হ্নীলা রাখাইন পল্লীতে স্বর্ণ নগদ টাকা ও মোবাইল লুটে প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধির ঘটনাস্থল পরিদর্শন ; নিরাপত্তার অভাবে অভিযোগ করছে না ভিকটিম!

লেখক: হুমায়ুন রশিদ
প্রকাশ: ২ years ago

হুমায়ূন রশিদ/ সাদ্দাম হোসাইন : টেকনাফের হ্নীলা চৌধুরী পাড়া রাখাইন পল্লীতে স্বশস্ত্র মুখোশধারী চিহ্নিত দূবৃর্ত্ত দল স্বর্ণালংকারের বাড়িতে হানা দিয়ে স্বর্ণ, নগদ টাকা, মোবাইল ও পাওয়ার ব্যাংক লুটের ঘটনায় স্থানীয় চেয়ারম্যান ও এএসপি সার্কেলের নেতৃত্বে থানা পুলিশের পৃথক টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। লুটপাটের ঘটনায় রাখাইন পল্লীর স্বর্ণকারদের মধ্যে আতংক সৃষ্টি হলেও ভিকটিমের পরিবার জীবনের নিরাপত্তা রক্ষায় কোন ধরনের অভিযোগ করতে রাজি হচ্ছেনা। এই ঘটনার পর সাধারণ রাখাইনদের মধ্যে ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

জানা যায়,৮ডিসেম্বর বিকাল ৩টারদিকে টেকনাফের ২নং হ্নীলা ইউপি চেয়ারম্যান রাশেদ মাহমুদ আলী চৌধুরী পাড়া রাখাইন পল্লীর ভিকটিম আই হ্লা মং রাখাইনের বাড়ি পরিদর্শন করে পরিবারের লোকজনের সাথে কথা বলেন এবং তাদের সার্বিক আইনী সহায়তার আশ্বাস প্রদান করেন। এরপর উখিয়া-টেকনাফ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ রাসেলসহ টেকনাফ মডেল থানার ওসি মোঃ ওসমান গণি এবং ওসি (অপারেশন) আব্দুর রাজ্জাকের নেতৃত্বে পুলিশের শক্তিশালী টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পরিবারের লোকজনের সাথে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন। সন্ধ্যারদিকে থানা পুলিশ ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

উল্লেখ্য,গতকাল ৭ডিসেম্বর রাত সাড়ে ৭টারদিকে এশার নামাজ চলাকালীন ১০/১২জনের মুখোশধারী স্বশস্ত্র দূবৃর্ত্ত দল হ্নীলা চৌধুরী পাড়া রাখাইন পল্লীর দক্ষিণ পাশে ওয়ে দ্রো মং রাখাইনের পুত্র স্বর্ণাকার আই হ্লা মং রাখাইনের বাড়ি ও স্বর্ণের দোকানে প্রবেশ করে। অস্ত্রের মুখে ঘরের সবাইকে জিম্মি করে স্বর্ণের দোকান তল্লাশী ও ভাংচুর করে ১০ভরি স্বর্ণ, ক্যাশে থাকা নগদ ১৮হাজার টাকা, ৩টি এন্ড্রয়েড মোবাইল ও ১টি পাওয়ার ব্যাংক নিয়ে চলে যাওয়ার স্থানীয় লোকজন জড়ো হতে চাইলে স্বশস্ত্র দূবৃর্ত্ত দল ৩ রাউন্ড ফাঁকা গুলিবর্ষণ করে দক্ষিণ দিকে বিলের খোলা মাঠ দিয়ে পশ্চিম দিকে চলে যায়। দূবৃর্ত্ত দলের ফেলে যাওয়া অব্যবহৃত ১টি তাঁজা বুলেট উদ্ধার করা হয়। বেড়িবাঁধে বিজিবি টহল দল, প্রধান সড়কে যানবাহন এবং লোকজনের আনাগোনা থাকার পরও এই ধরনের ঘটনা স্থানীয় পেশাদার অপরাধী ছাড়া কারো পক্ষে সম্ভব না। আগামীতে এই ধরনের ঘটনায় স্থানীয় রাখাইনেরা আতংকে রয়েছে বলে জানা গেছে। পরে এই ঘটনার খবর পেয়ে টেকনাফ মডেল থানার ওসির নির্দেশে এসআই মনিরের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর ঘটনাস্থল হতে উদ্ধারকৃত তাঁজা বুলেট জব্দ করে নিয়ে যায়।
Teknaf Pic A 07 12 23 TEKNAF TODAY - সীমান্তের সর্বশেষ খবর
হ্নীলা ইউনিয়ন জুয়েলার্স ও স্বর্ণাকার মালিক বুসে রাখাইন জানান,আমাদের গ্রামে ৭টি স্বর্ণের নিয়মিত দোকান এবং ১০/১২টি বাড়িতে কাজ করে বিভিন্ন স্থানে স্বর্ণের দোকানের ব্যবসা করে আসছে। আমাদের গ্রামটি বেড়িবাঁধ সংলগ্ন নির্জন গ্রাম। স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা আসা-যাওয়ার পথে ছিনতাই এবং বাড়িতে এসে লুটপাট খুবই দুঃখজনক। আমরা সংখ্যালঘু স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা সরকারের নিকট নিরাপত্তা জোরদারের দাবী জানাচ্ছি।

