ফলোআপ : হোয়াইক্যং এর কাঞ্জর পাড়ায় এবার সন্ত্রাসীদের অস্ত্রের মহড়া

fff.jpg

নিজস্ব প্রতিবেদক |

হোয়াইক্যংএর কাঞ্জর পাড়ায় সন্ত্রাসীদের ফাঁকা গুলি বর্ষন ও বাড়ী ভাংচুর এর ঘটনায় আজ মঙ্গলবার ৫ অক্টোবর চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা ঘটনাস্থলে অস্ত্রের মহড়া দিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। গতকালের গুলি বর্ষনের ঘটনার পর ক্ষতিগ্রস্থ আব্দুররহীমের বাড়ীর আশ পাশ এলাকার প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে ঘুরাঘুরি করলে ও রহস্যজনক কারণে পুলিশ কোন ব্যাবস্থা নিচ্ছেনা।অভিযোগ রয়েছে অবৈধ অস্ত্রধারী নবী হোছন ওরফে লাদেন নবী হোছন দীর্ঘ দিন থেকে পুলিশের সোর্স পরিচয়ে এলাকায় মাদক ব্যাবসা,চুরি ডাকাতি করে আসছিল। লাদেন নবী হোছনের বিরুদ্ধে প্রায় ২ ডজন মামলা রয়েছে। তম্মধ্যে কয়েকটি মামলার গ্রেপ্তারী পরওয়ানা ও রয়েছে। পুলিশের সাথে হট রিলিশন থাকায় তাকে আইনের আওতায় আনছেনা। অপর তিন অস্ত্রধারী বেলাইয়্যা, জাহেদ, ইমান হোছন কিলিং কন্টাক্ট, সড়কে ব্যারিকেড দিয়ে ডাকাতি, চিংড়ি ঘের লুটপাটের ঘটনা সহ নানা অপরাধের হোতা বলে জানিয়েছে এলাকাবাসী। তাদের আটক করলে অবৈধ অস্ত্রের ভান্ডারের তথ্য সহ নানা গোপন তথ্য পাওয়া যেতে পারে। হোয়াইক্যং ইউপি চেয়ারম্যান এ ঘটনার গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে অবৈধ অস্ত্রধারীদের খুঁেজ বের করে দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবী করেছেন। কাঞ্জর পাড়ার সর্ব সাধারণ ও পুলিশের ভুমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
এব্যাপারে হোয়াইক্যং পুলিশের আইসি,এস.আই গোফরানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি লাদেন নবী হোছনের বহু মামলার কথা স্বীকার করে জানান, তাদের আটক ও অস্ত্র উদ্ধারে পুলিশ কাজ করছে।

উল্লেখ্য যে, কাঞ্জর পাড়ায় গত মঙ্গলবার রাতে এক কাকড়া ব্যাবসায়ী কে অস্ত্রের মুখে অপহরণের চেষ্টা করে চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা। অপহরণে ব্যার্থ হয়ে সন্ত্রাসীরা ২/৩ রাউন্ড ফাঁকা গুলি বর্ষণ ও ২টি বসত বাড়ীতে তান্ডব চালিয়েছে সন্ত্রাসীরা। গত ০৩ অক্টোবর রাত সাড়ে ৮ টায় কাঞ্জর পাড়ার রাইচ মিল সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।এঘটনায় এলাকায় আতংক বিরাজ করছে।
কাঞ্জর পাড়াস্থ কুনাপাড়ার ছৈয়দ হোছনের পুত্র মোঃ আব্দুররহীম বেশ কয়েক বছর ধরে নাফ নদী ও তৎলগ্ন চিংড়ি ঘেরের কাকড়া ক্রয় করে একটি পুকুরে কাকড়া চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছে। হতদরিদ্র পরিবারের আব্দুররহীমের কাকড়া চাষ করার পর একই এলাকার প্রতাপশালী মৃর্তু খলিল আহমদেও পুত্র হেলাল উদ্দিন প্রতিনিয়ত তার ঘের থেকে জোর করে কাকড়া নিয়ে আসত। এতে বাধা দেয়ায় সম্প্রতি গত ১০ মাস পূর্বে রহিম ও হেলাল গংদের সাথে বাড়াবাড়ি হত। উক্ত আব্দুররহীম‘র এহেন কর্মকান্ড নিয়ে এলাকায় বেশ কয়েকবার শালিশ ও হয়েছে। গত ২১/০৫/২০১৬ ইং তারিখে হেলালের কাকড়ার ঘের থেকে উক্ত হেলাল তার বাহিনী নিয়ে প্রায় ৪ লাখ টাকার কাকড়া লুট করে নিয়ে আসে। উক্ত ঘটনা নিয়ে উভয়ের মধে তখন বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষের ঘটনা ও ঘটে। এ বিষয়ে হেলাল ও অপর ৩জন কে বিবাদী টেকনাফ থানায় একটি জিডি করে। জিডি নং-৬৮৫, তারিখ ২২.০৫.১৬। এ বিষয়টি স্থানিয় চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ নুর আহমদ আনোয়ারী ও অবগত আছেন বলে জানান। উক্ত ঘটনার জের ধরে অদ্য ৩ অক্টোবর রাত ৮টা ১০ মিনিটে হেলাল উদ্দিনের নেতৃত্বে কাঞ্জর পাড়ার ত্রাস নবী হোছন ওরফে লাদেন নবী হোছন, ঝিমংখালীর বেলাইয়্যা, জাহেদ, ইমান হোছন ৪/৫ টি অবৈধ অস্ত্র শস্ত্র নিয়ে আব্দুররহীম কে অস্ত্রেও মুখে অপরণ করার পরিকল্পনা করে। রাত ৮ টায় আব্দুররহীম বাড়ির পাশে জনৈক গফুরের দোকানে আড্ডা করার সময় অতর্কিত ভাবে প্রকাশ্যে লোকারণে নবী হোছন ওরফে লাদেন নবী হোছন, ঝিমংখালীর বেলাইয়্যা, জাহেদ, ইমান হোছন তাদের হাতে থাকা অস্ত্র নিয়ে আব্দুররহীম কে ঘেরাও করে উস্ত্র উচিয়ে তুলে নিয়ে যাওয়ার সময় স্থানিয় জনতার প্রতিবাদেও মুখে তারা পালিয়ে যায়।এর কিছুক্ষন পর অস্ত্রধারী উক্ত সন্ত্রাসীরা আব্দুররহীমের বাড়িতে গিয়ে বাড়ির সামনে ২/৩ রাউন্ড ফাঁকা গুলি বর্ষন করে। পরে রহীমের বাড়ির দরজা,জানালা ও ঘেরা বেড়া কিরিছ দিয়ে কেটে দিয়ে তান্ড চালায়।এসময় রহীমের বৃদ্ধা মা মাহমুদা খাতুন ও বোন রুবিনা বেগম কে মারধর করে। উক্ত ঘটনার পর বর্তমানে আব্দুররহীম ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভোগছে। তার বাড়ীর আশ পাশে অবৈধ অস্ত্র নিয়ে অবস্থান করছে এই চিহ্নিত দুর্বৃত্তরা ।