উখিয়ায় নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৯ years ago

কায়সার হামিদ মানিক,উখিয়া:উখিয়ায় চাল,ডাল,পিয়াজ,আদা,রসুন,পানসহ বেড়েছে সব ধরনের তরিতরকারির দাম। এতে সাধারণ মানুষ বিশেষ করে আয়ের মানুষজন বিপাকে পড়েছে। বিক্রেতাদের দাবী হঠাৎ করে সব ধরনের জিনিসের চাহিদা বেড়ে গেছে সে অনুযায়ী সরবরাহ অনেক কম তাই মালামালের দাম বাড়ছে। আর উখিয়া টেকনাফের অবস্থা আরো খারাপ এখানে সব ধরনের পন্যের দাম দ্বিগুন বেড়েছে বলে জানান স্থানীয়রা। এদিকে সাধারণ মানুষের দাবী কক্সবাজারে ব্যাপক হারে রোহিঙ্গা আসায় একটি বড় চাপ তৈরি হয়েছে তাই নিত্যপন্যের দাম বাড়ছে। আর এই অবস্থার আরো অবনতি হতে পারে বলে ধারনা করেন তারা। এদিকে বর্তমানে সাগরে ১ মাসের জন্য মাছ ধরা বন্ধ থাকায় মাছের দাম বেড়েছে বহুগুণ।
কক্সবাজার শহরের বাহারছড়া বাজারে গিয়ে দেখা গেছে মোটামোটি খাওয়ার উপযুক্ত চাল বিক্রি হচ্ছে কেজিতে ৫৩ টাকা, আর ১ সপ্তাহর ব্যবধানে ডালের দাম বেড়ে দাড়িয়েছে ১৩০ টাকা আর পিয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪৫ টাকায়, আদা ১৩০ রসুন ১৪০,বেড়েছে পানের দাম যা বর্তমানে ছোট আকারের ২০০ টাকা প্রতি ২৪ হালি। এ সময় ক্রেতা বাহারছড়ার মোহাম্মদ আলম বলেন এক সপ্তাহ আগে পিয়াজ কিনেছি ৩২ টাকায় সেটা এখন দাম বলছে ৪৫ টাকা, চালের দামতো আছে সাথে বেড়েছে ডালের দামও এতে আমাদের চরম অবস্থা বিরাজ করছে। তিনি বলেন এই অবস্থা চলতে থাকলে আমাদের জন্য খুবই ক্ষতি হবে। কারন আমাদেরতো আর আয় বাড়ে নি এভাবে যদি দৈনিক খরচ বাড়তে থাকে তাহলে কিভাবে হয়। এ সময় বিক্রেতা আলী আকবর বলেন মুলত আমরা পাইকারী বাজার থেকে কিনে আনি তাই দাম বাড়া কমাতে আমাদের কোন হাত নেই। পাইকারী বাজার থেকে পিয়াজ কিনেছি ৪২ টাকা দিয়ে সেখানে আমরা ৪৫ টাকায় বিক্রি করছি আর গত সপ্তাহ থেকে প্রতিটি জিনিসের দাম বেড়েছে। তিনি বলেন আমাদের ধারনা দাম আরো বাড়তে পারে, কারন বাজারে সব মালের একটু ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। এদিকে সন্ধ্যায় শহরের কানাইয়া বাজারে তরিতরকারির দাম জানতে গিয়ে দেখা যায় বেশির ভাগ তরিতরকারির দাম বেড়েছে। টমেটো কেজি ১০০ টাকা, আলু দেশি ৪০ টাকা, তিতকরলা কেজি ৭০ টাকা, বেগুন ৭০ টাকা, বরবটি ৬০ টাকা,পেপে ৭০ টাকা,কচু ৫০ টাকা দরে বিক্রি
হচ্ছে একই সাধে শাকসবজির দাম বেড়েছে অনেক।এ সময় বিক্রেতা আসাদ বলেন তরিতরকারি হচ্ছে দ্রুত পচনশীল মুলত যে কোন তরকারি ১/২ দিনের মধ্যে বিক্রি করে ফেলতে হয়। আর বর্তমানে সব জিনিসের চাহিতা অনেক যেমন আমি আগে চকরিয়া বা চট্টগ্রাম থেকে সপ্তাহে ১টি গাড়ী আনতাম কিন্তু এখন সপ্তাহে ২ বার গাড়ী আনতে হয় তবু সংকট হয়। আর বুঝতে পারছি না এখন শহরে এত মানুষ কোথা থেকে এসেছে। এসময় ক্রেতা নাজিম উদ্দিন বলেন আমি