নাইক্ষ্যংছড়ির দোছড়িতে উপজাতীয় সন্ত্রাসী কর্তৃক ৩ তামাক চাষী অপহরণ

opohoron-_47417.jpg

শামীম ইকবাল চৌধুরী, নাইক্ষ্যংছড়ি(বান্দরবান)থেকেঃঃ
নাইক্ষ্যংছড়ির দোছড়িতে তিন তামাক চাষীকে অপহরণ করেছে উপজাতীয় সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা। শনিবার রাত ১০টার দিকে উপজেলার দোছড়ি ইউনিয়নের বাকঁখালী মৌজার হাতিরঝিরি নামক এলাকা থেকে তাদের অপহরণ করা হয়। রবিবার ভোররাতে অপহরণকারীদের কবল থেকে একজন পালিয়ে আসলে অপহরণের বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রামু উপজেলার গর্জনিয়া ইউনিয়নের জাউসপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আলী আহামদ (৬২), তার পুত্র আবুল কাশেম (২৭), একই ইউনিয়নের থোয়াঙ্গাকাটা এলাকার ফুরুক আহামদের ছেলে আব্দুল্লাহ (২৭) ও শামসুল আলম দীর্ঘদিন ধরে উপজাতীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে জমি লাগিয়ত নিয়ে তামাক চাষ করে আসছে। শনিবার তারা তামাক ক্ষেতে কাজ শেষে নিকটস্থ ঘরে ঘুমিয়ে পড়লে ৭/৮জনের সশস্ত্র সন্ত্রাসীর দল তাদের উপর হামলা চালায়। এক পর্যায়ে আবুল কাশেমকে মারধর করে অন্যদের অস্ত্রের মুখে অপহরণ করে নিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা। এদিকে অপহরণের পর রবিবার ভোর রাতে আব্দুল্লাহ কৌশলে পালিয়ে আসলে বিষয়টি জানাজানি হয়।
এ বিষয়ে পালিয়ে আসা আবদুল্লাহ সাংবাদিকদের জানান- সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের দলে কয়েকজন বাঙ্গালী ও অন্যরা সবাই উপজাতী ছিল। অপহরণের সময় তাদের সবাইকে এলোপাতাড়ি মারধর করে এবং তাদের কাছ থেকে চার লক্ষ টাকা মুক্তিপন দাবী করে গহীন অরণ্যে নিয়ে যায়। রাতে তাদের কোন ধরনের খাবার দেয়নি। রবিবার ভোররাতে শিলেরঝিরি নামক এলাকা থেকে সে কৌশলে পালিয়ে আসে বলে জানান।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে নাইক্ষ্যংছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তৌহিদ কবির জানান- অপহৃতদের কাছ থেকে পালিয়ে আসা ব্যাক্তির কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে অপহৃতদের উদ্ধারে অভিযান চলছে।
উল্লেখ্য, এর আগে ২০১৪ সালের ১২ এপ্রিল বাইশারী ইউনিয়নের লংদুরমুখ এলাকা থেকে একই কায়দায় ফরিদুল আলম ও নুরুল আলম নামে দুই তামাক চাষীকে অপহরণ করে অপহরণ করা হয়েছিল। পরে তারাও পালিয়ে রক্ষা পায়।