হ্নীলা পানখালী সড়কের করুণ দশা ; জনভোগান্তি চরমে

: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৩ years ago

সাদ্দাম হোসাইন : হ্নীলার জনগুরুত্বপূর্ণ ঐতিহ্যবাহী পানখালী সড়কের করুণ দশায় রিক্সা,টমটম চালকসহ যানবাহন চালকেরা চরম বেকায়দায় রয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে জনগুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের এই দশায় স্থানীয় জনসাধারণের মধ্যে ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে।

জানা যায়, চলতি বছরের গত জুলাই মাসের শেষ হতে আগস্ট মাসের শুরু পর্যন্ত কয়েকদিনের টানা ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে সৃষ্ট ঢলে হ্নীলা ইউনিয়হ্নীলা নের অন্যান্য গ্রামীণ সড়কের পাশাপাশি পানখালী সড়কটি লন্ডভন্ড হয়ে যায়। এ সড়কের বৃহৎ একটি অংশ তীব্র পানির স্রোতে ভেসে যাওয়ায় কয়েক হাজার মানুষের চলাচলে ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়েছে। সেই থেকে অদ্যবধি এ সড়ক মেরামতের কোন উদ্যোগ দেখা না যাওয়ায় এলাকাবাসীর মাঝে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
এই ব্যাপারে পশ্চিম পানখালীর মৌ: আলী আহমদ জানান, টানা বর্ষণে সড়কটি ভেঙ্গে যাওয়ায় অত্র এলাকার জনগনের দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। জনদূর্ভোগের কথা মাথায় রেখে দ্রুত সময়ের মধ্যে জরুরী বাজেটের মাধ্যমে সড়কটি মেরামত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি সুদৃষ্টি কামনা করছি।
পূর্ব পানখালীর বাসিন্দা রাসেল ছিদ্দিকী জানান, হ্নীলার মধ্যে পানখালী সড়কটি একটি জনগুরুত্ব সড়ক। কয়েকদিনের টানা বৃষ্টির কারণের এই সকড়টি ভেঙ্গে যায়। এই সড়কটি ভেঙ্গে যাওয়ার পর সাবেক মরহুম চেয়ারম্যান এইচ কে আনোয়ারের ছেলে জাহেদ হোছেন সম্রাট ভাঙ্গা স্থানটিতে ২দফা মাটি দিয়েছিল। সড়কের পাশে গাইড ওয়াল না থাকায় বৃষ্টিতে মাটিগুলো পানির স্রোতে ভেসে যায়। কয়েকদিন আগে বর্তমান চেয়ারম্যান নএশদ মাহমুদ আলী পরিদর্শনে এসে খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে গাইড ওয়াল দিয়ে রাস্তাটি মেরামতের আশ্বাস দিলেও এখনো কোন কাজ হয়নি।
এ ব্যাপারে হ্নীলা ইউপি চেয়ারম্যান রাশেদ মাহমুদ আলী জানান, এ সড়কটির ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে অবগত করা হয়েছে। এখন পরিষদের কোন বাজেট না থাকায় সড়কটিতে কাজ করা যাচ্ছে না। তবে তিনি পরিষদের বাজেট আসলে প্রথমে এ সড়কটি মেরামত করা হবে বলে জানান।
উল্লেখ্য, বিভিন্ন দিক বিবেচনায় টেকনাফ উপজেলায় হ্নীলার মধ্যে পানখালী সড়ক শীর্ষে। আর এই সড়কের বেহাল দৈন্যদশা। ঐতিহ্যবাহী প্রাচীনতম দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্টান জামিয়া দারুস সুন্নাহ, টেকনাফের সর্বপ্রথম উপজেলা চেয়ারম্যান সাবেক এমপি একাধিকবার নির্বাচিত চেয়ারম্যান মরহুম আলহাজ্ব আবদুল গফুর চৌধুরী, তাঁর পুত্র সাবেক চেয়ারম্যান জালাল উদ্দিন চৌধুরী, সাবেক সচিব এইচকে দেলোয়ার, সাবেক চেয়ারম্যান এইচকে আনোয়ার সিআইপিসহ উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সেরা ব্যক্তিদের বাড়ি হ্নীলা পানখালী। তাছাড়া হ্নীলা সরকারী হাসপাতাল, বন বিভাগের কার্যালয়, পানখালী সরকারী প্রাইমারী স্কুল, হ্নীলা-বাহারছড়া যাতায়তের সড়কও এটি। এত গুরুত্বপূর্ণ সড়ক হওয়ার পরও প্রায় একমাস পার হলেও মেরামতের কোন উদ্যোগ দেখা না যাওয়ায় স্থানীয় জনগণের মাঝে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা জনগণের দূর্ভোগের কথা চিন্তা করে সড়কটি দ্রুত মেরামতের জন্য স্থানীয় এমপি, উপজেলা প্রশাসন, উপজেলা চেয়ারম্যান ও স্থানীয় চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।