টেকনাফে পৌরসভার নামে চলছে অবৈধ আদম ঘাট : দিনে আসছে রোহিঙ্গা রাতে আসছে ইয়াবা

Hessarkhal_22.jpg

টেকনাফ হেচ্ছার খাল পয়েন্ট দিয়ে আসা বিজিবির জব্দকৃত ইয়াবা ও রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের দৃশ্য

কাইছার পারভেজ চৌধুরী, স্টাফ রিপোর্টার, টেকনাফ টুডে ডটকম |
টেকনাফের হেচ্ছার খাল পয়েন্ট দিয়ে পৌরসভার নামে চলছে অবৈধ রোহিঙ্গা পারাপারের আদম ঘাট। এই আদম ঘাট দিয়ে সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে দিনের বেলায় আসছে রোহিঙ্গা আর রাতে আসছে ইয়াবা। ফলে ইয়াবার বড় বড় চালান সরাসরি ঢুকে পড়ছে পৌরসভার প্রানকেন্দ্রে আর ছড়িয়ে পড়ছে দেশব্যাপী। অপরদিকে মিয়ানমার থেকে নাফ নদী পাড়ি দিয়ে সরাসরি টেকনাফ শহর এলাকায় ঢুকে পড়ছে অবৈধ রোহিঙ্গারা। আর এসব রোহিঙ্গারা জড়িয়ে পড়ছে মাদক পাচারসহ জঘন্য অপরাধ কর্মকান্ডে। পাশাপাশি দখল করছে রিজার্ভ বনভূমি ও এদেশের শ্রমবাজার। আর পেছনে অনেকটাই দায়ী সীমান্তের বেশ কিছু রোহিঙ্গা পারাপারের অবৈধ আদম ঘাটের দালালরা। তবে এইবার খোদ পৌরসভার নামে অবৈধ আদম ঘাট চালু হওয়ায় জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
সরেজমিন অনুসন্ধান চালিয়ে জানা যায়, টেকনাফ পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ডের অধীন হেচ্ছার খাল পয়েন্টে একটি সিন্ডিকেট আদম ঘাট স্থাপন করে বেশ কিছুদিন যাবৎ অবৈধ উপায়ে মোটা অংকের বিনিময়ে রোহিঙ্গা পারাপার করে আসছে। এই আদম ঘাট দিয়ে ভোর থেকে সন্ধা পর্যন্ত মিয়ানমারের পেরামপুরো ও আশিক্কাপাড়ার রোহিঙ্গারা যাতায়াত করে যাচ্ছে। আবার রাতের অন্ধকারে এই ঘাটটি দিয়ে আসে ইয়াবার বিশাল চালান।
এমনিভাবে ইয়াবার চালান পাচারের সময় গত ১৮ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১০টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের উপঅধিনায়ক মেজর আবু রাসেল সিদ্দিকীর নেতৃত্বে জওয়ানরা ১ লাখ পিচ ইয়াবার একটি চালান জব্দ করে। এসময় দুই পাচারকারী পালিয়ে যায় বলে জানায় বিজিবি। এর আগে গত ২৮ আগস্ট ভোরে একই এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিজিবি জওয়ানরা ৯০লক্ষ টাকা মূল্যের ৩০ হাজার পিস ইয়াবার একটি চালান উদ্ধার করেছিল।

এদিকে অনুসন্ধান চালাতে গিয়ে জানা গেছে, এই আদম ঘাট দিয়ে আসা অবৈধ রোহিঙ্গাদেরকাছ থেকে জনপ্রতি ৫০ টাকা করে পৌরসভার নামে আদায় করা হচ্ছে। আবার জনপ্রতি রোহিঙ্গাদের কাছ থেকে পারাপারের জন্য সর্বমোট আদায় করা হচ্ছে ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা।

সূত্রে জানা গেছে, পৌরসভার কায়ুকখালী খাল ইজারা নেওয়া মৌলভী মোক্তার নামে এক ব্যক্তি হেচ্ছার খাল ঘাটটি ইজারা প্রদান করেন নাইট্যংপাড়া এলাকার পৌরসভার এক নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোঃ শাহ আলমের কাছে। তিনিই লোক দিয়ে পৌরসভার নামে চাঁদা আদায় করতেন। তবে এ চাঁদা আদায় নিয়ে বর্তমান ও সাবেক দুই কাউন্সিলর সহোদরের মধ্যে টানাপোড়ন চলার পর বড় ভাইয়ের নির্দেশে বর্তমানে সাবেক কাউন্সিলর ইউনুচ পৌরসভার নামে চাঁদা আদায় করছেন।

অপরদিকে এক নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোঃ শাহ আলমের কাছে জানতে চাইলে তিনি স্বীকার করে জানান, পৌরসভার টাকা কয়েকমাস তিনি তুললেও এখন সেটা বড় ভাই সাবেক কমিশনার ইউনুচ নিয়ন্ত্রন করছেন।
অপরদিক যিনি হেচ্ছার খালটি পৌরসভার নামে ইজারা দিয়েছেন পৌরসভা থেকে কায়ুকখালের ইজারা নেওয়া সেই মৌলভী মোক্তার জানালেন তিনি বর্তমান ওয়ার্ড কাউন্সিলর শাহ আলমকে ৬০ হাজার টাকায় শুধু মাত্র রোহিঙ্গা পারপারের জন্য ঘাটটি মৌখিকভাবে উপ ইজারা প্রদান করেছেন।

পৌরসভার নামে অবৈধ আদম ঘাট থেকে চাঁদা আদায়ের ব্যাপারে পৌর সচিব মহিউদ্দিন ফরায়েজীর কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, পৌরসভা থেকে কাউকে হেচ্ছার খাল ইজারা দেওয়া হয়নি। তবে মৌলভী মোক্তারকে পৌরসভা থেকে ১ বছরের জন্য কায়ুকখালী খালটি ইজারা দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান। হেচ্ছার খাল থেকে কেউ পৌরসভার নামে চাঁদা আদায় করে থাকলে তাদের কাছে পৌরকর্তৃপক্ষের প্রদত্ত কোন বৈধ কাগজপত্র আছে কিনা তা দেখে নিউজ করার পরামর্শ দেন তিনি।

হেচ্ছার খাল আদম ঘাটের নিয়ন্ত্রনে ৯ জনের সিন্ডিকেট :

এই আদম ঘাটটি পরিচালনা করছে ৯ জনের একটি সিন্ডিকেট।
এরা হচ্ছে, শফিক, আব্দুল আমিন, জাহেদ আলম, শাসমু (গঙ্গিমা), আইয়ুব, সেনায়েত উল্লাহ, হাবিবুল্লাহ, রফিক ও মোঃ আলম। এদের মধ্যে আদম ঘাটের দায়িত্বে আছে শফিক অপরদিকে রাতের বেলা ইয়াবার চালান খালাসের দায়িত্বে রয়েছে মোঃ আলম ও রফিক।
তবে কিছুদিন আগেও এই ঘাটের নেতৃত্বে ছিল বার্মাইয়া সৈয়দ আলম। বর্তমানে সে শ্রীঘরে অন্তরীন রয়েছে। আবার উপজেলা এলাকার একটি সিন্ডিকেট রাতের আঁধারে এই স্থান দিয়ে ইয়াবার চালান খালাস করে থাকে বলে স্থানীয়রা জানায়।