ঘুমধুম সীমান্তে ইয়াবার উছিঁলায় চোর থেকে লাখ-কোটিপতিরা বেপরোয়া

6xokqvos_28729.jpg

শ.ম.গফুর.নিজস্ব প্রতিবেদক.উখিয়া |

উখিয়ার পার্শ্ববর্তী মিয়ানমার লাগোয়া সীমান্ত জনপদ
নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম ইউনিয়ন মাদকের রাজ্যে পরিনত হয়েছে। সীমান্ত রক্ষীবাহিনী ও অন্য আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার লোকজন মাদক প্রতিরোধে যথাসাধ্য অভিযান পরিচালনা করছে। মাঝেমধ্যে মাদক ও চোরাই পণ্যের কিছু চালান তৎ বহনকারীসহ আটক হলেও বরাবরই গডফাদাররা থেকেই যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।ফলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ইয়াবা ও অন্য মাদক প্রতিরোধে আশানুরূপ সুফল পাচ্ছেনা। ঘুমধুম ইউনিয়নে এক সময়ের ছিচকে চোর.নুন আনতে পান্তা ফুরায় অবস্থায় থাকা লোকজন ইয়াবার উছিলায় এখন লাখ – লাখ টাকা গুণছে। লাখ পেরিয়ে অনেকেই নামে – বেনামে কোটি টাকার সম্পদ অর্জন করে অনেকটা কালো টাকার জোরে বেপরোয়া জীবন যাপনে অভ্যস্থ হয়ে পড়েছে। দামী মোটর সাইকেল.চেহারায় কালো চশমা লাগিয়ে প্রতিযোগিতায় চালাচ্ছে গাড়ী।সামনে কোন সম্মানী লোকজন পড়লেও “কুচ পরোয়া নেহি” স্ট্যাইলে দ্রুতবেগে চালিয়ে যাচ্ছে তাদের আহামরি মোটর যান। ইয়াবার বদৌলতে ইয়াবাকারবারীরা এখন রংগীন জীবন পার করায় সামাজিক আচার ব্যবস্থায় চরম অসহনীয় সময় পার করার পাশাপাশি অস্থিরতায়ও ভোগছে। এক সময়ের ছিচকে চোর.খেটে খাওয়া ও অর্ধাহারে – অনাহারে জীবন পার করা লোক ইয়াবা ব্যবসা করে কাঁড়ি কাঁড়ি টাকার মালিক হওয়ায় এলাকায় সামাজিক বিচার ব্যবস্থায় অধিপত্যবাদী ভুমিকাও পালন করছে তারা। প্রশাসনের দপ্তর. গ্রাম্য শালিস বিচারে ইয়াবাকারবারীরা এখন পুরোদস্তুর ” হাকিম” বিচারকের ভুমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে গ্রাম্য নেতৃত্বশীল ব্যক্তি. জনপ্রতিনিধি.পুলিশ প্রশাসন সহ সরকারি বিভিন্ন আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার কতিপয় লোকজনও ইয়াবা কারবারীদের হাতে এক প্রকার জিম্মি হয়ে আছে। শুধু ইয়াবা ও মাদকের কালো টাকার কাছে। ঘুমধুম ইউনিয়নের যে কয়জন ইয়াবা ও মাদক কারবারে জড়িত তারা আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার কতিপয় লোকজনের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলেছে ব্যবসা নির্বিগ্ন করতে।নিজেদের পৃষ্ঠপোষকতায় লালন পালন করা হচ্ছে পুলিশের- ফড়িয়া.স্থানীয় জনপ্রতিনিধি.সরকার সমর্থিত রাজনৈতিক দলের নেতা.সমাজের কথিত কিছু সুশীল সমাজ নামধারী লোকদের। নির্দিষ্ঠ হারে অর্থ বিতরণ করে প্রশাসনিক নানা ঝামেলা এড়াতে পোষ্য লোকদের সাফাই ব্যবহার করে থাকে। যেসব জনপ্রতিনিধি . পুলিশের দালাল ফঁড়িয়া.সুশীল ও রাজনৈতিক নেতারা পেশাদার ইয়াবা. মাদক কারবারীদের পক্ষে গুণকীর্তণ গেয়ে বেড়ায়।অনেকেই সরকার দলীয় সংগঠনের পদপদবী ব্যবহার করে কথিত নেতা পরিচয়ে পার পাওয়ার অভিনব চেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। ঘুমধুম সীমান্ত পয়েন্টের মধ্যে তুমব্রু উত্তর পাড়ায় রয়েছে ইয়াবা.মাদক ও চোরাই পণ্য পাচারের শক্তিশালী সিন্ডিকেট।কোনার পাড়া কেন্দ্রীক রয়েছে সিন্ডিকেট।পশ্চিমকুল- পাহাড়পাড়া কেন্দ্রীক রয়েছে বৃহৎ সিন্ডিকেট। জলপাইতলী – খিজারীঘোনায় রয়েছে ইয়াবার কুখ্যাত ৩ মহাজন। যাদের ইয়াবার চালান পাচারে ঢেকিবনিয়া ও মংডু ভিত্তিক আন্তর্জাতিক সিন্ডিকেট কাজ করছে। ঘুমধুম হেডম্যান পাড়া.