ঘুমধুম সীমান্তের ইয়াবা মহাজন ইমাম হোসেনের বেইমানি কারবার!

111.jpg

শ.ম. গফুর, নিজস্ব প্রতিবেদক |
উখিয়ার পাশ্ববর্তী নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম সীমান্তের শীর্ষ চোরাচালানী ও ইয়াবা মহাজন ইমাম হোসেনের বেইমানি ব্যবসা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। এক সময়ের ছিঁসকে চোর রোহিঙ্গা বাবা-মার কুখ্যাত সন্তান ইমাম হোসেন এখন শীর্ষ ইয়াবা মহাজনের স্বীকৃতি পেয়েছে। ইয়াবা ব্যবসায় সিদ্ধ হস্ত হওয়ায় বর্তমানে মহাজনে পরিণত হয়েছে। জাতি বিধ্বংসী ইয়াবা ব্যবসা করে নামে বেনামে কোটি টাকার সম্পদের মালিক বনেছে। এক সময়ের চোর ইয়াবা ব্যবসা করে কালো টাকার মালিক হয়ে বিলাসী জীবন যাপন থেকে বেপরোয়া কায়দায় চলাফেরা করায় সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে স্থানীয় নেতৃত্বশীল মানুষও তার কাছে এক প্রকার জিম্মি হয়ে আছে। সম্প্রতি সময়ে যুবলীগ নেতা পরিচয়ে বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি সংযুক্ত করে ভিজিটিং কার্ড ছাপিয়ে গণহারে প্রচার করছে। জানা গেছে, গত ক’বছর আগেও ইমাম হোসেন বিভিন্ন মালিকানাধীন চিংড়ি প্রজেক্টে মাছ চুরির কাজে লিপ্ত ছিল। রোহিঙ্গা বাবা-মার আত্মীয় স্বজন মিয়ানমারে থাকায় তাদের উছিলায় তরল মাদক ব্যবসা থেকে শুরু করে ইয়াবা ব্যবসায় জড়ান। জলপাইতলী সীমান্ত সংলগ্ন বাড়ি হওয়ার সুবাদে চোরাই মালামাল ও ইয়াবা পাচারে সহজলভ্য হয়। ফলে ইয়াবা ব্যবসা করে রাতারাতি কোটি টাকার মালিক বনে যায়। লক্ষ লক্ষ ইয়াবা বিশাল চালান পাচার করে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে মিয়ানমারের মহাজনদের বিশ্বস্থতা অর্জন করে। এ সুবাধে মিয়ানমারের ইয়াবা মহাজনরা কাড়ি কাড়ি ইয়াবার চালান ইমাম হোসেনের মাধ্যমে এ দেশে পাচার করে এনে শতাধিক পাইকারী ও খুচরা ব্যবসায়ীদের নিকট সরবরাহ করছে। মিয়ানমারের তার বিশ্বস্থ ইয়াবা মহাজন মন্ডু থানার ঢেকিবনিয়া ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ড বাজার পাড়ার জনৈক নাজির হোসেন প্রঃ কুলি নাজিরের পুত্র জামাল হোসেনের ইয়াবার চালান পাচার করে মাসে অন্তত কয়েক কোটি টাকা মিয়ানমারে পাচার করছে। উক্ত জামালের কোটি কোটি টাকা ইমাম হোসেনের হাতে রক্ষিত রয়েছে। সেই টাকায় ইমাম হোসেনের নামে গাড়ি, বাড়ি ও একাধিক নামে মাত্র ব্যবসা প্রতিষ্ঠান করে কালো টাকা সাদা করার পাঁয়তারা চালাচ্ছে। বর্তমানে মিয়ানমারের উক্ত মহাজন জামাল মিয়ানমার সরকারের আইন শৃংখলা বাহিনীর হাতে আটক হয়ে জেলে রয়েছে। জামালের টাকায় ক্রয় করা অন্তত কোটি টাকার সম্পত্তি আত্মসাৎ করার কু-মানসে প্রশাসনের কতিপয় সদস্য, জনপ্রতিনিধি ও সরকার দলীয় কিছু সুবিধাভোগী দালাল চক্রকে টাকার বিনিময়ে পক্ষ নিয়ে রাতারাতি যুবলীগ নেতাও বনে গেছে। উক্ত ইয়াবা মহাজন ইমাম হোসেনের অবৈধ ভাবে অর্জিত সম্পদের উৎস্য সম্পর্কে প্রশাসন ও গোয়েন্দা সংস্থার নিরপেক্ষ তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরী বলে স্থানীয় সচেতন মহলের অভিমত। এ ব্যাপারে ঘুমধুম ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি কামাল উদ্দিন জানান, ইমাম হোসেন পেশাদার ইয়াবা ব্যবসায়ী তার সম্পর্কে প্রশাসনের খতিয়ে দেখা উচিত। ঘুমধুম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান একেএম জাহাঙ্গীর আজিজ জানান, আমার ইউনিয়নে মাদক ব্যবসায়ীদের আশ্রয় দেবনা। সেই যত বড় ক্ষমতাশালী নেতা হউক না কেন। তার বিষয়ে প্রশাসনের নজরদারী প্রয়োজন। ঘুমধুম তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ ইনচার্জ মোঃ এরশাদ উল্লাহ জানান, ইমাম হোসেনকে ইতিপূর্বে আটক করেছিলাম। তাৎক্ষনিক কোন ইয়াবা না পাওয়াতে ছেড়ে দিয়েছি। তার বিষয়ে আইন শৃংখলা বাহিনীর হাতে মাদক ও ইয়াবা পাচারের অহরহ অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে অচিরেই প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।