১৪ হাজার শিক্ষার্থীকে ডিঙিয়ে কক্সবাজার জেলার সেরা চকরিয়া সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থী জয়া খাতুন

লেখক: এম জিয়াবুল হক, চকরিয়া 
প্রকাশ: ৮ মাস আগে

জয়া হতে চান একজন মানবিক চিকিৎসক
চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ড কতৃক সদ্য প্রকাশিত এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে সব বিষয়ে ১৩০০ নাম্বারের মধ্যে সর্বোচ্চ ১২৬৩ নাম্বার পেয়ে চকরিয়া সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী জয়া খাতুন কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখে চমক সৃষ্টি করে কক্সবাজার জেলার শ্রেষ্ঠ এসএসসি পরীক্ষার্থী হবার গৌরব অর্জন করেছেন।
শুধু তাই নয়, চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের মেধাবী ২০জন এসএসসি পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৫তম স্থান অর্জন করেছেন কৃতি শিক্ষার্থী জয়া খাতুন।
জানা গেছে, ২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষায় কক্সবাজার জেলায় মোট পরীক্ষার্থী ছিল ২০ হাজার ৩৮২ জন। এদের মধ্যে অংশগ্রহণ করেছে ২০ হাজার ২৫৫ জন। পাস করেছে মাত্র ১৪ হাজার ৩৩৩ জন।
এ বছর ছাত্র পরীক্ষার্থী ছিল ৮ হাজার ৫৪৯ জন, অংশ নেয় ৮ হাজার ৫১৭ জন এবং পাস করেছে ৬ হাজার ৬৬ জন। অন্যদিকে ছাত্রী পরীক্ষার্থী ছিল ১১ হাজার ৮৩৩ জন, অংশ নেয় ১১ হাজার ৭৩৮ জন এবং পাস করেছে ৮ হাজার ২৬৭ জন।
এবছর চকরিয়া সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৮৬ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাশ করেছে ১৭১  জন। অকৃতকার্য হয়েছে ১৫ জন। জিপিএ ফাইভ পেয়েছেন ১৭ জন শিক্ষার্থী। তদমধ্যে কৃতি শিক্ষার্থী জয়া খাতুন জিপিএ ফাইভ পেয়েছেন। একইসঙ্গে সব বিষয়ে সর্বোচ্চ ১২৬৩ নাম্বার পেয়ে কক্সবাজার জেলার ১৪ হাজার ৩৩৩ জন কৃতকার্য হওয়া শিক্ষার্থীর মধ্যে শ্রেষ্ঠ এসএসসি পরীক্ষার্থী নির্বাচিত হয়েছেন।
জেলার সেরা নির্বাচিত মেধাবী শিক্ষার্থী জয়া খাতুনের গ্রামের বাড়ি সিরাজগঞ্জ জেলার সদর উপজেলার বাগবাটি ইউনিয়নের দত্তপাড়া গ্রামে। বর্তমানে পরিবারের সঙ্গে কক্সবাজারের চকরিয়া পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড নামার চিরিঙ্গা এলাকায় স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। তাঁর বাবা মোহাম্মদ হাসানুর রহমান একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও মাতা শাহিনা বেগম গৃহিণী।
গতকাল শনিবার বিকালে চকরিয়া পৌরসভার নামার চিরিঙ্গাস্থ বাসায় কথা হয় এসএসসি পরীক্ষায় জেলার মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করা মেধাবী শিক্ষার্থী ‘জয়া খাতুন’ এর সঙ্গে। এসময় কৃতি শিক্ষার্থী  নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, এসএসসিতে আমার এই ফলাফলের পেছনে আমার শিক্ষকদের আন্তরিকতা ও যথেষ্ট অবদান রয়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছে আমার বাবা-মা। তাঁদের কারণেই আজকে আমার এই অর্জন ও সাফল্য। সবার দোয়া ও ভালোবাসা নিয়ে আমি আরও এগিয়ে যেতে চাই। ভবিষ্যতে দেশ ও সমাজের জন্য কিছু করার স্বপ্ন দেখি। ‘আমার বড় একটি স্বপ্ন; আমি একজন মানবিক চিকিৎসক হতে চাই, যাতে করে এলাকার গরিব-দুঃখী ও অসহায় মানুষকে চিকিৎসা সেবা দিয়ে তাঁদের পাশে থাকতে পারি।’
জানা গেছে, চকরিয়া পৌরশহরের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী  হাসানুর রহমান ও শাহিনা বেগম দম্পতির তিন কন্যা সন্তানের মধ্যে বড় মেয়ে জয়া খাতুন। দরিদ্র বাবা’র অল্প পুঁজির ব্যবসার মাধ্যমে পরিবারের সংসারের খরচ ও তিন কন্যার পড়া-লেখাসহ ভরণপোষণ চলে।
