চকরিয়ায় প্রবাসির পরিবারকে জিন্মি করে বাড়িভিটে জবর দখল অপচেষ্টা

56778888.jpg

যুবলীগের সম্পাদকের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা

এম.জিয়াবুল হক, চকরিয়া |
কক্সবাজারের চকরিয়া পৌরসভার সবুজবাগ আবাসিক এলাকায় চাঁদার দাবিতে প্রবাসির পরিবারকে জিন্মি করে বাড়িতে ঢুকে স্ত্রী ও মেয়েদেরকে পিটিয়ে বাড়িভিটা জবরদখল চেষ্টার ঘটনায় গতকাল মঙ্গলবার পৌরসভা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আজিজুল ইসলাম সোহেলের বিরুদ্ধে উপজেলা সিনিয়র জুড়িসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে একটি নালিশী মামলা দায়ের করা হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের গৃহকর্ত্রী জাহেদা বেগম বাদি হয়ে যুবলীগ নেতা সোহেলের নাম উল্লেখ্য করে আরো ৭-৮জনকে অজ্ঞাত আসামি দেখিয়ে এ মামলাটি দায়ের করেছেন। আদালতের বিচারক বাদির নালিশী অভিযোগটি আমলে নিয়ে তা মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করতে চকরিয়া থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন। বাদি পক্ষের আইনজীবি এডভোকেট লূৎফুল কবির বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
মামলার আর্জিতে বাদি ভুক্তভোগী বাড়িভিটার মালিক জাহেদা বেগম দাবী করেন, ২০০৭ সালের ২১ আগষ্ট চকরিয়া পৌরসভার ৪নম্বর ওয়ার্ডের সবুজবাগ এলাকায় প্রায় ১৪জন মালিকের কাছ থেকে কাছ থেকে এটর্ণি পাওয়ারমূলে ভরামুহুরী মৌজার বিএস ১৫৭নম্বর খতিয়ানের ৭৩নম্বর দাগের ১০শতক জায়গা ক্রয় করে তিনি একটি সেমিপাকা বসতবাড়ি নির্মাণ করেন। তার স্বামী হেলাল উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে ওমানে রয়েছেন। বাড়িতে তিনি ও আট মেয়ে একা থাকেন।
বাদি জাহেদা বেগম অভিযোগ করেছেন, বসতবাড়িতে পুরুষ সদস্য না থাকার সুবাদে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্র নানা কায়দায় তার বসতভিটাটি জবরদখলের জন্য সেই থেকে অনেকবার অপচেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন। কিন্তু গত ৭-৮মাস ধরে জবরদখল চেষ্টায় আওয়ামীলীগ নেতা ছরওয়ার আলমের সাথে যুক্ত হন পৌরসভা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আজিজুল ইসলাম সোহেল ও তার সহযোগিরা।
মামলার আর্জিতে বাদি জাহেদা বেগম দাবি করেন, কিছুদিন আগে একদিন অভিযুক্ত আসামি ও তাঁর সহযোগিরা আমার বসতবাড়িতে ঢুকে অর্তকিত আমার কাছে ৫লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। এতে আমি চাঁদার টাকা দিতে অনীহা প্রকাশ করি। কিন্তু তাঁরা পরপর বেশ ক’বার আমার বাড়িতে এসে দাবিকৃত চাঁদার টাকা দিতে চাপ প্রয়োগ করেন, নইলে বাড়িভিটা জবরদখল করবে, আমাকে ও আমার মেয়েদেরকে হত্যা করবে, বাড়ির মালামাল লুট করবে এমন হুমকি দেন। এ অবস্থার প্রেক্ষিতে আমি ঘটনাটি চকরিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও পৌরসভার মেয়রকে অবগত করি। বাদি আর্জিতে আরো বলেন, এ বিষয়ে আমি লিখিত অভিযোগ দায়ের করি উপজেলা চেয়ারম্যানের কাছে। তিনি বিষয়টি উপস্থাপনের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তরকে অনুরোধ করেন। এরই প্রেক্ষিতে গত ৩১ জুলাই উপজেলা আইনশৃ্খংলা কমিটির সভায় বিষয়টি উপস্থপন করা হয়। সভার সিদ্বান্তের আলোকে চকরিয়া থানার ওসিকে এব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য অনুরোধ করা হয়।
মামলার আর্জিতে বাদি ভুক্তভোগী নারী জাহেদা বেগম বলেন, উপজেলা আইনশৃ্খংলা কমিটির সভায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের সিদ্বান্ত হওয়ার বিষয়টি জানতে পেরে অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে সর্বশেষ ১৯ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২টার দিকে বন্দুক, দা, কিরিচ, লোহাড় রড, হাতুঁড়িসহ নানা আগ্নেয়াস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আমার বাড়িতে ঢুকে হামলা চালায়। ওইসময় বাদিকে পিটিয়ে বিবস্ত্র করে শ্লীলতাহানীর পর মাটিতে ফেলে দেয়। বাদি আর্জিতে উল্লেখ্য করেন, ঘটনার সময় হামলাকারী দুর্বৃত্তরা বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়ে অন্তত ৩০ হাজার টাকার ক্ষতিসাধন ও প্রায় দেড়লাখ টাকার দাবি আসবাবপত্রসহ মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।
ঘটনার পরপর প্রতিবেশি লোকজন এগিয়ে এসে তাকে (বাদি জাহেদা বেগম) উদ্ধার করে চকরিয়া উপজেলা সরকারি হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে ভর্তি করেন। বাদি আর্জির শেষ অংশে বলেন, দিনদুপুরে বসতবাড়িতে হামলা চালিয়ে বাড়ি জবরদখলের ঘটনা শুনে তাৎক্ষনিক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন চকরিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ জাফর আলম ও চকরিয়া পৌরসভার মেয়র আলমগীর চৌধুরী এবং স্থানীয় সমাজ প্রতিনিধিবৃন্দ।
জানতে চাইলে চকরিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ জাফর আলম বলেন, পৌরসভার সবুগবাগ এলাকায় চাঁদার দাবিতে দখলবাজদের হাতে প্রবাসীর পরিবার হামলার শিকার হচ্ছে খবর শুনে আমি তাৎক্ষনিক ঘটনাস্থলে যাই। পরে সেখান থেকে আওয়ামীলীগ ও যুবলীগ নামধারী চাঁদাবাজ চক্রের জিন্মিদশা থেকে নির্যাতিতা পরিবারকে উদ্ধার করি। তিনি বলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে নির্যাতিতা মানুষের পাশে দাঁড়ানো ও তাদেরকে সহায়তা করা আমার দায়িত্ব। এছাড়া যেই বাড়িভিটেটি দখল করতে কতিপয় আওয়ামীলীগ ও যুবলীগ নেতা চক্রান্ত করে আসছিলেন সেই বিষয়ে লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে ইতোমধ্যে উপজেলা আইনশৃ্খংলা কমিটির সভায় সিদ্বান্তও হয় প্রবাসীর পরিবারকে আইনী সহায়তা দেয়ার জন্য।
চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.জহিরুল ইসলাম খাঁন বলেন, বাড়িভিটে দখলে হামলা ও লুটপাটের ঘটনায় আক্রান্ত পরিবারের গৃহকর্ত্রী বাদি হয়ে আদালতে একটি নালিশী মামলা দায়ের করেছেন বলে শুনেছি। তবে এখনো মামলার মুল নথি আদালত থেকে পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, মামলার নথিপত্র হাতে পৌঁছালে আদালতের নির্দেশনা মতে ব্যবস্থা নেয়া হবে।