চকরিয়ায় ফিল্মি কায়দায় ওয়ার্ড কাউন্সিলর অপহরণের দুই ঘন্টা পর উদ্ধার

6666.jpg

এম.জিয়াবুল হক, চকরিয়া
কক্সবাজারের চকরিয়ায় নিজের ব্যবসা প্রতিষ্টান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার পথে ফিল্মি স্টাইলে অস্ত্রের মুখে অপহরণের শিকার হয়েছেন পৌরসভার ৯নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি নজরুল ইসলাম। ঘটনার খবর পেয়ে চকরিয়া থানার ওসি জহিরুল ইসলাম খাঁন ও পুলিশ পরিদর্শক তদন্ত মো.কামরুল আজমের নেতৃত্বে পুলিশের তিনটি টিম এবং পৌরসভার মেয়র আলমগীর চৌধুরী ও অপরাপর কাউন্সিলরা যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে অপহরণের দুইঘন্টা পর গুরুতর আহতবস্থায় অপহৃত কাউন্সিলরকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন। পুলিশের অভিযানে ওইসময় অপহরণে ব্যবহৃত একটি জীপ গাড়ি,একটি ধারালো দা, ও বস্তা জব্দ করা হয়েছে। বর্তমানে কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম স্থানীয় একটি বেসরকারী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে আহত কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম বলেন, বুধবার রাত ১২টার চকরিয়া পৌরবাস টার্মিনালের অদুরে নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে বাড়িতে যাচ্ছিলেন। এসময় তিনটি মোটর সাইকেল, একটি সাদা রংয়ের কার গাড়ি ও একটি কালো রংয়ের জীপ করে ১৫-২০ জনের মুখোশ পরিহিত অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী তার সামনে এসে ফাঁকাগুলি ছুড়তে শুরু করে। হঠাৎ গুলির শব্দ শুনে দিকবিদিক ছুটতে থাকে আশপাশের ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষ। এর ফাঁকে অনেকটা ফিল্মি স্টাইলে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তাকে গাড়িতে তুলে অপহরণ করে নিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা।
অপহৃতের চাচা রহুল আমীন মেম্বার জানান, ঘটনার পরপর থানা পুলিশ ও পৌরসভার মেয়র এবং অপরাপর কাউন্সিলরদের সহযোগিতায় এদিন রাত ২ টার দিকে উপজেলার চিরিংগা ইউনিয়নের চরণদ্বীপস্থ চর্বিকাটা এলাকা থেকে কাউন্সিলর নজরুলকে মুমুর্ষ অবস্থায় জনতার সহায়তায় উদ্ধার করা হয়। তিনি জানান, কাউন্সিলরকে নিয়ে অস্ত্রধারীরা দুর্গম চিংড়ি জোন এলাকার দিকে যাওয়ার সময় ভাঙ্গা সড়কের কাঁদায় আটকে পড়ে গাড়িটি। ওই ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত হলেই অপহরণকারী চক্র ওই জীপসহ কাউন্সিলর নজরুলকে ফেলে পালিয়ে যায়।
চকরিয়া থানার ওসি (তদন্ত) মো.কামরুল আজম বলেন, পৌরসভার কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম অপহৃরণের ঘটনা শোনার পরপর মহাসড়কে চলাচলরত বিভিন্ন গাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। পাশাপাশি উপজেলার অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোতে পুলিশি টহল জোরদার করা হয়। পরে অপহরণকারীরা পুলিশি অভিযান টের পেয়ে অপহৃত নজরুল ইসলামকে উপজেলার চিরিংগা ইউনিয়নের চরণদ্বীপ¯’ চর্বিকাটা এলাকায় ফেলে চলে যায়। এরপর সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়।
চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.জহিরুল ইসলাম খাঁন বলেন, কাউন্সিলর নজরুল ইসলামকে অপহরণের ঘটনায় বৃহস্পতিবার সকালে থানায় ১০জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা রুজু করা হয়েছে। কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম বাদি হয়ে মামলাটি দায়ের করেছেন। তিনি বলেন, অভিযুক্ত এজাহারনামীয় আসামিদেরকে গ্রেফতারে পুলিশের চেষ্টা চলছে।
স্থানীয় সুত্র জানিয়েছেন, কাউন্সিলর নজরুল ইসলামের সাথে মাদক ব্যবসায় বাঁধা দেয়ার জের ধরে জিয়াউদ্দিন বাবলু নামের এক পরিবহন শ্রমিক নেতার মধ্যে বিরোধ রয়েছে। নজরুল ইসলামের অভিযোগ, মুলত অবৈধ মাদক ব্যবসা বন্ধে এলাকায় প্রতিবাদ করার কারনে প্রতিপক্ষের লোকজন তাকে অপহরণের চেষ্টা করেছে।
এদিকে কাউন্সিলর নজরুল ইসলামকে উদ্ধারের পর বৃহস্পতিবার সকালে মামলা দেয়ার জন্য তাঁর সাথে চকরিয়া থানায় যান চকরিয়া পৌরসভার মেয়র ও উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক আলমগীর চৌধুরী ও পৌরসভার অন্য কাউন্সিলরবৃন্দ। ওইসময় মেয়র বলেন, কাউন্সিলর নজরুল ইসলামকে অপহরণের ঘটনায় জড়িত সকল আসামিকে অবিলম্বে গ্রেফতার করতে হবে। এব্যাপারে পুলিশ প্রশাসন তড়িৎ প্রদক্ষেপ গ্রহন না করলে পৌরসভার পক্ষ থেকে আন্দোলনের কর্মসুচী দেয়া হবে। তিনি বলেন, পৌরসভা এলাকায় কোন ধরণের মাদক ব্যবসা থাকতে পারবেনা। এ জন্য শুদ্ধি অভিযান পরিচালনা করা হবে।