টেকনাফ টুডে ডেস্ক |
পুলিশের উদ্যোগে দেশে প্রথমবারের মতো মাদক কারবারিদের একটি অংশ আত্মসমর্পণ করতে যাচ্ছে। আত্মসমর্পণে আগ্রহীরা পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন। এদের মধ্যে কয়েকজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ প্রতিবেদককে জানিয়েছেন ইয়াবা পাচার, অর্থ লেনদেনসহ নানা বিষয়। এসব তথ্য তারা পুলিশকেও দিয়েছেন। সেখানে উঠে এসেছে ৩০ গডফাদারের নাম, যারা অবস্থান করছেন দুবাই ও সিঙ্গাপুরে। হেফাজতে থাকা মাদক কারবারিরা বলছেন, তাদের শীর্ষ ইয়াবা কারবারি বলা হলেও নেপথ্যে রয়েছে একটি শক্তিশালী চক্র। এই চক্রের সদস্যদের কারও নাম প্রশাসন বা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কোনো তালিকায় আসেনি। এরা নেপথ্যে থেকে ইয়াবা ব্যবসা পরিচালনার জন্য সহযোগিতা করে থাকে।
ইয়াবা কারবারিরা জানান, টেকনাফের কোনো ব্যক্তি ইয়াবা ব্যবসায় জড়িত হতে চাইলে বিনিয়োগ লাগে না। মিয়ানমার থেকে বিনামূল্যে ইয়াবার চালান পাঠানো হয় টেকনাফের নির্ধারিত ব্যক্তির কাছে। এই চালান পাঠানোর সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের হাতে আটক হলে ইয়াবার মূল্য পরিশোধ করতে হয় না। যে চালান নিরাপদে ব্যক্তিবিশেষের কাছে পৌঁছাবে কেবল তারই মূল্য পরিশোধ করতে হয়। তবে এক্ষেত্রে এর মূল্য পরিশোধ করতে হয় দেশের মধ্যে। মিয়ানমারে সরাসরি কোনো টাকা বা অর্থ পাঠাতে হয় না। দেশের বিভিন্ন স্থানে অবস্থানরত নির্ধারিত এজেন্টরা এ টাকা সংগ্রহ করে থাকে।
আত্মসমর্পণে আসা ব্যক্তিদের স্বীকারোক্তিতে এমন ৩০ জন এজেন্টের নাম পেয়েছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এই এজেন্টরা ইয়াবার টাকা সংগ্রহ করে পাচার করে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। এ টাকা বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে পাচার করা হয় দুবাই ও সিঙ্গাপুরে অবস্থানরত ইয়াবার মূল মালিকদের কাছে। আর দুবাই-সিঙ্গাপুর ঘুরে এ অর্থ পৌঁছায় মিয়ানমারে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা মনে করেন, ইয়াবা গডফাদারদের নেপথ্যে রয়েছে টাকা সংগ্রহকারী হুন্ডি ব্যবসায়ীরা। আর এসব হুন্ডি ব্যবসায়ীর নেপথ্যের ব্যক্তিরা রয়েছে দুবাই ও সিঙ্গাপুর। ইতোমধ্যে দুবাই, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া থেকেও কিছু ব্যক্তি আত্মসমর্পণ করতে দেশে ফিরেছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, ইয়াবা গডফাদারদের নেপথ্যের হুন্ডি ব্যবসায়ী ৩০ জনকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। টেকনাফ, কক্সবাজার শহর, চট্টগ্রাম এবং ঢাকাকেন্দ্রিক এসব ব্যবসায়ী বৈধ ব্যবসার আড়ালে ইয়াবার অর্থ সংগ্রহ করে দুবাই-সিঙ্গাপুর পাচার করে থাকে। এর মধ্যে শীর্ষে রয়েছে টেকনাফের বহুল আলোচিত টিটি জাফর। এই টিটি জাফরের সিন্ডিকেটের ১০ সদস্য টেকনাফে অবস্থান করে নানাভাবে ইয়াবার অর্থ সংগ্রহ করে থাকে। যাদের মধ্যে রয়েছে জালিয়াপাড়ার তাহের, আব্দুল, লেঙ্গা কামাল, সাইফুল, খোরশিদ।
এ ছাড়া এই হুন্ডি চক্রের সদস্য জালিয়াপাড়ার ওসমান, ইসহাক, ইয়াছিন, গোদার বিলের টিক্কা কাদের, সাতকানিয়ার ওসমানের নামও এসেছে স্বীকারোক্তিতে। এর বাইরে টেকনাফের লামারবাজারের একটি বেকারি, একটি কাপড়ের দোকান, কক্সবাজার শহরের ঝাউতলা এলাকার বিকাশ এজেন্টের নামও পাওয়া গেছে।
