বিরিয়ানি নিয়ে নূর হোসেনকে কাঠগড়ায় চড়-থাপ্পড়

nur_hossain_seven_killings_25851_1474723030.jpg

টেকনাফ টুডে ডেস্ক |
নারায়ণগঞ্জের বর্বরোচিত সাত খুন মামলার জেরা চলাকালে আদালতের কাঠগড়ায় অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। এসময় এ খুনের মূলহোতা নূর হোসেনকে হুংকার দিতেও দেখা গেছে।

জানা গেছে, খাবার না পেয়ে সাত খুন মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেনকে কাঠগড়ায় চড়-থাপ্পড় মারেন র‌্যাবের বহিষ্কৃত হাবিলদার এমদাদ।

এসময় নূর হোসেনের অনুগামী হিসেবে পরিচিত মর্তুজা জামান চার্চিল ফুঁসে ওঠে হাবিলদার এমদাদ হোসেনকে কিলঘুষি মারেন।

এক পর্যায়ে নূর হোসেন হুংকার দিয়ে বলে ওঠেন, ‘ভাবছো কি ছাড় পাইয়া গেছো, জাগারটা জাগায় বয়াইয়া দিমু।’

এ নিয়ে অন্য আসামিদের মধ্যেও হইচই শুরু হলে পুলিশ আদালতের প্রধান দরজা বন্ধ করে দিয়ে কাঠগড়ায় প্রবেশ করে পরিস্থিতি শান্ত করে।

শনিবার সকাল সাড়ে ৯টা হতে বিকাল পৌনে ৫টা পর্যন্ত মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাকে জেরা করে আসামিপক্ষ। এর মধ্যে দুপুর ২টা থেকে পৌনে ৩টা পর্যন্ত বিরতি ঘোষণা করেন আদালত।

আর বিরতির সময় নূর হোসেনের পক্ষ থেকে সব আসামিদের বিরিয়ানি দেয়া হয়। এসময় বিরিয়ানি না পেয়ে কাঠগড়ায় এ অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে।

বাদীপক্ষের আইনজীবী শাখাওয়াত হোসেন খান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, র‌্যাব-১১ এর সাবেক অধিনায়ক চাকরিচ্যুত তারেক মোহাম্মদ সাঈদের পক্ষে তার আইনজীবী সুলতানুজ্জামান ও সাহাবুদ্দিন জেরা করার সময় কাঠগড়া থেকে আসামি এমএম রানা আদালতকে বলেন, ‘স্যার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকাল পৌনে ৫টা পর্যন্ত কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে আছি।’

রানা আরও বলেন, ‘এতজন আসামি একসঙ্গে হওয়ায় অসহনীয় গরম। এছাড়া দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে হাত-পা ব্যাথা করছে। আমরা কি মানুষ না? একদিনে জেরা শেষ না হলে আরেক দিন সময় দেন।’

এসময় আদালত তার আবেদন আমলে নিয়ে তারেক মোহাম্মদ সাঈদের পক্ষে তার আইনজীবীদের অসমাপ্ত জেরা করার জন্য আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর পরবর্তী দিন ধার্য করেন।

নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ এনায়েত হোসেনের আদালতে সাত খুনের দুটি মামলায় গ্রেফতারকৃত ২৩ আসামির উপস্থিতিতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ মন্ডলকে দ্বিতীয়বারের মতো জেরা করা হয়।

তবে এদিন আসামি, বাদী ও সরকারপক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে আগের মতো কোনো বচসা কিংবা উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়নি।

জানা গেছে, সকালে আরিফ হোসেনের পক্ষে অসমাপ্ত জেরা শুরু করেন তার আইনজীবী এমএ রশিদ ভূইয়া। দুপুর ১২টার পর শুরু হয় তারেক সাঈদের পক্ষে জেরা।

অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে পিপি ওয়াজেদ আলী খোকন, বাদীপক্ষে সাখাওয়াত হোসেন খানসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

মামুনুর রশিদ মন্ডল বর্তমানে জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার পরিদর্শক হিসেবে রয়েছেন যিনি সাত খুনের মামলার অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেয়ার সময়ে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ওসি হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

জেরার শুরুতে এদিন নূর হোসেনকে এজলাসের ভেতর থেকে বাইরে বসার আবেদন করেন তার আইনজীবীরা। তবে আদালত এদিন সে আবেদন নাকচ করে দেন। ফলে নূর হোসেনকে এদিন কাঠগড়ায় রেখেই জেরা চলে।

প্রসঙ্গত, অসুস্থতার দোহাই দিয়ে গত কয়েকটি সাক্ষ্য ও জেরার সময়ে নূর হোসেন বাইরে একটি টুলে বসে থাকতো।

জেরায় কাঁচপুর ল্যান্ডিং স্টেশন থেকে ট্রলারে লাশ তোলার পর চালকদের কেন আসামি করা হয়নি, আরিফের ব্যাংক লেনদেনের কোনো দালিলিক প্রমাণাদি আছে কি না, আরিফ ও তারেক সাঈদের সঙ্গে মোবাইলে আসামিদের কথা হয়েছে এমন কোনো ভয়েস টেপ আছে কি না তা জানতে চাওয়া হয়।

এছাড়া ১৯ জন আসামির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নেয়া হলেও কেন ১৬১ ধারায় নেয়া হয়নি, ঘটনার পর ওই সময়ের র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপস) জিয়াউল আহসানকে সঙ্গে সঙ্গে আসামি র‌্যাব কর্মকর্তারা অবহিত করেছেন কি না- সেটাও তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে জানতে চান আসামিপক্ষের আইনজীবীরা।

সাত খুনের ঘটনায় দুটি মামলা হয়। একটি মামলার বাদী নিহত আইনজী চন্দন সরকারের জামাতা বিজয় কুমার পাল ও অপর বাদী নিহত নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি। দুটি মামলাতেই অভিন্ন সাক্ষী হলো ১২৭ জন করে।

এখন পর্যন্ত সাত খুনের দুটি মামলায় অভিন্ন ১২৭ সাক্ষীর মধ্যে ১০৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন শেষে জেরা শুরু হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম, তার বন্ধু মনিরুজ্জামান স্বপন, তাজুল ইসলাম, লিটন ও গাড়িচালক জাহাঙ্গীর আলম এবং আইনজীবী চন্দন কুমার সরকার ও তার গাড়িচালক ইব্রাহীম অপহৃত হন। তিন দিন পরে ৩০ এপ্রিল শীতলক্ষ্যা নদী থেকে ছয়জনের ও ১ মে একজনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

তদন্ত শেষে প্রায় এক বছর পর গত ৮ এপ্রিল নূর হোসেন, র‌্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তাসহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। গত ৮ ফেব্রুয়ারি তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত।