চকরিয়া পৌর কাউন্সিলর অপহরণ মামলার আসামি মাদক সম্রাট বাবলু’র গ্রেফতার দাবিতে আল্টিমেটাম, কর্মবিরতি পালন

6655.jpg

এম.জিয়াবুল হক, চকরিয়া :
চকরিয়ায় ফিল্মি স্টাইলে অস্ত্রের মুখে পৌরসভার কাউন্সিলর নজরুল ইসলামকে অপহরণের ঘটনায় থানায় ১০জনকে আসামি করে একটি মামলা হলেও এখনো অভিযুক্ত আসামিরা ধরাচোঁয়ার বাইরে রয়েছে। তাঁরা দিব্যি এলাকায় বহাল তবিয়তে থেকে মামলার বাদি ভিকটিম পৌর কাউন্সিলর ও তার পরিবারকে নানাভাবে হুমকি দিচ্ছের বলে অভিযোগ উঠেছে। শনিবার থানা পুলিশের একটিদল অভিযান চালিয়ে মামলার আসামি রাসেল নামের একজনকে গ্রেফতার করলে এতে ক্ষিপ্ত হয়ে অভিযুক্ত অপরাপর আসামিরা বাদি কাউন্সিলর নজরুল ইসলামের বোনের বাড়িতে ঢুকে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর ও লুটপাট করেছে। ওইসময় কাউন্সিলরের বোন হুমায়রা বেগমকে পিটিয়ে হাতের দুটি আঙ্গুল ভেঙ্গে দিয়েছে অভিযুক্তরা। রোববার সকালে পৌরসভার সম্মেলন কক্ষে এসব অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী পৌর কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম। তিনি অভিযোগ করেন বলেন, মামলার অভিযুক্ত এক নম্বর আসামি জিয়াউদ্দিন বাবলু দীর্ঘদিন ধরে তার সহযোগিদের নিয়ে এলাকায় মাদকের সাম্রাজ্য গড়ে তুলে। তাদের একাধিক মাদকের আখড়া থেকে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার ইয়াবা, ফেন্সিডিল, গাঁজা, হিরোইনসহ বিভিন্ন ধরণের মাদক বেচাকেনা চলে আসছে।
নজরুল ইসলাম দাবি করেন, গত ২০ এপ্রিল অনুষ্টিত নির্বাচনে তিনি কাউন্সিলর নির্বাচিত হওয়ার পর জনগনকে সাথে নিয়ে এলাকাকে মাদকমুক্ত প্রচেষ্টা শুরু করেন। তখনই মাদক সম্রাট জিয়াউদ্দিন বাবলু ও তার সহযোগিরা মিলে তাকে (কাউন্সিলর) মেরে ফেলার জন্য পরিকল্পনা নেয়। ওই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সর্বশেষ বুধবার (২৮ সেপ্টেম্বার) রাত আনুমানিক ১২টার সময় চকরিয়া পৌরবাস টার্মিনালের অদুরে নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে বাড়িতে যাওয়ার পথে জিয়াউদ্দিন বাবলু’র নেতৃত্বে তিনটি মোটর সাইকেল, একটি সাদা রংয়ের কার গাড়ি ও একটি কালো রংয়ের জীপ করে ১৫-২০ জনের মুখোশ পরিহিত অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী তার সামনে এসে ফাঁকাগুলি ছুড়তে শুরু করে। ওইসময় অনেকটা ফিল্মি স্টাইলে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে সন্ত্রাসীরা। তাকে (কাউন্সিলর) গাড়িতে তুলে অপহরণ করে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেন নজরুল ইসলাম। ঘটনার সময় তার হাতে থাকা ৪লাখ ৭০হাজার টাকা ভর্তি একটি ব্যাগও ছিনিয়ে নেয় হামলাকারীরা।
পৌর কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম বলেন, তাকে অপহরণের ঘটনায় তিনি বাদি হয়ে ২৯ সেপ্টেম্বর সকালে চকরিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মাদক ব্যবসায়ী জিয়াউদ্দিন বাবলুকে এক নম্বর আসামি করে ১০জনের নাম উল্লেখ্য ও আরো সাতজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয় মামলায়। শনিবার ( ১ অক্টোবর) চকরিয়া থানা পুলিশ মামলার এজাহারনামীয় আসামি নিজপানখালী গ্রামের নাজের হোসেনের ছেলে রাসেলকে গ্রেফতার করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মামলার অপরাপর আসামি ও গ্রেফতারকৃত রাসেলের ভাই সালাহ উদ্দিন ওরফে সাল্লু, সাহাবউদ্দিনসহ ১৫-২০জনের অস্ত্রধারী আমার বোনের বাড়িতে হামলা করে। তাঁরা বাড়িতে ঢুকে ব্যাপক ভাংচুর ও লুটপাটের পর আমার বোন হুমায়রা বেগমকে পিটিয়ে গুরুতর জখম করেন। এতে তার হাতের দুটি আঙ্গুল ভেঙ্গে গেছে। বর্তমানে মামলার প্রধান আসামি জিয়াউদ্দিন বাবলু ও তার অপরাপর সহযোগিরা এলাকায় বহাল তবিয়তে থেকে তাকে নানাভাবে হুমকি ধমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ তুলেন কাউন্সিলর নজরুল।
এদিকে পৌরসভার ৯নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলামকে অস্ত্রের মুখে অপহরণের ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি শহরের অন্যতম র্শীষ মাদক সম্রাট জিয়াউদ্দিন বাবলুকে অবিলম্বে গ্রেফতার দাবিতে তিনদিনের আল্টিমেটাম ঘোষনা করেছেন পৌরসভার মেয়র ও চকরিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক আলমগীর চৌধুরী। মঙ্গলবারের মধ্যে পুলিশ প্রশাসন তাকে গ্রেফতার করতে ব্যর্থ হলে এব্যাপারে পরবর্তীতে কঠোর কর্মসুচী দেয়ার কথা জানান তিনি। পৌর মেয়রের আল্টিমেটাম ঘোষনার সাথে একাত্ম প্রকাশ করে পৌরসভার সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী রোববার দুপুর দুইটা থেকে বিকাল চারটা পর্যন্ত দুইঘন্টার কর্মবিরতি পালনের ঘোষনা দেন পৌরসভা কর্মকর্তা-কর্মচারী পরিষদের সভাপতি বশির আহমদ। ওইসময় উপস্থিত ছিলেন পৌরসভার সচিব মাস-উদ মোর্শেদ, নারী কাউন্সিলর রাশেদা বেগম, রাজিয়া সুলতানা খুকুমনি, আঞ্জুমান আরা বেগম, ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মকছুদুল হক মধু, ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর রেজাউল করিম, ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বশিরুল আইয়ুব, ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর জাফর আলম কালু, ৫নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর জিয়াবুল হক, ৬নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ফোরকানুল ইসলাম তিতু ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মুজিবুল হক মুজিব।
জানতে চাইলে চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.জহিরুল ইসলাম খাঁন বলেন, ঘটনার পর থেকে মামলার অভিযুক্ত আসামিরা গ্রেফতার এড়াতে অন্যত্র পালিয়ে গেছে। তারপরও পুলিশের অভিযানে শনিবার মামলার আসামি রাসেল নামের একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি বলেন, পুলিশ অপহরণের ঘটনায় অভিযুক্ত সকলকে আসামিকে গ্রেফতার করবে। এইজন্য পুলিশের কয়েকটি অভিযান টিম মাঠে কাজ করছেন।