হাজারো উচ্ছ্বসিত জনতার পদভারে মুখরিত টেকনাফ সৈকত

77777.jpg

টেকনাফ সৈকতে উপচে পড়া ভীড়

সাইফুল ইসলাম,টেকনাফ |
ঈদুল আযহা উদযাপন, সুবিশাল সৈকতের সৌন্দর্য ও সুরেলা গর্জন এবং সূর্যয়াস্তের অপরুপ দৃশ্য উপভোগ করতে উচ্ছ্বসিত জনতার পদভারে মুখরিত হয়েছে টেকনাফ সমুদ্র সৈকত। ১৬ সেপ্টেম্বর শুক্রবার টেকনাফ সমুদ্র সৈকতে গিয়ে দেখা যায়,ঈদুল আযহার ৪র্থ দিনে হাজারো উৎসুক জনতার আনাগোনায় মুখরিত হয়ে উঠে বিশাল বিস্তৃত সৈকত এলাকা। ব্যাপক লোক সমাগমে ভরপুর হয়ে উঠে বাংলাদেশের অন্যতম দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকতটি। কিশোর- কিশোরী, যুবক-যুবতি থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সের নারী-পুরুষের পাশাপাশি বিভিন্ন পেশার লোকজনের ব্যাপক সমাগম ঘটে। এছাড়া অনেকে সৈকতে আসেন পরিবার-পরিজন নিয়ে ঈদের আনন্দ উপভোগ করার পাশাপাশি স্বপ্নের মেরিন ড্রাইভের বর্তমান অবস্হা দেখতে। অনেক সুখী দম্পতিকে দেখা গেছে সমুদ্রের বালিকায় বসে সূর্যয়াস্তের নয়নাভি রাম দৃশ্য উপভোগ করতে আবার অনেকে হাতে হাত রেখে যুগলবন্দী হয়ে সৈকতে ঘুরে বেড়াতে ও ছবি উঠাতে। বিভিন্ন বয়সী ছেলে-মেয়েদের সেলফি তুলার কাজে ব্যস্ত থাকতে দেখা যায়। ঈদুল আযহা উপলক্ষে সৈকতে জুড়ে বসানো ছোট ছোট অস্হায়ী দোকান-পাত।
সৈকতে আসা বাদাম বিক্রেতা আকতার বলেন, ঈদসহ বিশেষ দিবসে টেকনাফ সৈকতে পর্যটকের উপস্হিতি লক্ষনীয়ভাবে বাড়ে এবং এসব দিনে আমাদের মত ভ্রাম্যমান বিক্রেতাদের বেচা-বিক্রিও হয় যথেষ্ট। অন্যান্যদের মত আমিও এসেছি ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে।তিনি আরো বলেন, এভাবে সৈকতে যদি প্রতিদিন লোক সমাগম হয় তাহলে আমাদের মতো ভ্রাম্যমান বিক্রেতাদের বেচাবিক্রিও ভালো হতো।
তবে গেল বছর ঈদে সৈকতে টুরিষ্ট পুলিশ ও অন্যান্য আইন শৃংঙ্খলা বাহিনীর সবর উপস্হিতি দেখা গেলেও এবার তাদের উপস্হিতি চোখে পড়েনি। যার কারণে সৈকতের পরিবেশ অনেকটা স্বাভাবিক ছিলনা। সৈকতে দেখা গেছে মোটর সাইকেলের পাশাপাশি জীপ, টমটম, অটোরিক্সার এলোমেলোভাবে তীব্র বেগে ছুটে চলা। প্রতিবছর এসব যানবাহনের গতিপথে পড়ে অনেকে গুরতর আহত হয়ে আসছে। সৈকতে আসা অনেকে এসব মোটরযান এলোমেলো ঘুরপাক ও বখাটেদের উৎপাতে দারুণ ভাবে হতাশ হয়েছেন। যা সৈকতের সুন্দর পরিবেশকে অনেকাংশে ম্লান করেছে।
সৈকতে ঘুরতে আসা পলাশ,মফিদুল ও রফিক নামের তিন উন্নয়নকর্মী বলেন, এভাবে যদি বখাটেদের উৎপাত ও বিভিন্ন মোটর যানের এলোমেলো ঘুরপাক নিয়ন্ত্রনে আনার ব্যবস্হা না নেয়া হয় তাহলে অনেক পর্যটক অতিষ্ট হয়ে একবার এসে দ্বিতীয় আসার আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে। অথচ ইনানী, কক্সবাজারসহ অন্যান্য সৈকতে মোটরযান ও বখাটেদের উৎপাত দেখা যায় না। তারা সৈকত কেন্দ্রীক কোন ধরনের ব্যবস্হাপনা কমিটি না থাকায় হতাশা ব্যক্ত করেন। সৈকতে আসা বাংলাভিশনের টেকনাফ প্রতিনিধি আবদুস সালাম বলেন, টেকনাফের এই বিশাল সমুদ্র সৈকতটি সৌন্দর্যের দিক দিয়ে ইনানী, কক্সবাজার ও পতেঙ্গা সৈকতের চেয়ে কোন অংশে কম নয়। তবে এখনোও পর্যন্ত সৈকতের সৌন্দর্য বর্ধনে সরকারি ও বেসরকারিভাবে কোন ধরনের পর্যটক বান্ধব পরিবেশ ও স্হাপনা গড়ে না উঠাই তিনি হতাশা ব্যক্ত করেন। তবে সৈকতের পাশ দিয়ে স্বপ্নের মেরিন ড্রাইভের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলার সাথে সাথে সৈকতটি অচিরে তার সৌন্দর্য ফুটিয়ে তুলতে সক্ষম হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। সাবেক উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মিস বাহার ইউছুপ বলেন, সৈকতের অব্যবস্থাপনার জন্য তিনিও হতাশ। তবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক আগামী বছর মেরিন ড্রাইভের উদ্বোধন হয়ে গেলে টেকনাফের সমুদ্র সৈকতটি এক ধরনের ব্যবস্হাপনার মধ্যে চলে আসবে। আবার সৈকতে আসা অনেকের মতে, টেকনাফ তথা কক্সবাজার জেলার অন্যতম এই বিশাল সমুদ্র সৈকতের সৌন্দর্যকে বিশ্বের মানচিত্রে তুলে ধরতে জেলা প্রশাসক,স্হানীয় সাংসদ ও পর্যটন সংশ্লিষ্টদের জরুরী ভিত্তিতে উদ্যোগ গ্রহন করা প্রয়োজন।