টেকনাফের হ্নীলায় লম্বা বন্দুকসহ অর্ধডজন আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে দিনদুপুরে ইয়াবা গডফাদারের নেতৃত্বে সন্ত্রাসীদের অস্ত্রের মহড়ায় আতংকিত জনপদ

111111.jpg

ছবি ১. লম্বা বন্দুক হাতে ওসমান ২. কিরিচ হাতে হুমায়ুন করিম ৩. ঘটনার পর মোটর সাইকেল যোগে প্রস্তান (ছবি সংগৃহিত)

বিশেষ প্রতিনিধি |
টেকনাফের হ্নীলায় চিহ্নিত ইয়াবা গডফাদারের নেতৃত্বে বিভিন্ন মামলার পলাতক আসামী সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে লম্বা বন্দুকসহ অর্ধডজন আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে মহড়া চালিয়ে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করার ৩ দিন অতিবাহিত হলেও সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার কিংবা অস্ত্র উদ্ধার না হওয়ায় এলাকায় ভীতিকর অবস্থা দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি টেকনাফের আরো কয়েকটি এলাকায় গত কিছুদিনের মধ্যে অবৈধ অস্ত্রধারী ইয়াবা ব্যবসায়ীরা বেশ কয়েকবার অবৈধ অস্ত্রের মহড়া চালালেও সেসব ঘটনায় অস্ত্র উদ্ধার ও সন্ত্রাসীরা গ্রেফতার না হওয়ায় আরো বেপরোয়াভাবে অস্ত্রের ব্যবহার বাড়ছে।

জানা যায়, হ্নীলার ফুলের ডেইল, দরগাহ পাড়া, নাটমুড়া কেন্দ্রিক একটি চিহ্নিত ইয়াবা গডফাদার ও অস্ত্রধারী ডাকাত দল সক্রিয় হয়ে অত্যাচার নিপীড়নসহ বিভিন্ন অপরাধ মূলক কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে। তারা অস্ত্রধারী বিত্তশালীও প্রভাবশালী হওয়ায় এলাকার কেউ মুখ খুলে প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছেনা। অপরদিকে পুলিশের নিরবতা, নিস্ক্রিয়তা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন সৃষ্টি হয়েছে। ফলে দিন দিন নানা অপরাধ প্রবণতা বেড়েই চলছে।

সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে উল্লেখিত এলাকার অপরাধ জগত নিয়ন্ত্রন করছে হ্নীলা দরগাহ পাড়ার মামা-ভাগিনা সিন্ডিকেট। এই মামা-ভাগিনা বাহিনীর বিরুদ্ধে নিরীহ ব্যাক্তিদের অপহরণ করে পাহাড়ী এলাকা নিয়ে মুক্তিপন আদায়, ইয়াবা ব্যবসা, ইয়াবার চালান ছিনতাই, জমি দখল করা ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ডসহ অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে।

সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার (২৩ সেপ্টেম্বর) জুমার নামাজের পর পূর্বের একটি মারপিটের ঘটনা ও মামলাকে কেন্দ্র করে ফুলের ডেইল এলাকার হাজী জাফর আলমের ছেলে আলমগীর ও দরগাহ এলাকার মামা-ভাড়িনা সিন্ডিকেটের সক্রিয় সদস্য চালাইক্যা নামে একজনের তর্ক বিতর্কের মতো তুচ্ছ ঘটনা ঘটে। এই ঘটনার জের ধরে নাথমুড়া পাড়ার মৃত আমীর উদ্দিনের পুত্র ওসমান, দরগাহ এলাকার মৃত আবুল কাশেমের পুত্র সাইফুল করিম, রেজাউল করিম, হুমায়ুন করিম, মামুনুল করিম, একই এলাকার মোঃ আলম, নুর হাশিম, নুরসহ ২০/৩০ জন সন্ত্রাসী প্রকাশ্যে ৬/৭টি আগ্নেয়াস্ত্র ও কিরিচ নিয়ে হ্নীলা দরগাহ এলাকায় সাবেক এমপি অধ্যাপক মোঃ আলীর পেট্রোল পাম্প এলাকায় ঘন্টা ব্যাপী মহড়া দিয়ে প্রতিপক্ষকে খুঁজতে থাকে। এঘটনায় রেজাউল করিম মুখোশ পরে মহড়ার নেতৃত্ব দেয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়।

এভাবে প্রকাশ্যে এলাকায় অবৈধ অস্ত্রের মহড়ায় সর্বত্র আতংক বিরাজ করেছে।

সূত্রে প্রকাশ দরগাহ পাড়ার রেজাউল করিম ও সাইফুল করিম দীর্ঘ দিন ধরে ইয়াবা ব্যবসা করে ইয়াবার টাকা দিয়ে প্রায় ৬/৭ টি দেশী-বিদেশী অস্ত্র ক্রয় করে।

তার সাথে যোগ হয় আরেক আন্ডার ওয়াল্ড টেরর সৌদি ফেরত ওসমান। নাট মোড়া পাড়ার উক্ত ওসমান ১৯৯০ সালে চৌধুরী পাড়ায় হ্নীলার রবি আলমের ভাই সেলিম কে খুন করে। এরপর প্রতিদিন নাফ নদীতে ও সীমান্ত এলাকায় ডাকাতির রাম রাজত্ব চালালে পুলিশ ও বিজিবির অপারেশনে মিয়ানমারে পালিয়ে যায়। পরে কৌশলে ভূঁয়া নাম ঠিকানায় পাসপোর্ট নিয়ে সৌদি আরব পাড়ি দেয়।

অপর দিকে সাইফুল করিমের বিরুদ্ধে হামিদ হত্যার চেষ্টা ও ইয়াবার মামলা সহ প্রায় ডজন খানেক মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে। জনশ্রুতি রয়েছে পুলিশের কতিপয় দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার সাথে এই আন্ডার ওয়ার্ল্ড সন্ত্রাসীদের সাথে নাকি দহমহরম রয়েছে। ফলে তারা দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।

এছাড়া টেকনাফের গোদারবিল, সাবরাং ডেগিল্লার বিল, হ্নীলা মৌলভী বাজারে ও পানখালীতে সম্প্রতি অবৈধ অস্ত্রেও মহড়া হয়েছে।

এ ব্যাপারে টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল মজিদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, অস্ত্রের মহড়া দেওয়া সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। অচিরেই এইসব সন্ত্রাসীরা ধরা পড়বে বলে তিনি জানান।