মহিলা লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কোহেলী কুদ্দুস মুক্তি।

সাবিনা আক্তার তুহিন নিজেই খাদিজার পাশে দাঁড়িয়ে এই সেলফি তোলেন। ছবিটি নিজের ফেসবুক আইডিতে আপলোডও করেন তিনি। তার পাশে অপু উকিল এবং কোহেলী কুদ্দুস মুক্তিকে দেখা গেছে।

ফেসবুকে আপলোড হওয়া এই সেলফি মুহূর্তের মধ্যে দেশ ছেড়ে বিদেশেও ভাইরাল হয়ে যায়। রাজনৈতিক অঙ্গনেও শুরু হয়েছে এই তিন নেত্রীকে নিয়ে নানা বিদ্রুপপূর্ণ মন্তব্য।

এভাবে আইসিউতে ছবি তোলা যুক্তিযুক্ত না বলে জানিয়েছেন অপু উকিল। এটা উচিত হয়নি বলে মনে করেন অপু। এর সঙ্গে তিনি জড়িত না বলেও দাবি করেন।

তবে তাদের তোলা সেলফি নিয়ে সমালোচনা হওয়ায় ব্যাপক ক্ষোভ প্রকাশ করেন এমপি তুহিন। বুধবার গভীর রাতে ফেসবুকে দেয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, “আমাদের ছবি নিয়ে যে মাতামাতি হচ্ছে এতে মনে হচ্ছে- খাদিজা ইস্যু রেখে আমরা মুখ্য হয়ে গেলাম মনে হচ্ছে। কত ক্ষতি করে ফেলেছি। পারিবারিক সহিংসতা বেড়েছে … এ ধরনের নারী নির্যাতন প্রায়ই হচ্ছে। এর জন্য সবার উচিত সন্তানদের প্রতি নজর দেয়া। ছেলে-মেয়েরা কি করছে তা খেয়াল করা। এখন সব কিছু সরকারের কাঁধে দিয়েই সবার দায়িত্ব যেন শেষ হয়ে যায়। বেডরুমে কিছু হলেও সরকারের দোষ। দেশে এত ধনী আছে কেউ দশ পয়সা দিয়ে সাহায্য করবে না। কেবল সরকারের তহবিলের প্রতি নির্ভরশীল হবে আর কিছু হলে সরকারকে গালি দিয়ে কর্তব্য শেষ।
tuhinmp_26968_0

এমপি তুহিনের ফেসবুক থেকে
তিনি আরও লেখেন, রাজনীতিবিদদের এত দোষ কিন্তু সাহায্যের হাত রাজনীতিবিদরাই বাড়ায় সব সময়। আমার ২১ দিনের বাচ্চা রেখে বেদম মেরে জেল খানায় পাঠায় তখন ধীক্কার জানানোর জন্য কেবল আওয়ামী লীগকেই পাই আর সুশীল সমাজ নাক ডেকে ঘুমান। সাবেক ছাত্রলীগ নেতা যে ছাত্রলীগ করে না তার দোষ ছাত্রলীগকেই নিতে হবে অথচ তাঁরাই খাদিজাকে রক্ত দেয় তাঁরাই গনধোলাই দিয়ে পুলিশে দেয়। ইমরানের কথা শুধু আমরাই বলবো সুশীলদের মানা। কারন ও যে ছাত্রলীগ। শেখ হাসিনা দেশরত্ন আর উনার দল ব্যতীত কাউকে খাদিজার পাশে দেখা যাবে না এটাই সত্যি।”

তবে বৃহস্পতিবার সকালে দেয়া এক স্ট্যাটাসে দুঃখ প্রকাশ করেন তুহিন। অবশ্য এখানেও সাংবাদিকদের সমালোচনা করেন তিনি।

তুহিন লেখেন, “আমার গতকালের স্ট্যাটাসের জন্য যদি আমার কোনো ভুল হয়ে থাকে এবং কেউ মর্মাহত হয়ে থাকেন আমি এ ব্যাপারে দু:খিত। আমি মেয়েটা মারা গেছে বলে যে গুজব ছড়িয়ে পরে আমার বান্ধবী মিরা স্ট্যাটাস দেয় বোন খাদিজা ক্ষমা করিস লিখে। আমাদের ছবি দেয়ার উদ্দেশ্য কেবল আমরা নারী সমাজ খাদিজার পাশে আছি এটা বোঝানোর জন্য আর ও বেঁচে আছে এটা জানানোর জন্য। আমার স্ট্যাটাসে বদরুলের ফাঁসি চেয়ে নির্মম ঘটনার নিন্দা করে স্ট্যাটাস দেয়া হয়েছে। আমার যদি ভুল হয়ে থাকে তবে আমি ক্ষমাপ্রার্থী। আমরা সব নির্যাতিত নারী সমাজের পাশে আছি, থাকবো। এটা দেয়া যদি আমার সাংবাদিক ভাইদের কাছে দৃষ্টিকটু হয়ে থাকে তবে আমি আন্তরিক দু:খিত। আসলে আমরা যারা রাজনীতি করি তাদের চিন্তা ভাবনায় যত সততা থাকুক আমাদের দোষ তো খুঁজে বের করতে হবে এটাই তো স্বাভাবিক। আমি মনে করি যা কিছু হয়েছে মঙ্গলের জন্য, অনেক কিছু আবেগ থেকে না করে চিন্তা ভাবনা করে করতে হবে।”

তিনি লেখেন, “আমি সাংবাদিক পরিবারের মানুষ, আমার তো জানা উচিত ছিল। খবরের শিরোনাম তো উনারা খুঁজবে আমি কেন রসদ দিবো। আবেগ দিয়ে বিবেচনা না করে মাথা খাঁটিয়ে চলতে হবে। কেউ যদি কাজ করে সমালোচনা তারই বেশি হয়। কালকে হাসপাতালে গিয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর অঙ্গীকার না করে ঘরে বসে তার জন্য বড় করে স্ট্যাটাস দিলেই তো হতো। সংসদে ঢোকার আগ মুহূর্তে গেলাম লিপিস্টিক কেন দিয়ে গেলাম এটাও তো দোষ। সব কিছুর পর এটাই বলবো- আমিই দায়ী আমার একক দায়িত্ব।