উখিয়ায় স্বামী পাগল ফরিজা বেপরোয়া

Fariza.jpg

কায়সার হামিদ মানিক, উখিয়া |
কক্সবাজারের উখিয়ার ধইল্যা ঘোনা গ্রামের এক মহিলা ২ মাসের মাথায় পর পর ৩ স্বামীকে বিবাহ করার ঘটনা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সর্বশেষ স্বামী রোহিঙ্গা নুরুল আলমকে বিবাহ করে পূর্বের স্বামী ও তাদের পরিবার পরিজনকে বিভিন্ন ভাবে হুমকি ধমকি দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুধু তাই নয় টিএন্ডটি ধইল্যা ঘোনা গ্রামের রোহিঙ্গা আবদুর রশিদ ফকিরের কন্যা ফরিজা আক্তার হোটেলে দেহ ব্যাবসার পাশাপাশি পায়ু পথে ইয়াবার চালান বহন করে ঢাকা-চট্টগ্রাম পাচারকারীদের নিকট নিরাপদে পৌছে দেওয়ারও চাঞ্চল্যকর অভিযোগ রয়েছে।
রোহিঙ্গা শিবিরের নতুন টালের হামিদ হোসেনের ছেলে নুরুল আলমকে বিবাহের পর থেকে ইয়াবার বিভিন্ন চালান পাচার করে দেওয়ার অভিযোগের যেন শেষ নেই। ইতিপূর্বে ফরিজা এলাকায় উশৃংখলা জীবন যাপন ও রূপ যৌবনে আকর্ষন বৃদ্ধি করতে এলাকার একাধিক ইয়াবা আসক্ত নেশাখোরদের সাথেও অনৈতিক কর্মকান্ডে লিপ্ত রয়েছে। তার এ ধরনের অসামাজিক কার্যকলাপের কারণে এলাকার সমাজিক পরিবেশ বিষিয়ে উঠার পাশাপাশি স্থানীয় লোকজন উঠতি বয়সের সন্তানদের ভবিষ্যত নিয়ে নানা শংকায় রয়েছে।
তার পিতা আবদুর রশিদ ফকির বলেন, মেয়ের উশৃংখল জীবন যাপন ও বেপরোয়া চলাফেরা করলে তাকে কয়েকবার নিষেধ করা হয়। কিন্তু তার এসব অনৈতিক কার্যকলাপ বন্ধ না করলে প্রতিবাদ করতে গিয়ে উল্টো হাতে লাঠি সোঠা নিয়ে ফরিজা তার পিতা আবদুর রশিদকে মারধর করে। এছাড়াও কক্সবাজারের একটি হোটেল থেকেও কথিত ফরিজাকে খদ্দেরসহ তাকে কক্সবাজার থানা পুলিশ গ্রেফতার করে। কিছুদিন কারা অন্তরিন থাকার পর জামিনে এসে আবারো নানা অনৈতিক কার্যকলাপে লিপ্ত হয়ে পড়ে। তাছাড়া ইতিপূর্বে উখিয়া সদরের জনৈক ২ ব্যক্তিকে ষ্টাম্প ও নোটারী পাবলিক মূলে বিবাহ করে ১ জনের সাথে ২ মাস ও অন্য জনের সাথে ১৫ দিন ঘর করে তাদের কাছ থেকে প্রায় ২ লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নিয়ে চম্পট দেয় এ মহিলা। কিছুদিন যেতে না যেতেই রোহিঙ্গা শিবির অনিবন্ধিত রোহিঙ্গা ইয়াবা ব্যবসায়ী নুরুল আলমকে বিবাহ করে এখন ইয়াবা ব্যবসায় লিপ্ত হয়ে পড়ে। স্বামী রোহিঙ্গা নুরুল আলমের ইয়াবার চালান পায়ু পথে বহন করে (ডিপফ্রিজ) বেশ কয়েকটি চালান ঢাকায় পাচার করার অভিযোগ রয়েছে কথিত এ ফরিজার বিরুদ্ধে।
এলাকার দানু মিয়া জানান, তার কারণে এলাকার সামাজিক পরিবেশ বিনষ্টের পাশাপাশি কুলষিত হয়ে উঠছে সমাজ। এসব অবৈধ কর্মকান্ড স্থানীয় লোকজন দেখেও না দেখার ভান করে থাকে। কারণ এসবের প্রতিবাদ করতে গেলে বিভিন্ন ভাবে নারী নির্যাতন মামলার হুমকি ধমকি দিয়ে নানা ভাবে হয়রানি করে থাকে। তার বেপরোয়া জীবন যাপন ও দাপটের কাছে এলাকার লোকজন অসহায় হয়ে পড়ে। ফলে ধইল্যা ঘোনা এলাকার আইন শৃংখলা পরিস্থিতি দিন দিন অবনতি হওয়ার উপক্রম দেখা দিয়েছে। তার লাগাম টেনে ধরা না হলে এলাকার তরুন ও উঠতি বয়সী যুবকদের ভবিষ্যত অনিশ্চয়তার মূখে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে অভিযুক্ত ফরিজার মুঠোফোনে একাধিক বার যোগাযোগের চেষ্টা করেও ফোন রিসিভ না করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
উখিয়া থানার ওসি মোঃ আবুল খায়ের বলেন, পুলিশ এলাকার প্রতিটি ক্রাইম স্পটগুলো পর্যবেক্ষন ও অনুসন্ধানে রেখেছে এবং অভিযুক্ত অপরাধীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।