সাবরাংয়ে শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ী হেলাল বাহিনীর হাতে এক জেলে খুন : উপকূলীয় সৈকত দিয়ে আসছে ইয়াবা ও স্বর্ণের চালান

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৮ years ago

মোঃ আশেক উল্লাহ ফারুকী,টেকনাফ:মালয়েশিয়ায় মানব পাচারের ‘‘এ্যায়পোর্ট” নামে খ্যাত সাবরাং কাটাবনিয়া ও খুরের মূখ এখন ইয়াবা ও স্বর্ণের রমরমা বাণিজ্য চলছে। মিয়ানমারে রাখাইন (আরাকান) রাজ্যে সেনাবাহিনী কর্তৃক রোহিঙ্গাদের দমন নিপীড়ন ও নির্যাতনে প্রেক্ষিতে বাধ্য হয়ে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের উখিয়া ও টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে দলে দলে অনুপ্রবেশ করলে প্রশাসন, সীমান্ত রক্ষী ও আইন শৃংখলা বাহিনী এনিয়ে ব্যস্ত থাকলে, এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে, ইয়াবা ব্যবসায়ীরা ইয়াবা ও স্বর্ণ পাচারে মত্ত হয়ে উঠেছে। রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকাতে নাফ নদীতে জেলেদের মাছ শিকার বন্ধ এবং কড়াকড়ী আরোপ করায় শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ীরা বিকল্প পথ হিসাবে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার জলসীমানাকে ইয়াবা ও স্বর্ণ পাচারের একমাত্র নিরাপদ রুট হিসাবে ব্যবহার করছে। এখন শীতকাল মওসূম সাগর পুকুরের ন্যায় শীতল। ইয়াবা ও স্বর্ণ মিয়ানমার থেকে সাগর পথে চালান ঢুকাচ্ছে। এখন পাচারের ভরা মওসূম। মিয়ানমার রাখাইন (আরাকান) রাজ্য থেকে সেনা বাহিনী ও রোহিঙ্গাদের মধ্যে সহিংস ঘটনার প্রেক্ষিতে চলতি বছর ৩ মাসে দশ লাখ রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ করলেও কালো ব্যবসার স্বার্থে শীর্ষ চোরাকারবারী ইয়াবা ও স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা মিয়ানমার থেকেকেউ পালিয়ে আসেনী। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এরা সেনাবাহিনীদের মোটা অংকের নজরানা দিয়ে স্বদেশে থেকে যায়। দুদেশের টেকনাফ ও মংডু সীমান্ত কেন্দ্রিক একাদিক ইয়াবা ও স্বর্ণ চোরাকারবারী সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। মিয়ানমারের মংডুসহ বিভিন্ন সীমান্তের পয়েন্ট থেকে সাগরে ইয়াবা ও স্বর্ণের চালান মৎস্যবাহী ট্রলার ও নৌকা যোগে পাচার হয়ে নাফ নদী ও সাগর উপকূলে খালাস হচ্ছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে সাবরাং হারিয়াখালীর জনৈক ব্যক্তি বলেন, সাবরাং কাটাবনিয়া, খুরের মূখ ও মুন্ডার ডেইল মৎস্য ঘাট দিয়ে বস্তা বস্তা ইয়াবা ও স্বর্ণের চালান ঢুকছে। বাংলাদেশ-মিয়ানমার পানী সীমানায় দুদেশের জেলেদের হাতবদল হয়ে ইয়াবা ও স্বর্ণের চালান সরাসরী রাতের অন্ধকারের আলোচিত এ ৩টি মৎস্যঘাট দিয়ে খালাস হচ্ছে। সাবরাং সাগর উপকূলীয় এলাকা হারিয়াখালী, কাটাবনিয়া কচুবনিয়া, চান্দালীপাড়া, মুন্ডার ডেইল এলাকার আলোচিত শীর্ষ মানবপাচারকারী দালালেরা মানব পাচারের পরিবর্তে ইয়াবা, স্বর্ণ ব্যবসা ও পাচারকাজে নেমেছে। এরাই সাগর উপকূলীয় কাটাবনিয়া, খুরের মুখ ও মুন্ডারডেইল এ ৩টি মৎস্য ঘাটকে নিয়ন্ত্রন করছেন। এ ৩টি ঘাট দিয়ে ইয়বা ও স্বর্ণ আনতে নিরাপদ। কেননা, এ ৩টি প্রত্যান্ত অঞ্চল ও নোম্যান্সল্যান্ড এলাকা। তাই এখানে ইয়াবা ও স্বর্ণের চালান ঢুকাতে কোন বাঁধা বিপত্তী নেই। এ কথাগুলো ইয়াবা ব্যবসায়ীরা চায়ের দোকানে বলাবলি করতে শুনা যায়। গত ২৩ নভেম্বর সাবরাং হারিয়াখালীর মতিউর রহমানের পুত্র নুরুল আমীন (২৮)সহ ৪ জন জেলে প্রতিদিনের ন্যায় কাটাবনিয়া মৎস্য ঘাট দিয়ে সাগরে মাছ শিকার করতে গেলে, একটি ইয়াবাবাহী ফিসিংবোট তাদের আইন শৃংখলা বাহিনীর সোর্স সন্দেহে জেলে নুরুল আমীনকে হত্যা করে সাগরে ফেলে দেয়। বাকি ৩ জেলে পালিয়ে চলে আসে। পরে ২৫ নভেম্বর নুরুল আমীনের মরদেহ কাটাবনিয়া খাল থেকে পুলিশ উদ্ধার করে। এ ঘটনার জন্য নুরুল আমীনের পরিবার হারিয়াখালীর নুরুল ইসলামের পুত্র শীর্ষ ইয়াবা কারবারী মোঃ হেলালকে দায়ী করেন । বিষয়টি টেকনাফ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মাঈনউদ্দিনের সামনে নিহতের পরিবার ঘটনাটি ব্যাক্ত করেন। এ নিয়ে মামলার প্রস্তুতি চলছে।