উখিয়ায় থেমে নেই পাহাড় কাটা

5.jpg

নিজস্ব প্রতিনিধি, উখিয়া |
কক্সবাজারের উখিয়ার বিভিন্ন জায়গায় পাল¬া দিয়ে চলছে পাহাড়া কাটার মহোৎসব। দেশে পাহাড় কাটার বিরুদ্ধে আইন থাকলেও বন বিভাগ রহস্যজনক কারনে তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না। কতিপয় বন বিভাগের কর্মকর্তা কর্মচারীদের নিয়মিত মাশোহারা দিয়ে পাহাড় খেকোরা দিন দুপুরে পালংখালী ইউনিয়নের থাইংখালী ঘোনার পাড়া এলাকায় ভরাট কাজে মাটি বিক্রি করলেও তাদের বিরুদ্ধে আইনী পদক্ষেপ গ্রহণ করছে না। এভাবে উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের অর্ধশতাধিক স্পট থেকে সরকারী-বেসরকারী, ব্যক্তি মালিকানাধীন দালান নির্মাণে মাটি ভরাটের কাজে এবং ইট ভাটায় পাহাড়ের মাটি বিক্রয় করছে।
জানা গেছে, একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের সদস্যরা সরকারী বনভূমির পাহাড় থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার ফুট মাটি কেটে ট্রাক ও ডাম্পার যোগে স্থাপনা নির্মাণকারীদের বিক্রয় করে দিচ্ছে। আর বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব দেখেও না দেখার ভান করে বসে আছে। মাঝে মধ্যে উপজেলা প্রশাসন লোক দেখানো অভিযান চালিয়ে মাটি ভর্তি ট্রাক আটক করলেও মূল হোতারা পার পেয়ে যাচ্ছে। যার ফলে উখিয়ার অর্ধশতাধিক স্পটে অনায়েসে চলছে প্রতিযোগীতা মূলক ভাবে পাহাড় কাটার মহোৎসব।
খোজঁ নিয়ে জানা গেছে, এ উপজেলার থাইংখালীর মৃত মোঃ ইব্রাহিমের ছেলে মোঃ আজিজ প্রকাশ মাটি আজিজ ও থাইংখালী ঘোনার পাড়া এলাকার মোঃ ছিদ্দিকের নেতৃত্বে নুরুল আলম, আব্দুর রহমান, এরশাদুল্লাহ সহ অর্ধশতাধিক চিহ্নিত ভুমিদস্যুরা পাইন্যাশিয়া, ফলিয়াপাড়া, মৌলভী পাড়া, ইনানী, পাটুয়ারটেক, নিদানিয়া, সোনারপাড়া, চোয়াংখালী, মোঃ শফিরবিল, মনখালী, থাইংখালী বাঘঘোনা, পালংখালী, মুহুরী পাড়া, ভালুকিয়া, হলদিয়া, হাতিরঘোনা, লম্বাশিয়া, লম্বাঘোনা, মধুরছাড়া, মাছকারিয়া সহ উপজেলার অর্ধশতাধিক স্পটে প্রতিদিন হাজার হাজার ফুট পাহাড়ের মাটি কেটে ইট ভাটা ও স্থাপনা নির্মাণ কাজে ব্যবহার করলেও সংশি¬ষ্ট প্রশাসন তাদের বিররুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ায় স্থানীয়দের মাঝে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা জানান, দেশে পাহাড় কাটার বিরুদ্ধে আইন থাকলেও আইন প্রয়োগ যথাযথ না হওয়ায় সরকারী বনভূমির পাহাড় কেটে মাটি বিক্রয় থামছে না। এ ভাবে যদি পাহাড় কাটা অব্যাহত থাকে চলতি বর্ষা মৌসুমে পাহাড় ধ্বসের ঘটনা ঘটে প্রাণহানীর আশংকা করা হচ্ছে। কারণ যেখান থেকে মাটি কেটে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে ওইসব পাহাড়েও বসত বাড়ী রয়েছে।
ইনানী গ্রামের আলী আহমদ জানান, ওই এলাকা থেকে প্রতিদিন সরকারী বনভূমির পাহাড় কেটে মাটি বিক্রি করছে একটি মহল। তাদের বিরুদ্ধে সংশি¬ষ্ট প্রশাসন কোন ব্যবস্থা না নেওয়ায় তারা দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে। যার ফলে থাইংখালী ঘোনার পাড়া সড়কটি লন্ডভন্ড হয়ে গেছে। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান এম গফুর উদ্দিন চৌধুরী জানান, পাহাড় কর্তনকারীর বিরুদ্ধে তার নিকট বেশ কয়েকটি অভিযোগ রয়েছে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সহকারী বন সংরক্ষক সরওয়ার আলম বলেন, অভিযোগ পেলে তদন্ত পূর্বক পাহাড় কর্তনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাদের সাথে পাহাড় কাটা লোকজনের সাথে তাদের কোন যোগসূত্র নেই।