অফিস আছে নেই পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা কর্মচারী

a7129ba53665c27afaa540b9aa42ac7c.jpg

আবুল কালাম আজাদ, টেকনাফ |
দীর্ঘ ৫ বছর পার হলেও টেকনাফ উপজেলায় পরিবেশ অধিদপ্তরের কোন কর্মকর্তা কর্মচারী নেই। রয়েছে শুধু অফিস। ফলে প্রতিনিয়ত প্রতিদিন বিভিন্ন স্থানে পরিবেশ মারাতœকভাবে লঙ্গিত হচ্ছে। তৎমধ্যে পৌরসভার বিভিন্ন করাতকল, বিভিন্ন বেকারীর কারখানা, বিভিন্ন বর্জ্য পদার্থ, যেখানে সেখানে বাড়ি ও দোকানপাট নির্মান, বিভিন্ন বনের গাছ কর্তন, সমুদ্র চরে শামুক ঝিনুক কুড়ানো, কারেন্ট জাল দিয়ে মাছ আহরন, বিভিন্ন প্রজাতীর পোনা নষ্টকরন ইত্যাদি বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের বিশেষ নজরদারীর প্রয়োজন।

কিন্তু টেকনাফ উপজেলায় দীর্ঘ দিন পর্যন্ত পরিবেশের কোন কর্মকর্তা কর্মচারী না থাকায় উল্লেখিত বিষয় সমুহে কোন তদারকি নেই। ফলে প্রতিদিন প্রতিনিয়ত লঙ্গিত হচ্ছে পর্যটক নগরী টেকনাফের পরিবেশ।

টেকনাফ সদর ইউনিয়নের কেরুনতলীস্থ পরিবেশের কার্যালয় পরির্দশনে দেখা যায়, সরকারী বিপুল অর্থ দিয়ে তৈরী করা পরিবেশ অধিদপ্তরের কার্যালয়টি বন্ধ রয়েছে। পরিবেশের কার্যালয় ও ডরমেটরির দরজার তালা গুলো মরচে ধরেছে।

স্থানীয় লোকজন জানায়, বিগত ৫/৬ বছর আগে অতি ধুমধামে সাথে পরিবেশের কর্মকর্তাদের জন্য অত্যাধুনিক কার্যালয় ও আবাসিক ভবন নির্মান করা হয় । এটি নির্মান শেষে পরিবেশ কর্মকর্তা কর্মচারীদের পদাচারণ হয়েছিল। তারা টেকনাফের বিভিন্ন স্থানে পরিবেশের উপর ভাল ভাল কাজ করে প্রশংসা কুড়িয়েছিল। ২/৩ বছরের মাথায় হঠাৎ করে সকল কর্মকর্তা কর্মচারী চলে যায়। শূণ্য হয়ে পড়ে কার্যালয় ও আবাসিক ভবন। বর্তমানে এই ভবন গুলো একমাত্র দেখার জন্য স্থানীয় একজন বৃদ্ধ লোক দেখা শুনা করে তার নাম রশিদ।

তার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, মাঝে মধ্যে কক্সবাজার থেকে শরিফুল স্যার আসে আবার চলে যায়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সরদার শরিফুল ইসলাম হচ্ছে পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক। তিনি কক্সবাজার জেলার দায়িত্ব প্রাপ্ত। তার সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে সংযোগ না পাওয়ায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

এদিকে সব চেয়ে পরিবেশের ঝুকিতে রয়েছে টেকনাফের বিভিন্ন নদ-নদী, সমুদ্র সৈকত ও সেন্টমাটিন দ্বীপ। নদ নদী গুলোতে বিভিন্ন বর্জ্য পদার্থ ফেলে পরিবেশ নষ্ট করছে।
এর পাশাপাশি সেন্টমাটিন দ্বীপে প্রতিদিন পর্যটকদের ব্যবহ্নত বর্জ্য পদার্থ সংগ্রহ করে ফেলা হচ্ছে সাগরে। এতেও নষ্ট হচ্ছে পরিবেশ।

অপরদিকে পরিবেশ মন্ত্রনালয় কর্তৃক সেন্টমাটিন দ্বীপে বাড়ি ঘর ও অট্রালিকা দালান নির্মান সম্পুর্ণ নির্ষিদ্ধ থাকলেও ইদানিং প্রতিযোগীতার মাধ্যমে চলছে এর নির্মান কাজ। দ্বীপের লোকজন জানিয়েছেন, সেন্টমাটিনে পরিবেশের লোকজন না থাকায় দ্বীপে থাকা প্রবাল পাথর, ভেংগে বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ দেওয়া হচ্ছে। কেটে সাবাড় করা হচ্ছে ছিরা দ্বীপের গাছ পালা। এক কথায় বলতে গেলে টেকনাফে দীর্ঘ দিন পর্যন্ত পরিবেশের লোকজন না থাকায় মারাতœক ভাবে লঙ্গিত হচ্ছে পরিবেশ।