হোয়াইক্যং ইউনিয়নের রইক্ষ্যং উত্তর পাড়ায় যুগযুগ ধরে খালে ব্রীজ নেই

876543-1.jpg

ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের সাঁকো দিয়ে চলাচল করছে এলাকাবাসী
মুহাম্মদ তাহের নঈম |
টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের উনছিপ্রাং ৩নং ওয়ার্ডের রইক্ষ্যং উত্তর পাড়া একটি জনবহুল গ্রাম। এ গ্রামে ২টি জামে মসজিদ, ২টি ফোরকানিয়া মাদ্রাসা, ১টি বিট অফিস সহ প্রায় ৩ শতাধিক পরিবারের বসবাস। এই গ্রামের মানুষের যাতায়াতের কয়েকটি রাস্তা রয়েছে। মাঝখানে রয়েছে “রইক্ষ্যং খাল” নামক একটি প্রবাহমান খাল। খাল সৃষ্টির পর এবং বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার ৪৫ টি বছর পেরিয়ে গেলেও জনপ্রতিনিধিদের খাম খেয়ালীর কারণে এই খালের উপর এখনো পর্যন্ত একটি ব্রীজ নির্মিত হয়নি। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর অনেক জনপ্রতিনিধি ৫ বছর, ১০ বছর, ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকলেও ভাগ্যের নির্মম পরিহাস অবহেলিত রইক্ষ্যং নামক গ্রামের মানুষের ভাগ্যে জুটেনি একটি ব্রীজ। নেই কোন সংযোগ সড়কও। ফলে ব্রীজের অভাবে বাঁশের সাঁকো দিয়ে যুগ যুগ ধরে ঝুঁকি নিয়ে পারপার করতে গিয়ে স্কুল,মাদ্রাসাগামী ছাত্র-ছাত্রী ও সর্ব সাধারণের ভোগান্তির যেন শেষ নেই। অপর দিকে ব্রীজ বা সংযোগ সড়ক নির্মানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষেরও কোন উদ্যোগ নেই।
জানা যায়, রইক্ষ্যং এলাকার জন্য ২০১৫ সালের শুরুর দিকে বিদেশী অর্থায়নে এলজিইডির তত্বাবধানে প্রায় ১ কোটি ২৯ লাখ টাকা ব্যায়ে বর্ষার পানি ধরে রাখার জন্য রাবারডেম বা ক্রস বাঁধ নামে একটি বাঁধ নির্মানে উদ্যোগ নেয়। একটি কনসালটেন্ট অরগনাইজেশন খালের কোন জায়গায় বাঁধের স্থাপনা, অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে, তা সম্ভাব্যতা যাচাই করার জন্য সরেজমিনে আসেন। স্থানিয় হোয়াইক্যং ইউপি চেয়ারম্যান ও সাবেক মেম্বার বাঁধ নির্মানের স্থান ঠিক করতে জনস্বার্থের প্রতি গুরুত্ব না দিয়ে বরং দলীয় লোকজনের সুবিধার কথা বিবেচনা করে খালের উপরি ভাগে বাঁধ দিতে সব কিছু পাকাপোক্ত করে ফেলে। রইক্ষ্যং এলাকার মানুষের জনদাবী উপেক্ষা করে বর্তমানে কাজ চলছে। কাজের মান নিয়ে যথেষ্ট অভিযোগ ও রয়েছে। তবে এলাকাবাসীর মতে, যেখানে রইক্ষ্যং উত্তর পাড়ার মানুষ ঝুঁকি নিয়ে সাঁকোর উপর দিয়ে চলাচল করছে, সে স্থানে ক্রসবাঁধ নির্মাণ করা হলে একদিকে চাষাবাদ অপর দিকে মানুষের যাতায়তের জন্য ছিল একটি সুবর্ণ সুযোগ। তা হাতছাড়া করেছে চেয়ারম্যান মেম্বাররা। এমনটিই দাবী করেছেন রইক্ষ্যং এলাকার মৌঃ নজুম উদ্দিন, আলী আজগর, বদিআলম, হাকিম আলী সহ অনেকে। বর্তমান ৩ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুল বাছেত জানান, মেম্বার না হয়ে ও তৎকালে এলাকার স্বার্থে অনেক প্রতিবাদ করেছি। বর্তমানে আমি জনগনরে ভোটে নির্বাচিত হবার পর জনগনের ঋন শোধ করতে উত্তর পাড়ার খালের উপর ব্রীজ নির্মাণ করতে উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তার বরাবরে আবেদন করেছি। বিষয়টি এলাকার সংসদ সদস্য আব্দুর রহমান বদির নিকট ও শরনাপন্ন হয়েছি। আশা করি এবার ব্রীজ হয়ে যাবে। এব্যাপারে হোয়াইক্যং ইউপি চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মাওলানা নুর আহমদ আনোয়ারীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বাজেট বড় হওয়ায় নির্মান করা সম্ভব হচ্ছেনা, এবার হয়ে যাবে। তবে ক্রসবাঁধ নির্মানে আমাদের কোন হাত ছিলনা বলে জানান তিনি।