জসিম উদ্দিন টিপু : টেকনাফের বিভিন্ন এলাকায় ভোটার রেজিষ্ট্রেশন কাজে নিয়োজিত অধিকাংশ তথ্য সংগ্রহকারীদের খোঁজ মিলছেনা বলে অভিযোগ করেছেন ভোটার উপযোগী নারী-পুরুষ ও তাদের স্বজনেরা। ইতিমধ্যে ভুক্তভোগী লোকজন জেলা ও উপজেলা নির্বাচন অফিসে এই বিষয়ে লিখিত ও মৌখিক অভিযোগ করলেও কোন ধরনের প্রতিকার না আসায় চরম হতাশা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। দায়িত্ব প্রাপ্তদের বেশীর ভাগই নিজ অফিস বা সুধিাজনক স্থানে বসে এসব কার্য্যক্রম চালাচ্ছে। অনেক ভোটার খোঁজ নিয়ে স্বেচ্ছায় যোগাযোগ করলেও কতিপয় তথ্য সংগ্রহকারীদের আচরণ রহস্যজনক হওয়ায় জনমনে সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
উপজেলা নির্বাচন অফিস সুত্র জানায়,টেকনাফে ১টি পৌরসভা ও ৬টি ইউনিয়ন পরিষদের ১৮৬টি ভোটার এলাকায় ১৭ জন সুপার ভাইজারের অধীনে ৭৫জন তথ্য সংগ্রহকারী রয়েছেন। ২০ সেপ্টেম্বর থেকে তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু করে আগামী ১০ অক্টোবর পর্যন্ত তথ্য সংগ্রহের এই কাজ চালিয়ে যাওয়ার কথা রয়েছে। এদিকে ২৫ সেপ্টেম্বর বুধবার দুপুর পর্যন্ত অনেক এলাকায় দায়িত্বপ্রাপ্ত তথ্য সংগ্রহকারীর দেখা পাননি ভোটার ইচ্ছুকেরা। ভোটার উপযোগী লোকজন এবং তাদের অভিভাবকরা নিজ দায়িত্বে তথ্য সংগ্রহকারীর মুঠোফোনে যোগাযোগ করেও কোন ধরণের দেখা সাক্ষাত করতে পারছেন না। নির্বাচন কমিশনে প্রদত্ত তথ্য সংগ্রহকারীর মোবাইল ফোন প্রায় সময় বন্ধ রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ফোন বন্ধ থাকায় টেকনাফের বিভিন্ন এলাকার মানুষ তথ্য সংগ্রহকারীদের খোঁজ পেতে হিমশিম খাচ্ছে। তথ্য সংগ্রহকারীদের এই ধরনের আচরণ রহস্যের বেড়াজাল বলে ভোটার উপযোগী লোকজনের ধারণা।
উপজেলার হোয়াইক্যংয়ের সাইফুল ইসলাম শাকের জানান,কিচ্ছু করার নেই। দেশ চলছে এখন ভিআইপি স্টাইলে। হ্নীলার উলুচামরীর শহিদুল্লাহ জানান, তথ্য সংগ্রহকারীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করার কথা থাকলেও উল্টো ভোটার উপযোগীদের তথ্য সংগ্রহকারীদের বাড়িতে গিয়ে ধর্ণা দিতে হচ্ছে। আলীখালীর আব্দুর রহমান চৌধুরী জানান,আমাদের উত্তর আলীখালী এলাকায় এখনো তথ্য সংগ্রহকারীকে দেখা যায়নি। লোকজন তথ্য সংগ্রহকারীরে খোঁজ পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি গিয়াস উদ্দিন জানান, ঘরে তো দূরের কথা গ্রামেও যাচ্ছে না তথ্য সংগ্রহকারীরা। মোঃ রফিক আলী নামের এক কলেজ ছাত্র জানান,বাড়ি বাড়ি না গিয়ে যাদের সাথে দহরম মহরম সর্ম্পক তাদের দিয়েই সিন্ডিকেট করে ভোটার করছেন তথ্য সংগ্রহকারীরা। হামিদ হোছাইন নামের এক যুবক জানান, রহস্যজনক কারণে বেশীর ভাগ তথ্য সংগ্রহকারীর মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। রঙ্গিখালী এলাকার শাহ আলম, ফরিদ আলম, জুহুর আলম ও আব্দুস সালাম কালু মিস্ত্রি জানান, এখনো আমরা তথ্য সংগ্রহকারীকে দেখিনি। দায়িত্বপ্রাপ্ত তথ্যসংগ্রহকারীরা স্থানীয় হওয়ায় তিনি নিজের আত্মীয় স্বজন ভোটার নিবন্ধন ফরম পূরণ করছেন। বাকীদের পরে আসার কথা বলছেন। সংবাদ মাধ্যমে জড়িত রাজনৈতিক সচেতন লোকজন মনে করেন,নিয়োগ প্রাপ্ত তথ্য সংগ্রহকারীদের কোন না কোন রাজনৈতিক মতাদর্শের লোক হওয়ায় তারা পরিচিত রাজনৈতিক ব্যক্তি এবং পেশী শক্তির বলয়ের লোকদের মাধ্যমে চুপিসারে ভোটার নিবন্ধন ফরম পূরণ করছেন। এতে কাংখিত ভোটার উপযোগী লোকেরা ভোটার হতে পারবেন কিনা সন্দেহ রয়েছে। ভুক্তভোগী লোকজন ভোটার রেজিষ্ট্রেশন কাজে নিয়োজিত তথ্য সংগ্রহকারীদের বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রæত হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
তথ্য সংগ্রহকারী খুঁজ পাচ্ছেন না এবং তারা বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন না এমন অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে, টেকনাফ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোঃ বেদারুল ইসলাম বলেন,তথ্য সংগ্রহকারীরা বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন না বলে বিভিন্ন সুত্র হতে অবগত হয়েছেন। তথ্য সংগ্রহকারীদের অবশ্যই এলাকায় গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। এই বিষয়ে তিনি ইতিমধ্যে সুপার ভাইজারদের নির্দেশনাও প্রদান করেছেন বলে জানান।