হাসানুর রহমানের গ্রামের বাড়ি সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বাগবাটি দত্তবাড়ি গ্রাম এলাকায় হলেও  ব্যবসার সুবাধে তিনি দীর্ঘ ২০ বছর ধরে চকরিয়া পৌরসভার ৮নম্বর ওয়ার্ডের মাস্টার পাড়া এলাকায় বাড়ি নির্মাণ করে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। ক্ষুদ্র  ব্যবসায় নানা প্রতিকূলতার মাঝেও তিনি তিন কন্যার লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সহায়তায় মেয়ের এই অসাধারণ ফলাফল অর্জন করা সম্ভব হয়েছে বলে মনে করে জয়া’র পরিবার।
বড় মেয়ে জয়া খাতুন এর অসাধারণ সাফল্যে তার মা-বাবা  বিদ্যালয়ের শিক্ষকমহলে  শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
চকরিয়া সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জয়া খাতুন জেলার সেরা শিক্ষার্থী হয়েছেন, তাতে বেশ উচ্ছ্বসিত বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক আবু শোয়াইব ও সাইফুদ্দীন আহমদ মানিক। দুই’শিক্ষক বলেন, ‘জয়া পড়ালেখায় যেমন মেধাবী তেমনি খুবই বিনয়ী ও ভদ্র। শিক্ষাজীবনের শুরু থেকেই ছিল তার সাফল্যের ছাপ। সে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন প্রোগ্রামে অংশ গ্রহণ করেও মেধার সাক্ষর রেখেছেন। সে নিয়মিত পড়াশোনা করেছে। কোন বিষয়ে তার ঘাটতি থাকলে শিক্ষকদের কাছ থেকে সহযোগিতা নিতেন। এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় ফলাফলে শুধু আমাদের স্কুলে নয়, পুরো জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি নম্বর পেয়ে এবং চট্টগ্রাম বিভাগেও স্থান করে নেন জয়া। চকরিয়া উপজেলার অন্তত বিশ বছরের ইতিহাসে এসএসসি পরীক্ষায় সবচেয়ে বেশি নম্বরের স্থান এখন তার দখলে। তার অভাবনীয় সাফল্যে জন্য আমারা গর্বিত ও গৌরবান্বিত। মেধাবী শিক্ষার্থী জয়া খাতুনের সাফল্য ও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন এ দুই সিনিয়র শিক্ষক।
চকরিয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ  নজরুল ইসলাম বলেন, চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের অধীনে চলতি বছর চকরিয়া উপজেলার ৪০টি বিদ্যালয় থেকে পরীক্ষায় ৫ হাজার ৩৩২ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে ৩৬৩৬ জন পাশ করেছে। তৎমধ্যে জিপিএ- ৫ পেয়েছে ৩১২ জন শিক্ষার্থী।
এরই মধ্যে চকরিয়া সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের ছাত্রী জয়া খাতুন সব বিষয়ে এ+সহ মোট ১২৬৩ নম্বর পেয়েছে। যা উপজেলা পর্যায়ে সর্বোচ্চ ফলাফল ও জেলায় প্রথম স্থান এবং চট্টগ্রাম বিভাগেও ১৫তম হয়েছেন। আমি তার উত্তরোত্তর সাফল্য ও ভবিষ্যৎ কামনা করছি।
চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আতিকুর রহমান বলেন, অধম্য ইচ্ছেশক্তি থাকলে সবকিছু অর্জন করা যায়, তার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন মেধাবী জয়া খাতুন। এই কৃতি শিক্ষার্থী সর্বোচ্চ নাম্বার পেয়ে জেলার সেরা শিক্ষার্থী নির্বাচিত হয়ে চকরিয়া উপজেলার সম্মান ও মর্যাদা বাড়িয়ে দিয়েছেন।
তিনি বলেন,  মেধাবী শিক্ষার্থী জয়া খাতুনের সুন্দর আগামীর পথে চকরিয়া উপজেলা প্রশাসন সারথি হিসেবে থাকবে। উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অর্জনে তাঁকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষথেকে সার্বিক সহযোগিতা করার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।