জাওয়াদ তাহের : দান-সদকার এক অদৃশ্য প্রভাব আছে। অদৃশ্য থেকে বালা-মুসিবত দূর করে। এ কারণে যেকোনো বিপদ-আপদে সদকা করার কথা বলা হয়েছে। হাদিসে এসেছে, আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেছেন, কারো মৃত্যু ও জন্মের কারণে সূর্য ও চন্দ্র গ্রহণ হয় না। কাজেই যখন তোমরা তা (সংঘটিত হতে) দেখবে তখন মহা পরাক্রমশালী আল্লাহর কাছে দোয়া করবে, তাকবির বলবে এবং সদকা করবে। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস : ১১৯১)
ইবনুল কাইয়ুম (রহ.) বলেছেন, বিপদ-আপদ প্রতিহতের ক্ষেত্রে সদকার বিশেষ প্রভাব আছে। এমনকি কোনো পাপাচার, জালিম কিংবা কাফিরও যদি সদকা করে, আল্লাহ তাআলা এর দ্বারা তার থেকে বিপদ দূর করে দেন। আর যুগ যুগ ধরে এটা পরীক্ষিত সত্য। (আল-ওয়াবিলুস সায়্যিব : ১/৩৮)
ইমাম বায়হাকি (রহ.) পানি দানের এক আশ্চর্য ঘটনা বর্ণনা করেছেন। বিখ্যাত হাদিসবিশারদ হাকিম আবু আবদুল্লাহ নিশাপুরি (রহ.) এক দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হন। তাঁর চেহারায় ফোসকা উঠে ভরে গেছে। অনেক ধরনের চিকিৎসা করেছেন, কোনো কাজ হয়নি। এভাবেই বছর অতিক্রম হলো। একদিন তিনি তাঁর ওস্তাদ আবু ওসমান সাবুনি (রহ.)-এর কাছে আবেদন করলেন, জুমার দিন তার জন্য যেন দোয়া করা হয়। তিনি তাঁর জন্য দোয়া করলেন। আর মানুষজন তাঁর সঙ্গে আমিন আমিন বললেন। পরের জুমায় এক নারী একটি পত্র পাঠালেন। পত্রটিতে লেখা ছিল, গত সপ্তাহে জুমা আদায় করে ঘরে যাওয়ার পর ওই রাতে হাকিম আবু আবদুল্লাহর জন্য খুব দোয়া করেছেন। পরে স্বপ্নে রাসুল (সা.)-কে দেখেন। তিনি (রাসুল সা.) বলছেন, আবু আবদুল্লাহকে বলে দাও, সে যেন মানুষের জন্য পানির ব্যবস্থা করে। হাকিম আবু আবদুল্লাহ সেই চিঠি পেয়ে তাৎক্ষণিক একটি কূপ খনন করার নির্দেশ দেন। কূপ খনন করে সেখানে তিনি একটি বরফ খণ্ড রেখে দেন। এরপর তা সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করে দেন। সপ্তাহ পেরোতেই তিনি পরিপূর্ণ সুস্থতা লাভ করেন। তার চেহারা আগের মতো হয়ে যায়। (শুআবুল ঈমান : ৫/৭০)
এ জন্য যেকোনো ধরনের বিপদ-আপদ দূর করতে সদকা করার বিকল্প নেই। প্রত্যেকেই নিজের সাধ্য অনুযায়ী অল্প হলেও সদকা করা উচিত। যার অল্প আছে সে অল্প সদকা করবে, যার বেশি আছে সে বেশি সদকা করবে। আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হে আল্লাহর রাসুল! কোন ধরনের দান বেশি উত্তম? তিনি বলেন, সামান্য সম্পদের মালিক নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী যা দান করে এবং নিজের পোষ্যদের থেকে শুরু করে। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস : ১৬৭৭)
অর্থাৎ নিজ শ্রমে উপার্জিত সামান্য সম্পদ থেকে যে দান করা হয় সেটাই সবচেয়ে উত্তম।
