দুতের্তের মন্তব্য : হিটলার মেরেছে ইহুদি আমি মারব মাদকসেবী

f.jpg

অনলাইন ডেস্ক |
ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতের্তে তার সরকারের মাদকবিরোধী অভিযানকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে হিটলারের ইহুদি নিধনের সঙ্গে তুলনা করেছেন। তিনি বলেন, হিটলারের ব্যাপক ইহুদি হত্যাকাণ্ডের মতো আমিও দেশের অনেক মাদকসেবীকে হত্যা করেছি। দুতের্তে আরও বলেন, হিটলার ৩০ লাখ ইহুদিকে হত্যা করেছে। দেশে এখন ৩০ লাখ মাদকসেবী রয়েছে। তাদের হত্যা করতে পারলে আমি খুশি হব। শুক্রবার সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন দুতের্তে। খবর বিবিসির। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় প্রায় ৬০ লাখ ইহুদিসহ অন্যান্য সংখ্যালঘু ধর্মাবলম্বী মানুষ হত্যা করে হিটলারের নাৎসি সরকার। জুন মাসে ক্ষমতায় বসার পর থেকে মাদকসেবী ও মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন দুতের্তে। সরকারি তথ্যমতে, এ অল্প সময়ের মধ্যে ৩ হাজারের অধিক মাদক কারবারিকে হত্যা করেছে দেশটির পুলিশ। এসব ব্যক্তির লাশ জনসম্মুখে ফেলে রেখে দেশটির সরকার অপরাধমূলক কাজে জড়িত থাকার অভিযোগ দায়ের করেছে। আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলোর ব্যাপক সমালোচনা ও চাপের পরিপ্রেক্ষিতেও দুতের্তে তার মাদকবিরোধী অভিযান থেকে সরে না আসার ঘোষণা দিয়েছেন।
সরকারি তথ্যানুসারে, ফিলিপাইনে প্রায় ১৮ লাখ মাদকাসক্ত রয়েছে, যা মোট জনশক্তির ১ দশমিক ৮ শতাংশ। দুতের্তে দৃঢ়কণ্ঠে বলেন, ফিলিপাইন থেকে অপরাধ দূর করতে আমি ১ লাখ অপরাধী হত্যা করতে চাই। নিজ শহর দাভাওয়ে তিনি এসব কথা বলেন। যে শহরের মেয়র স্বয়ং দুতের্তের এ অভিযানের বিরুদ্ধে।
নিজের দিকে নির্দেশ করে দুতের্তে বলেন, জার্মানির ছিল হিটলার। ফিলিপাইনের রয়েছি আমি। তিনি আরও বলেন, আমার শিকার কারা আপনারা জানেন। আমি দেশের সমস্যা সমাধানে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে নরকবাস থেকে রক্ষা করতে সব অপরাধী নিধন করতে চাই।’
এদিকে, দুতের্তের এমন বক্তব্যর নিন্দা জানিয়েছে ইহুদিরা। সাইমন উইসেন্থাল সেন্টারের ডিজিটাল টেরোরিজম অ্যান্ড হেট প্রজেক্টের প্রধান রাব্বি আব্রাহাম কুপার একে ‘ভয়ানক’ বলে অভিহিত করে বলেন, ‘দুতের্তের উচিত তার গণহত্যার শিকারদের প্রতি ক্ষমা চাওয়া। যুক্তরাষ্ট্রে ইহুদিদের আন্তর্জাতিক সংগঠন অ্যান্টি-ডিফেমেশন লীগের পরিচালক টড গুটনিক বলেন, ‘হিটলারের মতো একজন দানবের সঙ্গে মাদকসেবী ও মাদক ব্যবসায়ীদের নির্বিচারে হত্যাকাণ্ডের শিকারদের তুলনা করাটা অত্যন্ত অনুপযোগী এবং অত্যন্ত আক্রমণাত্মক। দুতের্তের মাদকবিরোধী অভিযানের সমালোচনা করে আসছে অনেকেই। এমনকি ইউরোপীয়রা তাকে ‘ভণ্ড’ বলেও আখ্যা দিয়েছেন। এর জবাবে তিনি বলেন, তোমরা দরজা বন্ধ করে দিয়েছে। অথচ এখন শীত মৌসুম।
মধ্যপ্রাচ্য থেকে অভিবাসন প্রত্যাশীরা পালিয়ে আসছে। তোমরা তাদের ধ্বংস করছ আর এক হাজার, দুই হাজার অথবা তিন হাজারের মৃত্যুতে উদ্বেগ প্রকাশ করছ।