হ্নীলায় তুচ্ছ বিষয় নিয়ে দু‘পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি

.jpg

মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, টেকনাফ |
হ্নীলায় ছেলেদের ফুটবল খেলার বিষয় নিয়ে ধাওয়া করা ও দু‘পক্ষের মধ্যে তর্কা-তর্কির জেরধরে এলাকায় গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে । এঘটনায় পুরো এলাকায় আতংক ছড়িয়ে পড়ে।

৫ অক্টোবর বিকাল ৫টারদিকে উপজেলার হ্নীলা উলুচামরী এলাকায় অর্তকিতভাবে উত্তরপাড়া ও উলুচামরী স্কুলপাড়ার লোকজনের মধ্যে গোলা-গুলির প্রবল শব্দে স্থানীয় জনসাধারণ ও পাশ্ববর্তী এলাকাবাসী আতংকিত হয়ে পড়ে।

ঘটনার খবর পেয়ে টেকনাফ মডেল থানার এসআই রিপন কুমার দাস ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। তিনি জানান-আমি ঘটনাস্থলে এসে গোলাগুলির শব্দ শুনেনি। তবে এলাকাবাসী জানিয়েছে-উভয়পক্ষের লোকজন বেশ কয়েক রাউন্ড গুলিবর্ষণ করে এলাকায় আতংক সৃষ্টি করে। এখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

স্থানীয় মেম্বার আবুল হোছন বলেন-আমি কাজে বাহিরে আছি। শুনেছি ২/৩দিন আগের ফুটবল খেলার বিষয় নিয়ে হাতাহাতি ও উত্তেজনার জেরধরে আজ দু‘পক্ষের মধ্যে ফাঁকাগুলি বর্ষণ করে আতংক সৃষ্টি করা হয়। এতে কেউ আহত হয়নি।

এই ব্যাপারে অভিযুক্ত হামিদ হোছাইন জানায়-গত ৩ অক্টোবর উত্তরকূল মাঠে উলুচামরীর একদল শিশু ফুটবল খেলার সময় তুচ্ছ বিষয় নিয়ে তর্ক বাঁধে। এক পর্যায়ে শিশুদের অস্ত্র, লাঠি-সোটা নিয়ে ধাওয়া করে। বিষয়টি হামিদ হোছাইনকে জানায় শিশুরা। তখন হামিদ কক্সবাজারে ছিল। হামিদ এলাকায় এসে গত ৪ অক্টোবর বাড়ি যাওয়ার পথে উত্তর কূলের রাসেল ও নুরুল আমিনকে রাস্তায় হাটতে দেখে ফুটবল খেলতে যাওয়া শিশুদের ভীতি প্রদর্শন ও ধাওয়া করার বিষয়ে সর্তক করেন এবং আগামীতে এই জাতীয় ঘটনা করা হলে চরম মূল্য দিতে হবে বলে হুশিয়ারী করে। এই কথা শুনার পর কিছুদূর গিয়ে তারা পাল্টা হুমকি দিয়ে চলে যায়। হঠাৎ আজ বিকেলে স্বশস্ত্র অবস্থায় সড়কে অবস্থান নিয়ে গুলিবর্ষণ করে আতংক সৃষ্টি করে।

এদিকে উত্তরকুলের পক্ষ থেকে অভিযুক্ত নুরুল আমিন জানায়-গত ২/৩দিন আগে ছেলেদের ফুটবল খেলার বিষয় নিয়ে একটি উত্তেজনা ছিল। হঠাৎ আজ বিকেলে টেকনাফের জাফর চেয়ারম্যানের ভাই জালাল, নুর মোহাম্মদ, মৌলভী আব্দুল হক ও লাল মিয়া নামে ৪ ব্যক্তি জমি ক্রয়ের জন্য এসে পরিমাপ শেষ করে চলে যাওয়ার সময় ২জন শিশু তাদের এগিয়ে দিতে আসেন। ওরা চলে যাওয়ার সাথে সাথে হামিদ রাস্তার মাথায় আসা দু‘ছেলেকে ডেকে বলে ওরা কেন এসেছে। এসময় আক্তার নামে এক ছেলে জমি কিনতে এসেছে বললে উত্তর কূলের ছেলেরা মিথ্যা কথা বলে বলেই লাথি দিলে আব্দুস সালামের পুত্র আক্তার ঘটনাস্থলে কান্না-কাটি করে মাটিতে পড়ে যায়। অপর শিশু পালিয়ে এলাকায় গিয়ে আক্তারকে মারধরের বিষয়টি জানালে তারাও স্বশস্ত্র অবস্থায় বেরিয়ে আসে। দু‘পক্ষই কিছুদূরে অবস্থান নিলে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এরপর উভয়পক্ষ থেকে থেমে থেমে ফাঁকাগুলি বর্ষণ করা হলে আতংক সৃষ্টি হয়।

এদিকে প্রকাশ্যে অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার করে নিরীহ সাধারণ মানুষের জন-জীবনকে আতংকিত করার জন্য এসব অবৈধ অস্ত্রধারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনী পদক্ষেপ নেওয়ার দাবী উঠেছে।