মধ্যম পাড়া ও পুর্বপাড়ায় রয়েছে অন্তত অর্ধডজন শক্তিশালী ইয়াবা কারবারী। নোয়াপাড়া ও বেতবুনিয়া বাজারে রয়েছে ইয়াবা কারবারীদের একাধিক সিন্ডিকেট। যারা ইতিমধ্যেই ইয়াবা কারবার করে অবৈধ পথে অর্জিত কাঁড়ি – কাঁড়ি টাকা সাদা করার মানসে বৈধ দোকানপাঠ দিয়ে বসে পড়েছে। কিন্তু কুকর্মে ঠিকই অব্যাহত রেখেছে। লোক দেখানো দোকানপাঠ খুলে প্রশাসন গতিবিধি ও নজরদারীতে ধুলো দিয়ে কালো ব্যবসা অব্যাহত থাকায় দিন দিন মাদকের কঁরাল গ্রাসে পতিত হচ্ছে দেশের যুব সমাজ। ঘুমধুম ইউনিয়নের রেজু আমতলীর পয়েন্ট.আজুখাইয়া মগঘাট. তুমব্রু উত্তর পাড়া.বাইশফাড়ী.খালের পাড়.কোনারপাড়া.পশ্চিমকুল.বাঁশ বাগান.খিজারী ঘোনার প্রবেশমুখ.জলপাইতলী.মধ্যমপাড়ার পুর্বগোলপাতা বাগান.সীমান্তের জিরো পয়েন্ট ক্যাম্প পাড়া.নোয়াপাড়ার সেনেরপেরা.ইয়াবা.মাদক ও চোরাই পণ্য পাচারের নিরাপদ খালাস জোন হিসেবে ব্যবহার করছে পেশাদার চোরাচালানী সিন্ডিকেট।ওই সব সিন্ডিকেটের সাথে এদেশের বিভিন্ন চোরাকারবারীদের যুগসুত্র থাকায় সহজেই ইয়াবাসহ চোরাই পণ্যের চালান মুহুর্তেই সীমান্ত পয়েন্ট অতিক্রম করে গন্তব্যস্থলে পৌঁছে যাচ্ছে। ঘুমধুম সীমান্তে সামপ্রতিক সময়ে ঘুমধুম তদন্ত কেন্দ্র পুলিশের আইসি মো: এরশাদুল্লাহর সাহসী অভিযান আর তল্লাশিতে পরপর ৩টি ইয়াবার বৃহৎ চালানসহ ৫ পাচারকারী আটক হয়। ঘুমধুম – তুমব্রু বিওপির বিজিবি জোয়ান গত এক কয়েক মাসের ব্যবধানে উল্লেখ্যযোগ্য ইয়াবা.নিষিদ্ধ সিগারেট. মাদকসহ হরেক রকমের চোরাই পণ্যের চালান আটক করতে সক্ষম হয়। কিন্তু চোরাই পণ্য আটক হলেও পেশাদার চোরাচালানের গডফাদাররা থাকে আড়াঁলে। এসব গডফাদাররা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকায় বহনকারী শ্রমিকরা আটক হলেও আইনের ফাঁক ফোকর দিয়ে জামিনে বেরিয়ে এসে পুণ্য: পুর্বের কুকর্মে জড়িয়ে পড়ে। ঘুমধুম সীমান্তের ইয়াবাকারবারীদের বিষয়ে সরকারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও তৎ গোয়েন্দা সংস্থার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত বা খতিয়ে দেখলে কারা ইয়াবা.মাদক ও চোরাচালানীতে জড়িত তা বেরিয়ে আসবে।ঘুমধুম ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন জানান আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আরও কঠোর হলে সীমান্তের মাদক চোরাচালান অনেকটা রোধ হবে। ইয়াবা কারবারীদের অর্জিত সম্পদের. হিসাব.উৎস খোঁজ ও জব্দ করেই মাদক ব্যবসা বন্ধ হবে। ঘুমধুম ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান একেএম জাহাঙ্গীর আজিজ বলেন মাদক কারবারীরা যত বড় শক্তিশালী হউক না কেন? সরকারের নজরদারীর প্রয়োজন। সীমান্তের বিজিবির সুত্র দাবী করে বলেন রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ.মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির টহলদল সব সময় সক্রিয়।এবিষয়ে কোন ধরণের ঘাটতি নেই।টহলকালে বিজিবি বেশ কয়েকটি চোরাই পণ্যের চালান আটক পুর্বক. সরকারি কোষাগারে জমা দিয়েছে। ধবংসযোগ্য পণ্য সামগ্রী দ্রুত ধবংসও করেছে। ঘুমধুম তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ এসআই এরশাদুল্লাহ বলেন পুলিশ ঘুমধুম সীমান্তকে মাদকমুক্ত করতে সব সময় তৎপর রয়েছে। গত ১মাসে কয়েকটি ইয়াবার চালান জব্দ ও পাচারকারী আটক করে মামলা রুজু করতে সক্ষম হয়েছি। সীমান্তের দেশপ্রেমিক জনতার দাবী গুটিকয়েক ইয়াবা ব্যবসায়ীদের কারণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীরও ঘুম নেই। সরকার ও এলাকার ভার্বমুতি ললাটে তুলেছে। প্রশাসনের পাশাপশি পারিবারিক ও সামাজিকভাবে মাদক ব্যবসায়ীরদের প্রতিহত করতে কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিৎ বলে সুশীল সমাজ ব্যক্তি বর্গের অভিমত।