টেকনাফে মাদকে ছড়াছড়ি : কার্যক্রমহীন হয়ে পড়েছে মাদক নিয়ন্ত্রণ অফিস

madak_tt-pic.jpg

আবুল কালাম আজাদ, টেকনাফ |
টেকনাফে ইদানিং মাদক দ্রব্যে ভাসছে। হাত বাড়ালে পাওয়া যায়। অথচ মুল মাদকের অফিস নিন্ত্রিয় হয়ে পড়েছে। স্থানীয় লোকজন বলাবলি করছে, ঢাল নেই, তলোয়ার নেই, নিদিরাম সর্দার টেকনাফ মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রন অফিস।
সুত্র জানায়, মুল মাদক নিয়ন্ত্রণ করা দায়িতœ বাংলাদেশ মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রন অফিসের। সারা বাংলাদেশে এই দপ্তরের অসংখ্যা অফিস ও লোকবল রয়েছে। যেখানে মাদক সেখানে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণের টিম উপস্থিত হয়ে মাদক আটক করছে। এছাড়া রয়েছে যেখানে মাদক দ্রব্যের বিস্তার বেশি সেখানে উক্ত দপ্তর স্পেশাল টীম গঠন করে অভিযান পরিচালনা করে থাকে। মাদকের মুল আইন গুলো তাদের হাতে গড়া। বাংলাদেশের লোক সংখ্যা বৃদ্ধির কারনে মাদকের বিস্তার বেড়ে যাওয়া দেশের অন্যন্যা আইন শৃংখলা বাহিনীকে তাদেরকে সহযোগীতা করার জন্য এই ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। অথচ মুল আইনের রক্ষক হচ্ছে বাংলাদেশ মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তর। অতীতে সমগ্র দেশের মাদক প্রতিরোধে আইন প্রযোগ করত এক মাত্র মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। সাম্প্রতিক সময়ে এই দপ্তর নিন্ত্রিয় হয়ে পড়েছে। এর মুল কারন হচ্ছে এদের ভাষ্য হচ্ছে দেশের অপরাধ প্রবনতা বেড়েই চলেছে। সাথে বাড়ছে অত্যাধুনিক আগ্নেয়সন্ত্র। এদেরকে নিয়ন্ত্রন করার মত তাদের কোন অন্ত্র নেই। পাবলিকের মত বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করতে হয়। নেই কোন যানবাহন। এছাড়া রয়েছে লোকবলের মারাতœক সংকট। বর্তমানে তারা অন্যন্যা আইন প্রযোগকারী সংস্থা কর্তৃক আটককৃত মাদক দ্রব্য জমা নেওয়া ছাড়া আর কোন কাজ নেই। এতেও আইন প্রযোগকারী সংস্থা কর্তৃক আটককৃত মালামাল জমা রাখলেও নিজস্ব কার্যালয় থেকে চুরি হয়ে যায়। যা লোকজন এর নাম দিয়েছে পুকুর চুরি। কক্সবাজার জেলায় মাদকের বিস্তার সব চেয়ে বেশি হচ্ছে দুটো উপজেলা একটি হচ্ছে রামু অপরটি হচ্ছে সীমান্ত উপজেলা টেকনাফ। দীর্ঘ দিন পর্যন্ত রামু উপজেলার মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অফিস সার্কেল অফিস হিসেবে টেকনাফে অফিস না থাকায় ঐখান থেকে নিয়ন্ত্রণ করত। ২০১৪ সালে টেকনাফে মাদকের বিস্তার অর্থাৎ ইয়াবা ট্যাবলেট ব্যাপক আকারে বেড়ে যাওয়ায় উক্ত দপ্তরের উর্ধতনের নির্দেশে টেকনাফে নিজস্ব অফিস স্থাপিত হয়। অফিস স্থাপিত হওয়ার পর উক্ত অফিসের লোকজন কিছু কিছু অভিযান চালিয়ে লোকজনের প্রসংশা কুড়ালেও সাম্প্রতিক সময়ে উক্ত অফিসে বড় চুরি হওয়ায় উক্ত প্রসংশা গুড়ো বালিতে পরিনত হয়। এর পর হতে উক্ত অফিস আলোর মুখ দেখাতে পারছেনা। এবিষয়ে টেকনাফ মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অফিসের অফিস ইনচার্জ তপন কান্তি শর্মা সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, টেকনাফ অফিসে ৯জন লোক থাকার কথা তৎস্থলে রয়েছে ৩জন এর মধ্যেও একজনের পদোউন্নতি হওয়ায় একজন চলে গেছে। বর্তমানে আমি এবং একজন অফিস সহায়ক রয়েছে। এছাড়া নেই কোন যানবাহনের ব্যবস্থা যদি কোন অভিযান পরিচালনা করতে হয় কক্সবাজার জেলা অফিস থেকে গাড়ী নিয়ে এসে অভিযান করতে হয়। বর্তমানে মাদক ব্যবসায়ীদের হাতে রয়েছে অত্যাধুনিক আগ্রেয়সস্ত্র। অথচ আমাদের হাতে কোন অস্ত্র নেই। অভিযানের আগে থানায় খবর দিয়ে পুলিশ আনতে হয়। যার ফলে অভিযান বন্ধ রয়েছে।