উখিয়ায় অবৈধ বালি উত্তোলনের মহোৎসব চলছেই

pic-1.jpg

নিজস্ব প্রতিনিধি, উখিয়া |
উখিয়ায় এক শ্রেণীর প্রভাবশালী বালু দস্যুরা নদী, নালা, খাল, বিল ও ছরা থেকে নির্বিচারে অবৈধ ভাবে বালি উত্তোলনের প্রতিযোগিতায় নেমেছে। সরকার দলীয় লোকজনের ছত্রছায়ায় থেকে প্রকাশ্য দিবালোকে পালংখালী ইউনিয়নের থাইংখালীর তেলখোলা মোছার খোলা এলাকায় অবৈধ ভাবে বালি উত্তোলনের মহোৎসব চলেলও স্থানীয় প্রশাসনের কোন খবর নেই। যার ফলে সরকারী নির্মানাধীন গাইড ওয়াল ভেঙ্গে যাওয়ার ফলে যে কোন সময়ে বাড়ী ঘর খালের মধ্যে বিলীন হতে পারে। এছাড়াও নির্বিচারে বালি উত্তোলনের ফলে বছরে পর বছর খালের ভাঙ্গনে বিলিন হচ্ছে এলাকার বসতভিটা ও ফসলী সহ অন্যান্য ক্ষেত খামারের জমি।
হরিণমারা , তুতুরবিল ্এলাকায় জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক সাংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীরর ছোট ভাই রুমু চৌধুরী প্রতিনিয়ত তার বৃহত্তর সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ব্যাপক হারে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন করে যাচ্ছে বলে স্থানীয় গ্রামবাসীর অভিযোগ। কেউ বাধা প্রদান করতে গেলে তার সিন্ডিকেটের সদস্যরা প্রতিবাদকারীদের হুমকি ধমকি দিয়ে থাকে বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে দিনের পর দিন উপজেলার পরিবেশ হুমকির মুখে পড়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও সভাপতি প্রবীণ সাংবাদিক ফজলুল কাদের চৌধুরী বলেন, নির্বিচারে বালি দস্যুরা অবৈধ ভাবে খাল, ছরা, নদী, নালা থেকে বালি উত্তোলনের ফলে পানি সংকট সহ পরিবেশ দুষিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। জেলা প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তর, আইন শৃংখলা বাহিনীর সমন্বয়ে একটি টাস্কফোর্স গঠন করে জেলা ব্যাপী পাহাড় কাটা, বালি উত্তোলন ও পরিবেশ দুষনকারীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হলে এলাকা ও পরিবেশ দু’টোই রক্ষা পাবে বলে তিনি মনে করেন।
সম্প্রতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী ভূমি কমিশনার থানা পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে বিভিন্নস্থান থেকে বালি ভর্তি বেশ কয়েকটি ডাম্পার আটক করা হলেও বালি উত্তোলন কিছুতেই থামানো যাচ্ছে না। আবার কয়েকজন বালি ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিলেও পরবর্তীতে জামিনে এসে পুনরায় এ কাজে জড়িয়ে পড়ছে তারা।
এছাড়াও উখিয়ারঘাট বনবিট কর্মকর্তা মোবারক আলীর ছত্রছায়ায় বালুখালীর বালু ভুট্রো ও আওয়ামীলীগ নামধারী সোনালী থাইংখালীর জয়নাল মেম্বার, জুনু, জুয়েল, এজাহার মিয়া, সিকান্দর, তোফাইল, লালু সহ অর্ধশতাধিক বালি ব্যবসায়ী স্থানীয় প্রশাসন কে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে প্রতিনিয়ত বালি উত্তোলন অব্যাহত রয়েছে। এ ছড়া বালি মহাল ইজারার নাম ভাঙ্গিয়ে এলাকার একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট পাহাড় কেটে নির্বিচারে বালি উত্তোলন করছে। থাইংখালী বিট কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান জানান, তাদেরকে পাহাড় কেটে বালি উত্তোলন না করার নিদের্শ দিলেও তা তারা মানছে না।
উপজেলার থাইংখালী খাল, বালুখালী, গয়ালমারা, হাজিরপাড়া, দোছরী সহ ১৫টি স্পট থেকে নির্বিচারে বালি উত্তোলন করে কোাটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের অভিযান কার্যক্রম পরিচালনায় ভাটা পড়ায় জন সাধারণ প্রতিনিয়ত হুমকির মুখে বসবাস করছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের পরিবেশ রক্ষার ব্যাপারে আরো কার্যকর ও আন্তরিক ভূমিকা নিয়ে জনসেবা করতে এগিয়ে আসতে হবে বলে সচেতন মহল জানান।
উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মাঈন উদ্দিন জানান, তদন্ত পূর্বক বালি উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কক্সবাজার পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারি পরিচালক সর্দার শরিফুল ইসলাম সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ফেলে বালুখেকো ও পাহাড় কর্তনকারীদের ধরতে অভিযান চালানো হবে।