হোয়াইক্যংএ সন্ত্রাসীদের ফাঁকা গুলি বর্ষন ও বাড়ী ভাংচুর-আহত-২

.jpg

অস্ত্রের মুখে অপহরণের চেষ্টা ব্যার্থ করে দিয়েছে জনতা
নিজস্ব প্রতিবেদক,টেকনাফ।
টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের কাঞ্জর পাড়ায় এক কাকড়া ব্যাবসায়ী কে অস্ত্রের মুখে অপহরণের চেষ্টা ব্যার্থ করে দিয়েছে জনতা। অপহরণে ব্যথ হয়ে ২/৩ রাউন্ড ফাঁকা গুলি বর্ষণ ও ২টি বসত বাড়ীতে তান্ডব চালিয়েছে সন্ত্রাসীরা। ৩ অক্টোবর রাত সাড়ে ৮ টায় কাঞ্জর পাড়ার রাইচ মিল সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।এঘটনায় এলাকায় আতংক বিরাজ করছে।
জানা যায়, কাঞ্জর পাড়াস্থ কুনাপাড়ার ছৈয়দ হোছনের পুত্র মোঃ আব্দুররহীম বেশ কয়েক বছর ধরে নাফ নদী ও তৎলগ্ন চিংড়ি ঘেরের কাকড়া ক্রয় করে একটি পুকুরে কাকড়া চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছে। হতদরিদ্র পরিবারের আব্দুররহীমের কাকড়া চাষ করার পর একই এলাকার প্রতাপশালী মৃত খলিল আহমদেও পুত্র হেলাল উদ্দিন প্রতিনিয়ত তার ঘের থেকে জোর করে কাকড়া নিয়ে আসত। এতে বাধা দেয়ায় সম্প্রতি গত ১০ মাস পূর্বে রহিম ও হেলাল গংদের সাথে বাড়াবাড়ি হত। উক্ত আব্দুররহীম‘র এহেন কর্মকান্ড নিয়ে এলাকায় বেশ কয়েকবার শালিশ ও হয়েছে। গত ২১/০৫/২০১৬ ইং তারিখে কাকড়ার ঘের থেকে উক্ত হেলাল তার বাহিনী নিয়ে প্রায় ৪ লাখ টাকার কাকড়া লুট করে নিয়ে আসে। উক্ত ঘটনা নিয়ে উভয়ের মধে তখন বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষের ঘটনা ও ঘটে। এ বিষয়ে হেলাল ও অপর ৩জন কে বিবাদী টেকনাফ থানায় একটি জিডি করে। জিডি নং-৬৮৫, তারিখ ২২.০৫.১৬। এ বিষয়টি স্থানিয় চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ নুর আহমদ আনোয়ারী ও অবগত আছেন বলে জানান। উক্ত ঘটনার জের ধরে অদ্য ৩ অক্টোবর রাত ৮টা ১০ মিনিটে হেলাল উদ্দিনের নেতৃত্বে কাঞ্জর পাড়ার ত্রাস নবী হোছন ওরফে লাদেন নবী হোছন, ঝিমংখালীর বেলাইয়্যা, জাহেদ, ইমান হোছন ৪/৫ টি অবৈধ অস্ত্র শস্ত্র নিয়ে আব্দুররহীম কে অস্ত্রেও মুখে অপরণ করার পরিকল্পনা করে। রাত ৮ টায় আব্দুররহীম বাড়ির পাশে জনৈক গফুরের দোকানে আড্ডা করার সময় অতর্কিত ভাবে প্রকাশ্যে লোকারণে নবী হোছন ওরফে লাদেন নবী হোছন, ঝিমংখালীর বেলাইয়্যা, জাহেদ, ইমান হোছন তাদের হাতে থাকা অস্ত্র নিয়ে আব্দুররহীম কে ঘেরাও করে উস্ত্র উচিয়ে তুলে নিয়ে যাওয়ার সময় স্থানিয় জনতার প্রতিবাদেও মুখে তারা পালিয়ে যায়।এর কিছুক্ষন পর অস্ত্রধারী উক্ত সন্ত্রাসীরা আব্দুররহীমের বাড়িতে গিয়ে বাড়ির সামনে ২/৩ রাউন্ড ফাঁকা গুলি বর্ষন করে। পরে রহীমের বাড়ির দরজা,জানালা ও ঘেরা বেড়া কিরিছ দিয়ে কেটে দিয়ে তান্ডব চালায়।এসময় রহীমের বৃদ্ধা মা মাহমুদা খাতুন ও বোন রুবিনা বেগম কে মারধর করে। এসময় রহীমের আত্বিয় স্বজন এগিয়ে আসলে তারা পালিয়ে যায়। উল্লেখ্য যে কাঞ্জর পাড়ার একটি বৈধ লাইসেন্সের অনুবলে সন্ত্রাসীরা কার্তুজ পেয়ে থাকে বলে অভিযোগ করেন।
ঘটনার পর হোয়াইক্যং পুলিশের আইসির নেতৃত্বে একদল পুলিশ ফোর্স ঘটনাস্থল কাঞ্জর পাড়ায় ছুটে যায়।পুলিশ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছে। স্থানিয় হোয়াইক্যং ইউপি চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মাওলানা নুর আহমদ আনোয়ারীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি গুলি বর্ষনের ঘটনা স্বীকার করে বলেন, দীর্ঘ দিন থেকে একটি সংঘবব্ধ চক্র অবৈধ অস্ত্র নিয়ে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করছে। টেকনাফ আইনশৃংখলা কমিটির সভায় তা জোরালো ভাবে তুলে ধরা হলে তার কোন প্রতিকার নেই বলে জানান।