টেকনাফে এক ডিলারের বিরুদ্ধে সার বিক্রয়ে অনিয়মের অভিযোগ

.jpg

জামাল উদ্দিন, টেকনাফ |
টেকনাফের হোয়াইক্যং এন্টারপ্রাইজের সার ডিলারের বিরুদ্ধে সার বিক্রয়ে নানা অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। জানা যায় টেকনাফের হোয়াইক্যং এন্টারপ্রাইজের স্বত্ত্বাধিকারী মোস্তাক আহমদ সরকার নির্ধারিত মূল্য বাদ দিয়ে উচ্চ দামে সার বিক্রি করে কৃষকদের হয়রানী করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
তথ্যানুসন্ধান ও খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত আগষ্ট মাসে হোয়াইক্যং এন্টারপ্রাইজ সার বরাদ্দ পায় ৪০ মেঃ টন। সরকারী মূল্য অনুযায়ী ইউরিয়া সার প্রতি বস্তা ৮শ টাকা, টিএসপি ১১শ টাকা, এমওপি ৭শ টাকা ও ডিএপি ১২শ৫০ টাকা বিক্রি করা নিয়ম থাকলেও উক্ত ডিলার কারসাজি করে সারের মূল্য নিচ্ছে ইউরিয়া সার প্রতি বস্তা ৯শ ৫০টাকা থেকে ১১ শ টাকা, টিএসপি প্রতি বস্তা ১১শ থেকে ১৩শ ৫০ টাকা, এমওপি ৭শ টাকা থেকে ১২শ ৫০ টাকা ও ডিএপি প্রতি বস্তা ১২শ ৫০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১৭শ ৫০ টাকা পর্যন্ত দাম নিচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে কৃষকদের সূত্রে।
হোয়াইক্যং ইউনিয়নটি অন্যান্য ইউনিয়নের চাইতে বহু গুনে বেশি কৃষি বান্ধব হওয়ায় এই ইউনিয়ন সাধারণত জুম চাষ, ধান চাষ ও চিংড়ী চাষের পাশাপাশি রবি শস্য ও শীতকালীন চাষাবাদ বেশি হয় বলে সারের চাহিদা বেশি।
কিন্তু একজন ডিলার হওয়ায় সেখানে বাধ্য হয়ে সারের মূল্য বেশি দিতে হচ্ছে কৃষকদের। এতে করে সরকারের নিয়মের পরিপন্থী কাজ করায় জন দূর্ভোগ বাড়ছে। সরকার কৃষকদের দূর্ভোগ লাঘবে ডিলারশীপের মাধ্যমে ন্যায্য মূল্যে সার পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তা না হলে চাল বিতরণের মত সারও ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে বিক্রয় ও বিতরণ করতে পারত।
খোঁজ নিয়ে আরো জানা গেছে মোস্তাক ডিলারের মত উপজেলার অন্যান্য ডিলারারও একই নিয়মে সার বরাদ্দ পেয়েছে। কিন্তু তাদের ডিলারশীপে এখনও প্রচুর পরিমাণ সার অবিক্রিত রয়ে গেছে। হোয়াইক্যং এন্টারপ্রাইজ আগষ্ট মাসে তার বরাদ্দ পাওয়া সার বিক্রি করে অনেকবার সরকারী নিয়ম বর্হিভূতভাবে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ট্রাকে ট্রাকে সার এনে চড়া মূল্যে বিক্রি করছে। এতে করে কৃষকদের লাখ লাখ টাকা গচ্ছা যাচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
হোয়াইক্যং নয়াবাজার এলাকার কৃষক মুহাম্মদ আলম, ঘিলাতলী এলাকার মীর কাসেম, লম্বাবিল এলাকার আইয়ুব, আমতলী এলাকার মুহাম্মদ হোছন, কম্বনিয়া পাড়ার নুরুল ইসলাম, রইক্ষং এলাকার মুহাম্মদ আলী, এ প্রতিবেদককে অভিযোগ করে বলেন, হোয়াইক্যংয়ে সার ডিলার একজন হওয়ার কারণে চড়া মূল্যে সার বিক্রি করলেও নিরূপায় হয়ে আমাদের সার কিনতে হচ্ছে। এছাড়াও উক্ত ডিলারশীপের আওতায় একই দোকানে সারের পাশাপাশি মুদির দোকানের মালামাল ও কীটনাশক নিয়ম বহির্ভূত ভাবে বিক্রি করছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। তাছাড়া উক্ত মোস্তাক আহমদ ডিলার ও তার ম্যানেজার নবী হোছন মোবাইল কন্ট্রাকশনের মাধ্যমে ডিলার শীপের অভ্যন্তরে ৩টি মোবাইল নাম্বার যথাক্রমে ০১৭১৫-৭৩৯০১৩, ০১৮১৯-০৪৪২১৫ ও ০১৮১১-৬৩৭৩৭৭ এর মাধ্যমে মিয়ানমারে হুন্ডির টাকা পাচার ও ইয়াবা ব্যবসার টাকা আদান প্রদানেরও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। উক্ত মোবাইল নাম্বার ৩টি যাচাই বাছাই করলে কি কাজে ব্যবহার হচ্ছে তা সম্পূর্ণভাবে জানা যাবে বলে বিশ্বস্থ সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
এছাড়াও ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডে একেক জন করে খুচরা সার ডিলার থাকলেও তাদের কার্যক্রম কাগজে কলমে সীমাবদ্ধ। সাব সার ডিলাররা তাদের ওয়ার্ড ভিত্তিক সার বরাদ্দ না দিয়ে খুচরা ডিলারদের কিছু পার্সেটিসের মাধ্যমে ম্যানেজ করে সার গুলি নিজের আওতায় রেখে চড়া মূল্যে বিক্রি করছে।
এ ব্যাপারে হোয়াইক্যং এন্টারপ্রাইজের স্বত্ত্বাধিকারী মোস্তাক আহমদ সওদাগরের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি যদিও বা ন্যায্য মূল্যে সার বিক্রির কথা বললেও মাঠে ময়দানে বাস্তবে তার বিপরীত। তবে ন্যায্য মূল্যোর ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে ইউএনও এবং কৃষি অফিসারকে পার্সেন্টিস দিতে হয়; কিভাবে আমরা ন্যায্য মূল্যে সার বিক্রি করব? তবে হুন্ডির টাকা পাচারের কথা অস্বীকার করেন তিনি। এ ব্যাপারে টেকনাফ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ শহীদুল ইসলাম বলেন-বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। অনিয়ম পেলে বিহীত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।