বিশেষ প্রতিবেদক, টেকনাফ।
টেকনাফের হ্নীলা সীমান্ত দিয়ে তালিকাভুক্ত শীর্ষ ইয়াবা গডফাদার পলাতক বর্মাইয়া শামশুর অবর্তমানে হ্নীলা সীমান্ত দিয়ে প্রতিদিন ইয়াবার চালান নিয়ে আসছে ১০ জন পাচার কারী। সম্প্রতি গত ২ মাসের ব্যবধানে বিভিন্ন প্রশাসনের অভিযানে লোক বিহীন ঐ সিন্ডিকেটের বিপুল পরিমাণ ইয়াবার চালান আটক হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়- হ্নীলা ইউনিয়নের মৌলভীবাজার, ওয়াব্রাং, ১, ২ ও ৩নং স্লুইচ গেইট, কাস্টম ঘাট, গোদাম পাড়া, উত্তর ফুলের ডেইলস্থ নাফ নদীর সীমান্ত পয়েন্ট গুলো দিয়ে প্রতিদিন রাতের অন্ধকারে কোন না কোন সময় উক্ত সিন্ডিকেটের ১০ জন সদস্য সক্রিয়ভাবে মিয়ানমার থেকে ইয়াবার মোটা চালান নিয়ে আসছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে খবর পাওয়া গেছে। ঐ সিন্ডিকেটের ১০ সদস্যের মধ্যে অনেকেই অনেক কাজে পারদর্শী। কেউ নৌকা বাইতে সক্ষম আবার কেউ বোঝা বহন করতে সক্ষম বিধায় সহজেই নাফ নদী সীমানার কাঁদা মাটিতে ইয়াবার চালান নিয়ে সহজে সম্পট দিতে পারে। সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণকারীদের সাথে স্থানীয় বিজিবি প্রশাসনের গোপন সখ্যতা থাকায় নিয়মিত চুক্তিতে এসব ইয়বার চালান নিয়ে আসে বলে জানা গেছে। তাছাড়া মাঝে মধ্যে লোক দেখানো অল্প সংখ্যক ইয়াবার চালান স্থানীয় বিজিবি প্রশাসনকে দিয়ে পরিত্যক্ত মামলা দেখায়। এতে ঐ সব সিন্ডিকেটের সদস্যরা ব্যবসায়ীকভাবে বিভিন্ন দিক দিয়ে লাভবানের পাশাপাশি নিজেরা বড় বড় ইয়াবার চালান গায়েব করে আত্মসাতও করছে বলে একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রে খবর রয়েছে। এভাবে দীর্ঘদিন ধরে উক্ত সিন্ডিকেট সদস্যরা সংশ্লিষ্ট সীমান্ত পয়েন্ট গুলো দিয়ে ইয়াবা পাচার অব্যাহত রেখেছে বলে জানা গেছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত শীর্ষ ইয়াবা গডফাদার পলাতক বার্মাইয়া শামশুর অবর্তমানে তার শীর্ষ হিসেবে এ ১০ জনেই ওপার থেকে ইয়াবার চালান এবং এপার থেকে নানা পণ্য সামগ্রী পাচার করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। গত ১৩ই জুন মৌলভীবাজার সীমান্ত দিয়ে ইয়াবার মোটা চালান নিয়ে আসার সময় স্থানীয় বিজিবি প্রশাসন পরিত্যাক্ত ৪০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার করে বলে জানা গেছে। বর্তমানে ঐ সিন্ডিকেট যারা নিয়ন্ত্রণ করছে তারা হলেনÑ বার্মাইয়া শামশুর নিকট আত্মীয় মৃত আবদুল মতলবের ছেলে বার্মাইয়া নুরুল আমিন, নবী হোছনের ছেলে আবদুর রশিদ, হ্নীলা সুলিশ পাড়া এলাকার নুরুল মোস্তফার ছেলে রেজাউল করিম, ধলাইয়া, বদি আলমের পুত্র আইয়ুব খান ও আরমান, মৃত সোলতানের পুত্র ফয়সাল, মৃত আলী হোছনের পুত্র মাহবুবুর রহমান প্রকাশ মেজর, মৃত আনু মিয়ার ছেলে নুরুল মোস্তফা প্রকাশ মুচ্ছিয়া ও আবদুল মতলবের ছেলে ফরিদ আলমসহ আরো কয়েকজন জড়িত রয়েছে বলে জানা গেছে। এসব পাচারকারীর বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি এলাকাবাসী জোর দাবী জানিয়েছেন।
