ইয়াবার চালান ধরিয়ে দেওয়ায় প্রতিশোধ নিতেই অটোরিকশা চালককে হত্যা করা হয়’

today-pic.jpg

গ্রেফতারকৃত মুহাম্মদ রাসেল, আবদুল মালেক ও আয়াত উল্লাহ।

টেকনাফ টুডে ডটকম |
ইয়াবার চালান আত্মসাৎ অথবা আইন শৃংখলা বাহিনীকে ধরিয়ে দেয়ার প্রতিশোধ নিতেই টেকনাফে যাত্রীবেশে চালককে হত্যা করে অটোরিকশা ছিনতাই করা হয়।

রোববার সন্ধ্যায় কক্সবাজার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারুক্তিমূলক জবানবন্দিতে হত্যার কথা স্বীকার করে গ্রেফতারকৃতরা।

গত শুক্রবার রাতে কয়েক যুবক যাত্রীবেশে চালককে হত্যা করে অটোরিকশা ছিনতাই করে। পরদিন শনিবার ঘটনায় জড়িত তিনজন অটোরিকশাটি বিক্রি করতে গিয়ে উখিয়া উপজেলার ফলিয়াপাড়া এলাকায় জনতার হাতে আটক হয়।

এ ঘটনায় নিহতের বাবা সৈয়দ হোসেন বাদী হয়ে শনিবার রাতে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

এ মামলায় হ্নীলা ইউনিয়নের উলুচামরী কোনারপাড়া এলাকার আবুল হোসেনের ছেলে নুরুল আমিনকে (১৯) প্রধান আসামি করা হয়। এছাড়া মামলার অপর আসামিরা হচ্ছে গ্রেফতারকৃত তিনজন উলুচামরী এলাকার আবুল মনজুরের ছেলে মুহাম্মদ রাসেল (২৫) টেকনাফ সদর ইউনিয়নের উত্তর লম্বরী এলাকার ছৈয়দ আহমদের ছেলে আবদুল মালেক (১৬) একই এলাকার গুরা মিয়ার ছেলে আয়াত উল্লাহ (১৬)।

রোববার সন্ধ্যায় কক্সবাজার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দেয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে গ্রেফতারকৃতরা জানিয়েছেন, মামলার এক নং আসামি নুরুল আমিন তাদেরকে নিহত জাফর আলমের অটোরিকশাটি টেকনাফ থেকে ভাড়া করে নিয়ে যেতে বলে। সে অনুযায়ী তারা শুক্রবার রাতে টেকনাফ পৌর এলাকা থেকে অটোরিকশাটি ভাড়া করে হ্নীলার উদ্দেশ্যে নিয়ে যায়। পরে রাত ১২টার দিকে টেকনাফ-কক্সবাজার সড়কের রঙ্গিখালী এলাকায় লবণ মাঠে নিয়ে পাঁচজন মিলে চালককে খুন করে অটোরিকশা নিয়ে পালিয়ে যায়।

তারা আরও জানিয়েছে, কোনো এক সময় নুরুল আমিনের ইয়াবার একটি চালান জাফর আলমের মাধ্যমে পাচার করতে গিয়ে সে উক্ত চালানটি আইনশৃংখলা বাহিনীর হাতে ধরিয়ে দেয় অথবা সে আত্মসাৎ করে। এর প্রতিশোধ নিতেই কৌশলে যাত্রীবেশে গ্রেফতারকৃতদের মাধ্যমে জাফর আলমকে হত্যা করে।

নুরুল আলম নিজেই গলা টিপে তাকে হত্যা করে বলে গ্রেফতারকৃতরা আদালতে জবানবন্দি দেয়।

হত্যার পর নুরুল আমিনসহ দুইজন গ্রুপ থেকে আলাদা হয়ে পড়ে এবং গ্রেফতারকৃতদের অটোরিকশাটি বিক্রির উদ্দেশ্যে উখিয়াতে পাঠালে সেখানেই তারা ধরা পড়ে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গৌতম রায় সরকার জানান, জবানবন্দি রেকর্ডের পর গ্রেফতারকৃতদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.