ইনানীতে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি বিজড়িত পুকুরটি বেদখল

55-copy.jpg

মুহাম্মদ হানিফ আজাদ, উখিয়া |
কক্সবাজার জেলার উখিয়া উপজেলার ইনানীর চেনছড়ীতে বাঙ্গালী জাতির অবিসংবাদিত নেতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এসেছিলেন সেটা ৫৮ বছরের পুরোনো ইতিহাস। ইতিমধ্যে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি বিজড়িত স্থানে স্মৃতি জাদুঘর, মিউজিয়াম নির্মানসহ স্থানটি সংরক্ষন করার ঘোষনা দেওয়া হলেও তা সাইনবোর্ডের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।এরি মধ্যে স্থানীয় প্রভাবশালীরা দখল করে নিয়েছে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি বিজড়িত পুকুরটি সহ কিছু জায়গা। অজ্ঞাতবাসকালে বেদখলে যাওয়া পুকুরটিতে বঙ্গবন্ধু নিয়মিত গোসল ও অজু করতেন বলে জানান বঙ্গবন্ধুকে সহয়তাকারী প্রয়াত ফেলোরাম চাকমার নাতি রবি চাকমা।
সুত্রে জানা গেছে,কক্সবাজার জেলা শহর থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দক্ষিণে উখিয়া উপজেলার সাগর পাড়ের অরণ্যঘেরা ইনানীর চেনছড়ি গ্রামটি এখন ইতিহাসের অংশ।প্রায় ৫৮ বছর আগে ১৯৫৮ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এখানে অজ্ঞাতবাসে এসেছিলেন।সে সময় বঙ্গবন্ধুকে পরম মমতায় আগলে রাখেন চেনছড়ি গ্রামের আদিবাসী দাপুটে নেতা ফেলোরাম রোয়াজা চাকমা। তিনি ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অন্ধ ভক্ত। ইনানীতে এসে বঙ্গবন্ধু আদিবাসী নেতা প্রয়াত ফেলোরামের কাছে ছিলেন। রাতে তার ঘরে এবং দিনে থাকতেন অরণ্যের খামার বাড়ীতে। সে সময় বঙ্গবন্ধু বেদখল হয়ে যাওয়া পুকুরটিতে নিয়মিত অজু ও গোসল করতেন। ইতিমধ্যে সরকারের মন্ত্রী,প্রতিমন্ত্রী, কক্সবাজার জেলা প্রশাসকসহ সরকারের গুরুত্বর্পর্ণ আমলারা ইনানীর স্মৃতি বিজড়িত বঙ্গবন্ধুর অজ্ঞাতবাস স্থানে এসে পরিদর্শন পুর্বক তাতে জাদুঘর নির্মান, মিউজিয়াম নির্মানসহ স্থানটি সংরক্ষনের ঘোষনা দেন। দেখা করেন বঙ্গবন্ধুকে সহায়তাকারী প্রয়াত ফেলোরাম পরিবারেবর সদস্যদের সাথে। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ ব্যাক্তিদের দেওয়া সে ঘোষনা সাইনবোর্ডের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। এখনা দখলমুক্ত হয়নি বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি বিজড়িত পুকুরটিসহ স্থানটি। এ প্রসঙ্গে বঙ্গবন্ধুকে আশ্রয় দানকারী প্রয়াত ফেলোরাম চাকমার নাতি রবি চাকমা আক্ষেপ করে জানান, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা বর্তমানে রাষ্ট্র ক্ষমতায়, অথচ বঙ্গবন্ধু স্মৃতি বিজড়িত স্থান সমুহ এখনো প্রভাবশালীদের দখলে রয়েছে। তিনি জানান, সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যাক্তিরা গত ১০ বছর ধরে একের পর এক এখানে এসে শুধু আশ্বাসই দিয়ে যাচ্ছেন কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। নামমাত্র একটি সাইনবোর্ড লাগানো হলেও স্মৃতি চিহ্ন সংরক্ষনের কোন উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তাছাড়া তার দাদা প্রয়াত ফেলোরাম চাকমা বঙ্গবন্ধুকে পরম মমতায় আগলে রাখলেও তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়নি।উপরোক্ত স্থানীয় প্রভাবশালীরা দখল করে নিয়েছে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুুর সংস্পর্শ পাওয়া স্মৃতিগুলো। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মাঈন উদ্দিন বলেন,ইনানীর চেনছড়িতে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি বিজড়িত স্থান সংরক্ষনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, স্মৃতি বিজড়িত স্থানগুলো দখলমুক্ত করে তাতে জাদুঘর নির্মানের প্রক্রিয়াধীন চলমান রয়েছে।