ছোটখাট চাকরী করি আমাদের আয় সিমাবদ্ধ এখন যদি প্রতি সপ্তাহে জিনিস পত্রের দাম বাড়ে তাহলে আমাদের জন্য খুবই অসুবধিা হয়। আর আমাদের মতে শহরে বিপুল সংখ্যক মানুষ নতুন করে আসছে সবাই রোহিঙ্গা,তাদের খাদ্য প্রয়োজন হওয়ায় জিনিস পত্রের সংকট দেখা দিয়েছে তাই জিনিস পত্রের দাম বাড়ছে। তিনি দাবী করেন মানবিকতার কারনে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিলেও তাদের কারনে আমাদের যে অনেক ধরনের অসুবিধা হচ্ছে এটি তার মধ্যে অন্যতম কারন।
এদিকে শহরের বড় বাজার এলাকায় গিয়ে দেখা যায় সেখানে ও সব জিনিসের দাম বাড়তি,ডাল,তেল,পান,কাঁচা মরিচ, শাকসবজি,সহ সব ধরনের তরিতরকারির দাম বেড়েছে এছাড়া মাছের দামও বেড়েছে অনেক। এ সময় পেশকার পাড়া এলাকার মোহাম্মদ আলম বলেন কয়েক দিনের মধ্যে সব কিছুর দাম বেড়েছে। বিশেষ করে মাছের দাম আগে যে তেলাপিয়া মাছ কেজিতে ১৪০ টাকা কিনতাম সেটা এখন ১৮০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। আগে যে ছোট মাছ কেজিতে ২০০টাকা দিয়ে কিনেছি সে মাছ এখন ৩০০ টাকায়। আর যে তরকারি ৩০ থেকে ৪০ টাকায় কিনেছি সেটা এখন কিনতে হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকায়।
এদিকে বর্তমানে উখিয়ার পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ বলে জানান স্থানীয়রা। এ ব্যাপারে উখিয়ার পোস্ট অফিসের কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন বলেন এখানে মাছ তরকারি পাওয়াটাই কঠিন হয়ে পড়েছে। গতকাল আমি নিজে আলু কিনেছি ৬৫ টাকা দিয়ে, ঢেরস কিনেছি ৬০ টাকা দিয়ে টমোটে কিনেছি আধা কেজি ৮০ টাকা দিয়ে। এছাড়া মাছ ও শাকসবজির দাম বেড়েছে অনেক। তিনি বলেন মুলত এখানে বাজারে যা আনে তাই খুব দ্রুত বিক্রি হয়ে যায় তাই বিক্রেতারা উচ্চ মুল্য ছাড়া বিক্রি করছে না। কারন কয়েক লাখ রোহিঙ্গার ভারে অনেকটা বিপর্যস্ত এখন পুরো এলাকা। এই কয়েক লাখ লোকের খাদ্য জোগাড় করতে গিয়ে আমাদের পন্যের উপর প্রভাব পড়েছে তাই সব ধরনের খাদ্য দ্রব্যের দাম বেড়েছে।
এদিকে নজিরন আহমদ চৌধুরী বলেন এখানে গাড়ী ভাড়া এখন দ্বিগুণ যেখানে ভাড়া ছিল ১৫টাকা সেখানে এখন ৩০ টাকা দিলেও যাচ্ছে না। রিক্সা বা টমটম সিএনজি সব কিছুতে গাড়ী ভাড়া অনেক বেড়েছে। আর তীব্র যানযটের কারনে মানুষ নাকাল হয়ে পড়েছে। টেকনাফ থেকে উখিয়া আসতে খুব বেশি হলে ১ ঘন্টা সময় লাগার কথা সেখানে এখন ২ ঘন্টায়ও গাড়ী আসতে পারছে না। ফলে মানুষের মধ্যে একটি বিভীষিকাময় পরিস্থিতি বিরাজ করছে। স্থানীয় মানুষের জীবন যাত্রা অনেকটা থমকে যাওয়ার মত অবস্থা। এছাড়া অনেকে ত্রান দিতে এসে বাজারের সব জিনিস একাই নিয়ে নিচ্ছে এতে বাজারে নিত্যপন্যের সংকট হচ্ছে তাই দাম বাড়ছে। এ সময় তিনি আশংকা করেন পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হতে পারে।