টেকনাফ সাবরাংয়ে মানব পাচারকারীদের হামলায় আহত যুবক চট্রগ্রাম মেডিকেলে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে

nnnn.jpg

মো: শাহীন, টেকনাফ |
টেকনাফ সাবরাংয়ে মানব পাচারকারীরা কুপিয়ে মোঃ ইদ্রিস (২২) নামে এক যুবককে গুরুত্বর আহত করা হয়েছে। তবে আহত যুবক বর্তমানে চট্রগ্রাম মেডিকেলে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় আহতের ভাই মোঃ ইসমাইল বাদী হয়ে থানায় মানব পাচারকারী মোঃ শাকের ও মেহের হোসেনসহ জ্ঞাত-অজ্ঞাত ১৫ জনের বিরুদ্ধে একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে।
এজাহার সূত্রে জানাযায়, গত শুক্রবার রাতে সাবরাং ইউনিয়নের মন্ডল পাড়া এলাকার মমতাজ আহমদের ছেলে মোঃ ইদ্রিসকে মুন্ডার ডেইল এলাকার করিব আহমদের ছেলে মানবপাচারকারী মোঃ শাকের পাওনা টাকা পরিশোধের কথা বলে মুন্ডার ডেইল এলাকায় ডেকে নিয়ে যায়। এতে মুন্ডার ডেইল এলাকার মেহের হোছন ও শাকেরসহ স্বশস্ত্র একটি সংঘবদ্ধ দল অর্তকিত হামলা ও কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে ইদ্রিসকে। এ সময় নগদ টাকা, মোবাইল ছিনিয়ে নিয়ে তার মৃত্যু হয়েছে মনে করে পার্শ্ববর্তী পুকুরে ফেলে চলে যায়।
এদিকে আহত ইদ্রিসের পরিবার সংবাদ পেয়ে আত্মীয়স্বজন ও এলাকাবাসী ছুটে গিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে টেকনাফ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে আহত ইদ্রিসের অবস্থার অবনতি দেখে কক্সবাজার সদর হ্সাপাতালে প্রেরণ করা হয়। পরবর্তীতে সেখানেও তার অবস্থার অবনতি ঘটলে চট্রগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। বর্তমানে সে চট্রগ্রাম মেডিকেলে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে বলে জানিয়েছে তার পরিবার।
তবে এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, সাবরাং মুন্ডার ডেইল এলাকার মেহের হোছন ও শাকেরের নেতৃত্বে মালয়েশিয়া মানব পাচারের একটি চক্র রয়েছে। এ চক্র গত দেড় বছর আগে আহত ইদ্রিসকে ভিসা দিয়ে মালয়েশিয়া পাঠানোর কথা বলে দেড় লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। তবে ৬ মাসের মধ্যে মালয়েশিয়া পাঠানোর অঙ্গীকার হলেও ইদ্রিসকে না পাঠিয়ে বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে প্রতারণার আশ্রয় নিলে ইদ্রিস টাকা ফেরত চাইলে আজকাল বলিয়া বিভিন্ন তালবাহনা শুরু করে। এ টাকা চাওয়ায় ইদ্রিসের উপর নেমে আসে এই নির্যাতন।
তবে ইদ্রিসের পরিবার জানান, হামলাকারীরা এলাকার চিহ্নিত মানব পাচারকারী। এ সব মানব পাচারকারীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী করছেন।
উল্লেখ্য যে, মোঃ শাকের একজন চিহ্নিত মানবপাচারকারী। সে দীর্ঘদিন ধরে সাগর পথে মালয়েশিয়া মানবপাচার করে আসছিল। তার বিরুদ্ধে মানবপাচার, অস্ত্রসহ একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে।
তবে মানব পাচারকারী সাকেরকে বিজিবি অস্ত্রসহ আটক করে মামলা দায়ের করেছিল বলে জানা গেছে। সে জেল থেকে এসে আবারো অপকর্মে লিপ্ত হয়ে নানা ঘটনা সৃষ্টি করছে। এ সব চিহ্নিত মানব পাচারকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করছেন এলাকাবাসী।