চৌধুরী পাড়া গ্রাম কমিটির সভাপতি ও সমাজ সর্দার মং টিং অং জানান, দক্ষিণ আলীখালী হতে চৌধুরী পাড়া ব্রীজ পর্যন্ত স্পর্শকাতর জায়গা। বিগত দিনে এই পয়েন্টে বিকাশের টাকা ছিনতাই, স্বর্ণকার মং টিলা রাখাইনকে ডাকাতি, প্রধান সড়কের যানবাহনে ডাকাতি,সর্বশেষ পাড়ার ভেতর স্বর্ণাকারের বাড়ি লুটের ঘটনা খুবই দুঃখজনক। আমরা প্রধান সড়কে আইন-শৃংখলা বাহিনীর টহল জোরদারের পাশাপাশি গ্রামের দক্ষিণ পাশে গেইট দেওয়ার জন্য জনপ্রতিনিধি ও আইন-শৃংখলা বাহিনীর আন্তরিক হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

হ্নীলা ইউপি চেয়ারম্যান রাশেদ মাহমুদ আলী জানান,আমি মামলার স্বাক্ষীজনিত কারণে ঘটনার দিন আমি কক্সবাজার অবস্থান করছিলাম। ফিরে এসে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে করছি। এই ধরনের ঘটনা খুবই দুঃখজনক। এই ঘটনা টেকনাফ মডেল থানার অফিসার্স ইনচার্জকে অবহিত করার পর উর্ধ্বতন মহল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

টেকনাফ মডেল থানার অফিসার্স ইনচার্জ মোঃ ওসমান গণি জানান, এই ঘটনার খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (উখিয়া সার্কেল) মোঃ রাসেল স্যার মহোদয়ের নেতৃত্বে আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে মনে হচ্ছে এলাকার ছিছকে চোর সংঘবদ্ধ হয়ে রাখাইন পরিবারের লোকজনকে জিম্মি করে কিছু জিনিসপত্র নিয়ে গেছে। তারা ভয়ে আইনী সহায়তা নিচ্ছে আগ্রহী না। তবুও আজকে রাতে ভেবে চিন্তে কালকে থানায় এসে জানানোর জন্য আহবান জানানো হয়েছে। তারা অভিযোগ দাখিল করলে আমরা অভিযান চালিয়ে ছিনিয়ে নেওয়া নেওয়া জিনিসপত্র উদ্ধারের অভিযান শুরু করব।

এদিকে ভিকটিম পরিবারের ঘনিষ্ট সুত্রমতে,ভিকটিমের পরিবার দূবৃর্ত্ত দলের দুই সদস্যকে প্রাথমিকভাবে সনাক্ত করতে পেরেছে। যারা নিয়মিত বাড়ির পাশে মহিষ চরাত। আই হ্লা মং রাখাইন লেদা টাওয়ার সংলগ্ন মার্কেটে স্বর্ণাকারের দোকান করে। প্রতিদিন প্রধান সড়ক দিয়ে সময়-অসময়ে আসা-যাওয়া করতে হয়। তাই দূবৃর্ত্ত দলের হামলায় প্রাণ হারানোর ভয়ে তারা কোন ধরনের আইনী পদক্ষেপ নেওয়ার পক্ষে না। এই রাখাইন পল্লীর পার্শ্ববর্তী এলাকার চিহ্নিত দূবৃর্ত্তদের সহায়তায় এই ধরনের ন্যাক্কারনজক ঘটনা ঘটতে পারে। স্থানীয় অপরাধীদের সহায়তা না পেলে এই ধরনের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে লুটপাট করার সাহস পাবেনা। এরপর স্থানীয় রাখাইন সম্প্রদায়ের লোকজন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে দূবৃর্ত্ত দলের ছোড়া বুলেট উদ্ধার করে। এই ঘটনার পর এই গ্রামবাসীদের মধ্যে চরম ক্ষোভের পাশাপাশি আবারো এই ধরনের লুটপাটে হানা দেওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। ##