চকরিয়ায় যানজটমুক্ত হচ্ছে পৌরশহর

65.jpg

পরিচ্ছন্ন নগরী গড়তে অবশেষে ২২বছর পর কিচেন মার্কেট চালু

এম.জিয়াবুল হক, চকরিয়া |
কক্সবাজারের চকরিয়া পৌরসভাটি প্রতিষ্টা লাভ করে ১৯৯৪সালে। ২২বছরের ব্যবধানে জনসংখ্যার গতি বাড়ার সাথে সাথে পৌরশহরের বাণিজ্যিক এলাকা চিরিঙ্গা সোসাইটি এখন যানজটের নগরীতে পরিণত হয়েছে। এ অবস্থার কারনে দিনের পর দিন শহরে কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দুরপাল্লার ও আভ্যন্তরিণ সড়কে চলাচলরত যানবাহন গুলো আটকা পড়ে যাত্রী সাধারণ চরম দুর্ভোগের মাঝে বিদ্যমান থাকে। পাশাপাশি দুর্ভোগের শনিরদশায় নিমজ্জিত থাকে শহরে বসবাসরত জনসাধারণ, ব্যবসায়ী মহল ও শিক্ষার্থীসহ নানা শ্রৈণী-প্রেশার মানুষ।
অভিযোগ উঠেছে, পৌরসভা প্রতিষ্টার পর বিগত সময়ে কয়েকজন প্রশাসক ও তিনটি নির্বাচিত পৌর পরিষদের কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালন করেছেন। কিন্তু শহরের ভয়াবহ যানজট নিরশনে তাঁরা কোন ধরণের উদ্যোগ নেয়নি। তবে বর্তমান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ জাফর আলম ২০০৭ সালে চকরিয়া পৌরসভার মেয়র থাকাকালে আড়াই কোটি টাকা ব্যয়ে শহরকে যানজটমুক্ত নির্মাণ করেন একটি আধুনিক মানের বাস টার্মিনাল। মুলত টার্মিনালটি প্রতিষ্টার পর শহরে কিছুটা যানজট নিরশন হলেও কতিপয় পরিবহন মালিক এবং শ্রমিক নেতাদের অনৈতিক বাণিজ্যের কারনে পুরোপুরি তা আলোর মুখ দেখেনি। এরপর উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় শহরে বারবার উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেও চকরিয়া পৌরশহরের ভয়াবহ যানজট সেই থিমিয়ে রয়ে যায়।
জানা গেছে, ২০১৬ সালের ২০মার্চ অনুষ্টিত নির্বাচনে চকরিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক আলমগীর চৌধুরী বিপুল ভোটে মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর দায়িত্ব নিয়েই শুরু করেন পৌরসভার পরিকল্পিত উন্নয়নের মহাপরিকল্পনা। পরিকল্পনার সেই আলোকে তিনি ইতোমধ্যে পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডে উন্নতমানের নালা নর্দমা নির্মাণ, পানি নিস্কাশন নিশ্চিত করতে ময়লা আর্বজনা অপসারণের ব্যবস্থা ও দীর্ঘ ৯বছর ধরে অচল থাকা আড়াই কোটি টাকার অর্থায়নে নির্মিত পানি সাপ্লাই প্রকল্পটি চালু উদ্যোগ নিয়েছেন। উন্নয়ন পরিকল্পনার পাশাপাশি শহরকে যানজটমুক্ত পরিচ্ছন্ন নগরী গড়তে মেয়র আলমগীর চৌধুরী সর্বশেষ উদ্যোগ নেন শহর থেকে সব ধরণের ভাসমান দোকান ও কাঁচাবাজার সরিয়ে নিয়ে পৌর বাসটার্মিনাল এলাকায় কিচেন মার্কেট চালু করতে। তিনি এতে সফলও হয়েছেন। গতকাল রোববার (২৫ সেপ্টেম্বর) আনুষ্টানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে আধুনিকমানের পৌর কিচেন মার্কেট।
কক্সবাজার-চট্টগ্রাম আরকান সড়কের পশ্চিম পার্শে চকরিয়া পৌর শহরের প্রাণকেন্দ্রে মনোরম পরিবেশে পার্কিং সুবিধাসহ নিরাপত্তা বলয় ঘেরা শহীদ আবদুল হামিদ পৌর বাস টার্মিনাল এলাকায় কিচেন মার্কেট উদ্বোধন উপলক্ষে এদিন পৌরসভার উদ্যোগে আয়োজন করা হয় সুধী সমাবেশের।
চকরিয়া পৌরসভার মেয়র আলমগীর চৌধুরীর সভাপতিত্বে কিচেন মার্কেটের উদ্বোধন করেন চকরিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ জাফর আলম। অনুষ্টানে প্রধান অতিথি ছিলেন চকরিয়া পেকুয়া আসনের সংসদ সদস্য হাজি মোহাম্মদ ইলিয়াছ। পৌরসভার সচিব মাস-উদ মোর্শেদের সঞ্চালনায় অনুষ্টানে বিশেষ অতিথি ছিলেন চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাহেদুল ইসলাম, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো.জহিরুল ইসলাম খাঁন, উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও মাতামুহুরী উপজেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এসএম জাহাংগীর আলম বুলবুল, সুরাজপুর-মানিকপুর ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক আজিমুল হক আজিম, চকরিয়া পৌরসভা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাবেক প্যানেল মেয়র জাহেদুল ইসলাম লিটু।
উপস্থিত ছিলেন পৌরসভার নারী কাউন্সিলর রাশেদা বেগম, রাজিয়া সুলতানা খুকুমনি, আঞ্জুমান আরা বেগম, সাধারণ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মকছুদুল হক মধু, রেজাউল করিম, বশিরুল আইয়ুব, জাফর আলম কালু, ফোরকানুল ইসলাম তিতু, জিয়াবুল হক, জামাল উদ্দিন, মুজিবুল হক মুজিব ও নজরুল ইসলাম, চকরিয়া ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ফরিদ আহমদ, উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক কাউছার উদ্দিন কছির, সাংগঠনিক সম্পাদক রেফায়েত সিকদার, তারেকুল ইসলাম চৌধুরী ও পৌরসভা কর্মকর্তা রাজিফ চৌধুরী, পৌরসভা মৎস্যজীবিলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জালাল উদ্দিনসহ সকল কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং সুধীজন। অন্ষ্টুানে মোনাজাত পরিচালনা করেন মাওলানা মনজুর আলম।
জানতে চাইলে চকরিয়া পৌরসভার মেয়র আলমগীর চৌধুরী বলেন, চকরিয়া শহরকে যানজটমুক্ত করতেই মুলত কিচেন মার্কেটটি চালু করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে শহর থেকে সব ধরণের ভাসমান দোকান ও কাঁচাবাজার সরিয়ে নেয়া হবে। আশা করি পৌরসভার সকলস্থরেরর জনগন এখন থেকে স্বাচ্ছন্দে কিচেন মার্কেট থেকে মাছ মাংসসহ যাবতীয় তরি তরকারি (পাইকারী ও খুচরা) ক্রয়-বিক্রয় করতে পারবে।