আ’লীগ প্রার্থীর সঙ্গে মনোনয়ন জমা দিতে গেলেন ওসি

rajshahi_bagmara_photo_06-10-16_27026_1475770531.jpg

টেকনাফ টুডে ডেস্ক |
রাজশাহী বাগমার উপজেলার গোয়ালকান্দি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে জেএমবি সংশ্লিষ্টতায় অভিযুক্ত আলমগীর সরকার আওয়ামী লীগের দলীয় চেয়ারম্যানপ্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন বাগমার থানার ওসি (তদন্ত) আবুল কালাম আজাদ।

বৃহস্পতিবার মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিনে আলমগীর সরকারসহ দলীয় নেতাদের সঙ্গে গিয়ে তার মনোনয়নপত্র দাখিল করেন।

আওয়ামী লীগের এই প্রার্থীর বিরুদ্ধে জেএমবির সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে। তার বাড়িতে জেএমবির নেতাদের বৈঠকের ভিডিও রয়েছে। ওই বৈঠকে আলমগীরও উপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজনের রাজশাহী আঞ্চলিক সমন্বয়কারী সুব্রত কুমার পাল বলেন, কোনো সরকারী কর্মকর্তাই কোনো প্রার্থীর সঙ্গে থেকে মনোনয়পত্র জমাদান কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবেন না। পুলিশের দায়িত্ব আইন-শৃংখলা রক্ষার। কিন্তু বাগমরার ওসি যা করেছেন তা বিধিভঙ্গ।

জানা গেছে, গোয়ালকান্দি ইউপি নির্বাচনে মনোনয়ন জমাদানের শেষদিনে নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে যান আওয়ামী লীগের দলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থী আলমগীর সরকার। এসময় তার সঙ্গে বাগমারা থানার ওসি (তদন্ত) আবুল কালাম আজাদও ছিলেন।

মনোনয়ন জমার সময় প্রার্থী ও নেতাকর্মীদের সঙ্গে ওসি আজাদও আলমগীরের মনোনয়নপত্র হাতে ধরে থাকেন। এসময় রিটার্নিং কর্মকর্তা তৌহিদুল ইসলাম তা গ্রহণ করেন।

তবে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রাথমিক রিসোর্স সেন্টারের ইন্সট্রাক্টর তৌহিদুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, মনোনয়ন জমাদানের সময় অনেকেই ছিলেন। তবে ওসি সাহেব যদি মনোনয়ন জমাদানে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়ে থাকেন তাহলে এটি বিধি বহির্ভূতকাজ। প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ওসি আবুল কালাম আজাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি উপজেলা চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাকিরুল ইসলাম সান্টু সাহেবের সঙ্গে ছিলাম। তার ডাকেই মনোনয়নপত্র জমা দিতে যাই। তবে বন্ধুত্বের খাতিরে মনোনয়নপত্র জমার সময় আমিও হাত দিয়ে ধরি।

এদিকে গোয়ালকান্দি ইউনিয়নের স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুস সালাম বলেন, পুলিশ কর্মকর্তা গিয়ে একজন প্রার্থীর পক্ষে মনোনয়নপত্র জমা দেয় তবে সে নির্বাচন নিরপেক্ষ হবে কি না তা সবাইকে ভাবিয়ে তুলেছে।

এবিষয়ে নিয়ে নির্বাচন কমিশনের দ্রুত ও কঠোর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন তিনি।

রাজশাহী পুলিশ সুপার মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, পুলিশ নির্বাচনে নিরপেক্ষ দায়িত্ব পালন করবেন। তবে কেউ যদি কোনো প্রার্থীর পক্ষে মনোয়নপত্র জমা দেন তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উল্লেখ্য, গত ৭ মে চতুর্থ দফায় বাগমারা উপজেলার ১৬টি ইউনিয়নে নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এর দুইদিন আগে ৫ মে নির্বাচন স্থগিত করে নির্বাচন কমিশন। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পেয়েছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের কৃষি বিষয়ক সম্পাদক ও ইউনিয়নের সহ-সভাপতি আবদুস সালাম। আর স্বতন্ত্র ছিলেন আলমগীর সরকার। গত মঙ্গলবার দলীয় মনোনয়ন পরিবর্তন করে আলমগীর সরকারকে দেয়া হয়।

স্থগিত হওয়া ওই ১৬টি ইউনিয়নে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হয় গত ২৬ সেপ্টেম্বর। তফসিল অনুযায়ী আগামী ৩১ অক্টোবর নির্বাচন। বৃহস্পতিবার ছিল মনোনয়ন পত্র দাখিলের শেষ দিন। ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত প্রত্যাহারের শেষ দিন।